© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

মেসিকে ঘিরে শক্তিশালী আর্জেন্টিনা, তবুও দুশ্চিন্তা তাড়া করছে স্কালোনিকে

শেয়ার করুন:
মেসিকে ঘিরে শক্তিশালী আর্জেন্টিনা, তবুও দুশ্চিন্তা তাড়া করছে স্কালোনিকে

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০৩:৩০ পিএম | ৩০ মে, ২০২৬
২০২২ এর কাতার বিশ্বকাপে শিরোপা জেতানো দলটিকেই কেন্দ্রে রেখে আসন্ন বিশ্বকাপে শিরোপা রক্ষার চ্যালেঞ্জে নামছে আর্জেন্টিনা। লিওনেল মেসির উপস্থিতি এবং অভিজ্ঞতা আলবিসেলেস্তেদের বিশ্বকাপের অন্যতম ফেবারিটের তকমা এনে দিলেও মাঠের একটি নির্দিষ্ট পজিশন নিয়ে এখনো প্রশ্ন রয়ে গেছে। সেটিও এমন সময়ে, যখন দলের সবচেয়ে বেশি স্থিতিশীল থাকা দরকার।

বিশ্বকাপের জন্য আর্জেন্টিনার দল ইতোমধ্যেই চূড়ান্ত। কোচ লিওনেল স্কালোনির পরিকল্পনাও স্পষ্ট, কাতার বিশ্বকাপে শিরোপা জয়ের যে ফর্মুলা কাজ করেছিল, সেটিকেই ধরে রাখা, তবে তার সঙ্গে নতুন প্রজন্মের প্রতিভাবান ফুটবলারদের মিশ্রণ ঘটিয়েছেন তিনি। লিওনেল মেসি বিশ্বকাপে আরও একবার অধিনায়কের বাহুবন্ধনী পরবেন, যা সম্ভবত তার শেষ বিশ্বকাপ। তাকে ঘিরে থাকবেন হুলিয়ান আলভারেজ, এনজো ফার্নান্দেজ ও আলেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টারের মতো তারকারা। তবে দল যে একদম নিখুঁতভাবে গোছানো, সেটিও বলার উপায় নেই।



মিডফিল্ড ও আক্রমণভাগ যতটা সংগঠিত ও নির্ভরযোগ্য দেখাচ্ছে, দলের রক্ষণভাগ এখনো আর্জেন্টাইন শিবিরে উদ্বেগের কারণ হয়ে আছে।

বিশ্বকাপের আগে আর্জেন্টিনার সবচেয়ে দুর্বল জায়গা হিসেবে দেখা হচ্ছে ফুল-ব্যাক পজিশনকে, বিশেষ করে ডিফেন্সের দুই প্রান্তকে। ডান দিকে নাহুয়েল মোলিনা এবং বাঁ দিকে নিকোলাস তাগলিয়াফিকো এখনো প্রথম পছন্দ। কিন্তু তাদের বিকল্পরা একই মাত্রার আস্থা অর্জন করতে পারেননি।
এখানেই উঠে আসে অস্বস্তিকর প্রশ্ন: বিশ্বকাপ চলাকালে যদি কেউ চোট পায়, ফর্মে ধস নামে কিংবা কৌশলগত পরিবর্তনের প্রয়োজন হয়, তাহলে কী হবে?

বিকল্প আছে বটে, কিন্তু তাদের কেউই নিয়মিত একাদশের খেলোয়াড়দের মতো স্থিতিশীল নন। গনসালো মনতিয়েল, ফাকুন্দো মেদিনা কিংবা লিসান্দ্রো মার্তিনেজকে প্রয়োজনে ওই পজিশনগুলোতে খেলানো হয়েছে, তবে সবাই যে স্বাভাবিকভাবে ফুল-ব্যাক হিসেবে স্বচ্ছন্দ, তা নয়। ফলে বড় মঞ্চে তাদের ওপর নির্ভর করতে হলে সেটি আর্জেন্টিনার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে।

সাম্প্রতিক সাফল্যের ভিত্তি হিসেবে আর্জেন্টিনা কোনো একক খেলোয়াড়ের ওপর নির্ভরশীল না থেকে সবসময় দলগত শক্তিকেই গুরুত্ব দিয়েছে। কিন্তু স্কালোনির দল এটাও দেখিয়েছে যে, ফুল-ব্যাকদের ধারাবাহিকতা নষ্ট হলে দলের আক্রমণের প্রস্থ, বল বিল্ড-আপ এবং রক্ষণাত্মক ভারসাম্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

একটি ছোট দুর্বলতা কি সত্যিই বিশ্বকাপের ভাগ্য বদলে দিতে পারে? এমন টুর্নামেন্টে উত্তরটা অনেক সময় যতটা সহজ মনে হয়, বাস্তবে তার চেয়ে অনেক বেশি কঠিন। কারণ এখানে ভুলের সুযোগ খুবই সীমিত।

এই পুরো আলোচনার মাঝেও মেসিই আর্জেন্টিনার আবেগ ও ফুটবলীয় শক্তির কেন্দ্রবিন্দু। তবে তার উপস্থিতি একই সঙ্গে একটি বিষয়ও মনে করিয়ে দেয়, সময় দ্রুত ফুরিয়ে আসছে। তাই প্রতিটি কৌশলগত পরিবর্তন, প্রতিটি কাঠামোগত দুর্বলতা আরও বেশি গুরুত্ব বহন করে, যখন দলের একমাত্র লক্ষ্য হলো আবারও বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার লড়াইয়ে নামা।

আর্জেন্টিনা অনিশ্চয়তা নিয়ে বিশ্বকাপে যাচ্ছে না। তারা যাচ্ছে প্রমাণিত, চ্যাম্পিয়নসুলভ একটি দল নিয়ে। কিন্তু সবচেয়ে শক্তিশালী দলগুলোরও কিছু ছোট ফাটল থাকে, যা বিশ্বকাপের মতো মঞ্চে কখনো কখনো বিশাল সমস্যায় রূপ নিতে পারে।

আর সেটিই এখন আলবিসেলেস্তেদের সামনে বড় প্রশ্ন, এই দুর্বলতা কি নিয়ন্ত্রণে থাকা একটি ছোট সমস্যা হিসেবেই থাকবে, নাকি সেটিই ২০২৬ বিশ্বকাপে মেসির শেষ অধ্যায়ের গল্প বদলে দেবে?

আরআই/টিএ

মন্তব্য করুন