‘মাটি কামড়ে লড়াই করেছি’-নেপালকে হারিয়ে সমালোচনার কড়া জবাব বাটলারের
ছবি: সংগৃহীত
০৪:৫১ এএম | ০৪ জুন, ২০২৬
সেমিফাইনালে নেপালের বিপক্ষে জয়টা মোটেও সহজ ছিল না। তীব্র গরম, আর্দ্র আবহাওয়া, টানা দুই দিন অনুশীলনের সুযোগ না পাওয়া এবং সতীর্থ শিউলি আজিমের মায়ের মৃত্যুর শোক সব মিলিয়ে কঠিন এক পরীক্ষার মুখোমুখি হয়েছিল বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল।
তবে সব প্রতিকূলতা পেছনে ফেলে ২-১ গোলের রোমাঞ্চকর জয়ে সাফ নারী চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা।
ম্যাচ শেষে দলের প্রধান কোচ পিটার বাটলার এই জয় উৎসর্গ করেছেন সদ্য মাতৃহারা ডিফেন্ডার শিউলি আজিম ও তার পরিবারকে।
সংবাদ সম্মেলনে দলের লড়াই, আবেগ এবং কৌশলগত সাফল্য নিয়ে খোলামেলা কথা বলেন ইংলিশ এই কোচ। সংবাদ সম্মেলনের শুরুতেই শিউলি আজিমের মায়ের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেন বাটলার। আবেগঘন কণ্ঠে তিনি বলেন, ‘কিছু বিষয় ছিল খুবই দুঃখজনক, যেমন আমরা শিউলির মাকে হারিয়েছি। আমি তার পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি। যদি কোনো সান্ত্বনা থেকে থাকে, তবে আমরা এই জয়টি আজিম পরিবারকে উৎসর্গ করছি।’
দলের পারফরম্যান্স মূল্যায়ন করতে গিয়ে নান্দনিক ফুটবলের চেয়ে খেলোয়াড়দের মানসিক দৃঢ়তার প্রশংসাই বেশি করেন তিনি। প্রতিকূল পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে বাটলার বলেন, ‘আমাদের মাটি কামড়ে পড়ে থাকতে হয়েছে এবং লড়াই করতে হয়েছে। আমার মনে হয় মেয়েরা অসাধারণ দৃঢ়তা ও চরিত্র দেখিয়েছে।’
ম্যাচে নেপাল বেশ কয়েকটি সুযোগ নষ্ট করেছে। এ কারণে বাংলাদেশকে কিছুটা ‘ভাগ্যবান’ বলেছিলেন নেপালের কোচ। তবে সেই মন্তব্যের জবাবে স্পষ্টতই বিরক্ত ছিলেন বাটলার।

তিনি বলেন, ‘আমি এটা একদম পছন্দ করি না। মানুষ যখন এমন বোকা বোকা প্রশ্ন করে যে এটা কি একটা ভাগ্যবান জয়... শুনুন, আপনি যত বেশি কঠোর পরিশ্রম করবেন, ভাগ্য আপনার তত বেশি সহায় হবে। আপনি এটা মনে রাখতে পারেন এবং আপনার এপিটাফে (কবরের ফলকে) এটি লিখে রাখতে পারেন।’
বাংলাদেশ যে নেপালের তুলনায় অনেক তরুণ একটি দল, সেটিও মনে করিয়ে দেন তিনি। বাটলার জানান, ভবিষ্যতের কথা মাথায় রেখে তিনি ১৮ বছর বয়সী তরুণীদের নিয়ে দল গড়ে তুলেছেন। তাই এই জয়কে শুধুই ভাগ্যের ফল হিসেবে দেখার সুযোগ নেই বলে মনে করেন তিনি।
ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়ার পেছনে সঠিক সময়ে বদলি খেলোয়াড় নামানোর সিদ্ধান্তকে গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন বাটলার। চোটের কারণে মনিকাকে শুরু থেকে না খেলানোর সিদ্ধান্তও ছিল সেই পরিকল্পনার অংশ।
দলের মিডফিল্ডের প্রাণভোমরা এবং নতুন অধিনায়ক মারিয়া মান্দার ভূয়সী প্রশংসা করেন তিনি। মারিয়াকে ‘রাফ ডায়মন্ড’ আখ্যা দিয়ে বাটলার বলেন, ‘মারিয়া একজন যোদ্ধা, একজন লড়াকু খেলোয়াড়। আজ আমাদের ফল বের করে আনার জন্য যে লড়াই করতে হয়েছে, মারিয়া ছিল সেই লড়াইয়ের মূল চালিকাশক্তি।’
রক্ষণভাগে তরুণ আফিঈদা খন্দকারের পরিণত পারফরম্যান্সেরও প্রশংসা করেন তিনি। বাটলার জানান, হাই-লাইন কিংবা লো-ব্লকের মতো আধুনিক কৌশলগত তত্ত্বের চেয়ে তিনি এখনও ‘ওল্ড স্কুল’ ডিফেন্ডিংয়ে বেশি বিশ্বাসী, যেখানে খেলোয়াড়রা আঘাতের ঝুঁকি উপেক্ষা করে বল ক্লিয়ার করতে ঝাঁপিয়ে পড়ে।
টানা তৃতীয়বারের মতো সাফ নারী চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে উঠেছে বাংলাদেশ। এখন তাদের সামনে শিরোপা ধরে রাখার চ্যালেঞ্জ। ফাইনালে ভারত কিংবা ভুটান যেই প্রতিপক্ষ হোক না কেন, কাউকেই হালকাভাবে নিচ্ছেন না বাটলার। তিনি জানিয়েছেন, খেলোয়াড়দের পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়া এবং ভিডিও বিশ্লেষণের মাধ্যমে চূড়ান্ত প্রস্তুতি নেওয়া হবে।
ফাইনাল নিয়ে নিজের ফুটবল দর্শনের কথাও তুলে ধরেন বাংলাদেশ কোচ।
বাটলার বলেন, ‘কখনো কখনো আপনি কেমন খেললেন, সেটি বড় কথা নয়; বড় কথা হলো আপনি কীভাবে কাজটি সম্পন্ন করলেন। শেষ মুহূর্তে এসে খেই হারিয়ে না ফেলাটাই আসল। আপনাকে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ হতে হবে, ফলাফল বের করে আনার জন্য লড়াই করতে হবে।’
এমআই/টিএ