আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের চিফ প্রসিকিউটর বরখাস্ত
ছবি: সংগৃহীত
০১:৪৯ পিএম | ০৯ জুন, ২০২৬
আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) চিফ প্রসিকিউটর করিম খানকে বরখাস্ত করা হয়েছে। যৌন অসদাচরণের অভিযোগকে কেন্দ্র করে তদন্তের পর তাকে দায়িত্ব থেকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়। অবশ্য করিম খান আগেই দাবি করেছেন যে তদন্তে তার বিরুদ্ধে অসদাচরণ বা ক্ষমতার অপব্যবহারের কোনও প্রমাণ পাওয়া যায়নি এবং তিনি ইতোমধ্যে অভিযোগ থেকে মুক্তি পেয়েছেন।
সংবাদমাধ্যম টিআরটি ওয়ার্ল্ড বলছে, যৌন অসদাচরণের অভিযোগের তদন্তের পর আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) প্রধান কৌঁসুলি করিম খানকে তার দায়িত্ব থেকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। সোমবার (৮ জুন) আইসিসির পরিচালনাকারী সংস্থা রোম সংবিধির সদস্য রাষ্ট্রসমূহের পরিষদীয় ব্যুরো এ সিদ্ধান্তের ঘোষণা দেয়।
সংস্থাটি জানায়, জাতিসংঘের তদন্তের ফলাফলের ভিত্তিতে করিম খানের বিরুদ্ধে ১২৫টি সদস্য রাষ্ট্রের সামনে শৃঙ্খলামূলক কার্যক্রম শুরু করা হবে। তবে তদন্তের ফলাফল জনসমক্ষে প্রকাশ করা হচ্ছে না। এক বিবৃতিতে ব্যুরো জানায়, জাতিসংঘের অভ্যন্তরীণ তদারকি সেবা দপ্তর (ওআইওএস)-এর তদন্ত প্রতিবেদন, সংশ্লিষ্ট প্রমাণ, বিচারিক বিশেষজ্ঞদের একটি বিশেষ প্যানেলের পরামর্শ এবং লিখিত উপস্থাপনার ভিত্তিতে করা হয়েছে তারা এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ব্যুরোর সিদ্ধান্ত এবং সংশ্লিষ্ট নথিপত্র গোপন রাখা হবে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা, অধিকার এবং চলমান প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও অখণ্ডতা রক্ষার আহ্বান জানানো হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর পূর্ণাঙ্গ অধিবেশন যত দ্রুত সম্ভব আয়োজন করা হবে বলেও জানানো হয়েছে।
প্রসঙ্গত, জাতিসংঘের তদন্ত চলাকালে গত বছরের মে মাসে করিম খান ছুটিতে যান। এর আগে এপ্রিল মাসে তিনি দাবি করেছিলেন যে তিনি অভিযোগ থেকে ‘মুক্তি’ পেয়েছেন। জেটিও সংবাদমাধ্যমকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে করিম খান বলেন, তদন্তে তার বিরুদ্ধে কোনও ‘অসদাচরণ বা ক্ষমতার অপব্যবহার করার অভিযোগ’ প্রমাণিত হয়নি এবং তাকে কাজে ফিরতে দেয়া উচিত।
তিনি বলেন, ‘আমি জাতিসংঘের প্রতিবেদন পড়েছি। বিচারকদের সিদ্ধান্তও পড়েছি। জাতিসংঘের প্রতিবেদনে ১৩৭টি পর্যবেক্ষণ রয়েছে। এর একটিতেও এমন কোনও আচরণের কথা বলা হয়নি, যাকে কোনোভাবেই অনুপযুক্ত আচরণ হিসেবে বর্ণনা করা যায়।’
অন্যদিকে সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট আইয়ের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্চ মাসে তিন বিচারকের একটি প্যানেল সর্বসম্মতভাবে মত দেয় যে জাতিসংঘের তদন্তে করিম খানের বিরুদ্ধে অসদাচরণ বা দায়িত্বে অবহেলার কোনও প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের নভেম্বরে আইসিসির পরিচালনাকারী সংস্থার প্রধানের নির্দেশে এই তদন্ত শুরু হয়। করিম খানের দপ্তরের এক সদস্য তার বিরুদ্ধে যৌন অসদাচরণের অভিযোগ তোলার পর তদন্ত কমিশন গঠন করা হয়েছিল।
এর আগে ২০২৪ সালের মে মাসে করিম খান ঘোষণা দিয়েছিলেন যে গাজায় কথিত যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং তৎকালীন প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োয়াভ গ্যালান্টের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আবেদন করা হবে।
কেএন/এসএন