© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

বেটিং বিতর্কে মুখ খুললেন পিরলো

শেয়ার করুন:
বেটিং বিতর্কে মুখ খুললেন পিরলো

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০৪:১০ পিএম | ২৭ জুলাই, ২০২৬
ইতালির প্রধান কোচ হওয়ার একেবারে দ্বারপ্রান্তে ছিলেন আন্দ্রে পিরলো। হঠাৎ করে সেই সম্ভাবনার আকাশে ঝড়ো হাওয়া। ইতালির ‘শত্রু দেশ’ রাশিয়ার একটি বেটিং কোম্পানির সঙ্গে তার নাম জড়িত থাকার বিষয়টি খতিয়ে দেখতে নিয়োগ আটকে রেখেছে দেশটির ফুটবল ফেডারেশন। 

ইতালির কোচ হওয়ার প্রস্তাব কার্লো আনচেলত্তি ও পেপ গার্দিওলা ফিরিয়ে দিলে ২০০৬ বিশ্বকাপ জয়ীকে নিয়োগ দেওয়ার ব্যবস্থা নেয়। কিন্তু তিনি যে রাশিয়ান বেটিং কোম্পানি ফনবেটের গ্লোবাল অ্যাম্বাসেডর, সেটা প্রকাশ পেতেই কোচ নিয়োগে নতুন মোড় নেয়। বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক জোরালো হতেই মুখ খুললেন পিরলো।

নিজের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে একটি বিবৃতি দিয়ে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন সাবেক তারকা। তিনি লিখেছেন, ‘আমার নাম ও ইতালি দলের কোচ হওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে গত কয়েকদিন ধরে যে বিতর্ক চলেছে, সেটা আমি ভারাক্রান্ত হৃদয় নিয়ে দেখেছি।’

তিনি বলে গেলেন, ‘প্রতিষ্ঠানগুলো, ফেডারেশন ও সংশ্লিষ্ট সব মানুষের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে আমি এখন পর্যন্ত চুপ থেকেছি। যাই হোক, আমার এখন মনে হচ্ছে এসব ব্যাপারে স্পষ্ট করা সমীচীন।’

পিরলো বললেন, ‘আমার কর্মজীবনে, প্রথমে খেলোয়াড় হিসেবে এবং পরে কোচ হিসেবে, আমি যেসব দেশে কাজ করেছি সেখানকার আইন এবং স্বাক্ষরিত চুক্তিসমূহকে পূর্ণ সম্মান জানিয়েই সর্বদা আমার দায়িত্ব পালন করেছি।’

আত্মপক্ষ নিয়ে তিনি বললেন, ‘সাম্প্রতিক বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা পেশাগত সহযোগিতাটি সংযুক্ত আরব আমিরাতে আমার কর্ম অভিজ্ঞতার অংশ হিসেবে গড়ে উঠেছিল এবং এটি সম্পূর্ণরূপে বাণিজ্যিক ও ক্রীড়াবিষয়ক।’

আমিরাতি ক্লাবের বর্তমান কোচ বলে গেলেন, ‘এই সহযোগিতাকে রাজনৈতিক অর্থ দেওয়ার মানে হলো আমার ওপর এমন বিশ্বাস চাপিয়ে দেওয়া যা আমি করিনি এবং ধারণ করি না।’

টেকনিক্যার ডিরেক্টর মালদিনির প্রতি কৃতজ্ঞতা জানালেন পিরলো, ‘আমি মালদিনি ও লিওনার্দোকে আমার প্রতি সম্মান ও আস্থা রাখার জন্য ধন্যবাদ জানাতে চাই। আমি তাদের যোগ্যতা, আন্তরিকতা ও ইতালিয়ান ফুটবলের ভালোবাসা ও নিবেদন সম্পর্কে ভালোভাবে জানি।’

দুঃখ নিয়ে তিনি বললেন, ‘আমি দুঃখিত যে, খেলাধুলা সংক্রান্ত একটি সিদ্ধান্তকে দ্রুত এমন এক জনসমক্ষে বিতর্কের মধ্যে টেনে আনা হয়েছে। এ কারণে আমার উপর এমন সব অর্থ ও উদ্দেশ্য আরোপ করা হয়েছে যা একেবারেই সঙ্গত নয়।’

শেষ বাক্যে সম্ভবত ইতালির কোচ না হওয়ার ইঙ্গিতই যেন দিলেন পিরলো, ‘ইতালির জন্য ভালোবাসা চাকরির ওপর নির্ভর করে না। এটা আমার ইতিহাস ও পরিচয়ের অংশ, যা আমাকে সবসময় সঙ্গ দিয়ে যাবে।’

যদিও পিরলোর এই পোস্টে স্পষ্ট করে বলা যাবে না যে, তিনি ইতালির দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন না। তবে পরিস্থিতির কারণে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছে, তা সামলানো তার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। হয়তো ফেডারেশন এখন বিকল্প কাউকেই খুঁজবে। তবে নিজের পছন্দের কোচকে না আনতে পারার ব্যর্থতায় হয়তো টেকনিক্যাল ডিরেক্টর মালদিনি পদত্যাগ করবেন।’

টিকে/

মন্তব্য করুন