© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

কাজ শেষ, উদ্বোধন হয়নি- তার আগেই ধসে পড়ল সাভারের পৌনে তিন কোটি টাকার সড়ক

শেয়ার করুন:
কাজ শেষ, উদ্বোধন হয়নি- তার আগেই ধসে পড়ল সাভারের পৌনে তিন কোটি টাকার সড়ক

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০৯:৫২ পিএম | ০৩ আগস্ট, ২০২৬
সাভারের ধামসোনা ইউনিয়নের নলাম এলাকায় প্রায় ২ কোটি ৭২ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত একটি এইচবিবি সড়ক উদ্বোধনের আগেই বিভিন্ন স্থানে ধসে পড়েছে। কয়েক বছরের নির্মাণকাজ শেষে সম্প্রতি প্রকল্পটির কাজ শেষ হলেও অল্প সময়ের মধ্যেই রাস্তার একাধিক অংশে ফাটল, ধস ও ব্লক সরে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এতে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভের পাশাপাশি নির্মাণমান ও প্রকল্প বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

দুর্যোগ ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন প্রকল্প (ডিআরএমআইপি) এর আওতায় জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা (জাইকা) এর অর্থায়নে মুক্তেন্দু হাউস থেকে করিমের পাড়া ব্রিজ পর্যন্ত ১ হাজার ২৭৫ মিটার দীর্ঘ এবং ৩ মিটার প্রশস্ত এইচবিবি সড়ক নির্মাণ করা হয়। একই প্রকল্পে তিনটি ছোট কালভার্টও নির্মাণ করা হয়েছে। ২০২২ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি প্রকল্পটির কাজের উদ্বোধন করা হয়। দীর্ঘ প্রায় সাড়ে চার বছর পর চলতি বছরের জুন মাসে কাজ শেষ হলেও কয়েক দিনের ব্যবধানে সড়কের বিভিন্ন অংশে ধস দেখা দেয়।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, নির্মাণকাজে প্রয়োজনীয় মান বজায় রাখা হয়নি। রাস্তার পাশ সুরক্ষিত রাখতে শক্তিশালী গাইডওয়াল নির্মাণ করা হয়নি। এছাড়া পাশের নদী থেকে আনা মাটি ব্যবহার করায় ভারী বর্ষণে সেই মাটি ধুয়ে গিয়ে রাস্তার ভিত্তি দুর্বল হয়ে পড়ে। তাদের দাবি, কাজের গুণগত মান নিশ্চিত করা হলে এত দ্রুত সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কথা নয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, প্রকল্পের অধিকাংশ বিল ইতোমধ্যে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান উত্তোলন করেছে। তবে শেষ কিস্তির অর্থ ছাড়ের আবেদন করা হলেও সড়কের বর্তমান অবস্থা বিবেচনায় সেই বিল স্থগিত রেখেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স সালেহা এন্টারপ্রাইজের প্রতিনিধি সিরাজুল ইসলাম সুমন বলেন, অতিরিক্ত বৃষ্টি ও প্রাকৃতিক কারণে রাস্তার পাশের মাটি ধসে গেছে। ব্যবহৃত মাটি নদী এলাকা থেকে সংগ্রহ করা হয়েছিল। ক্ষতিগ্রস্ত অংশ দ্রুত সংস্কার করে যথাযথভাবে প্রকল্প বুঝিয়ে দেওয়া হবে।

সাভার উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. ফাইজুল ইসলাম বলেন, প্রকল্পের কিছু কাজ মানসম্মত হয়নি। তাই চূড়ান্ত বিল আটকে রাখা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত অংশ এবং কালভার্টের পিলার সংস্কারের জন্য নতুন করে কাজ করতে হবে। সংস্কার সম্পন্ন হওয়ার পরই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, প্রকল্পটি এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণ করা হয়নি। ঠিকাদারকে সব ত্রুটি দূর করে নতুন নকশা অনুযায়ী ভাঙা অংশ সংস্কার করতে হবে। কাজ সন্তোষজনকভাবে শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোনো বকেয়া বিল পরিশোধ করা হবে না।

স্থানীয়দের দাবি, কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়িত উন্নয়ন প্রকল্পের এমন পরিণতি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তারা নির্মাণকাজের গুণগত মান তদন্ত, দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনা এবং দীর্ঘস্থায়ী সমাধানের মাধ্যমে সড়কটি পুনর্নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন।

টিএ/

মন্তব্য করুন