নতুন কমিটিকে সাদরে গ্রহণের আহ্বান, বিদায়ের ইঙ্গিত ছাত্রদল সভাপতি রাকিবের
ছবি: সংগৃহীত
০২:৫০ এএম | ১৪ আগস্ট, ২০২৬
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব দায়িত্ব ছাড়ার ইঙ্গিত দিয়ে বলেছেন, তার জীবনের শ্রেষ্ঠ অধ্যায়ের পরিসমাপ্তি ঘটতে চলেছে। দীর্ঘ সময় ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে দায়িত্ব পালনের সুযোগ দেয়ায় বিএনপির শীর্ষ নেতাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে আসন্ন নতুন কমিটিকে সবাইকে সাদরে গ্রহণ করার আহ্বান জানিয়েছেন। বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) দিবাগত রাতে ফেসবুকে দেয়া এক স্ট্যাটাসে রাকিবুল ইসলাম রাকিব এসব কথা বলেন।
স্ট্যাটাসে তিনি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, প্রয়াত বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া, বিএনপির সদ্য বিদায়ী মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক রকিবুল ইসলাম বকুলসহ দলের শীর্ষ নেতাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। পাশাপাশি ছাত্রদলের সাবেক শীর্ষ নেতাদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি।
কেন্দ্রীয় সংসদের নেতৃত্বে সহযোগিতার জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল কলেজ ও কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের নেতাদের ধন্যবাদ জানান ছাত্রদল সভাপতি। ঢাকার পাঁচ কলেজ ও চার মহানগরের নেতাদেরও বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানিয়ে রাকিব বলেন, তাদের শ্রম-ঘামের কারণেই রাজপথের কর্মসূচিগুলো সফল হয়েছে এবং তারা নানা ষড়যন্ত্র দক্ষতার সঙ্গে মোকাবিলা করেছেন।
নিজের নেতৃত্বাধীন নেতাকর্মীদের প্রশংসা করে তিনি বলেন, কেন্দ্রীয় সংসদ, বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজ পর্যায়ের নেতাদের নিয়ে তিনি আমৃত্যু গর্বিত। তার দাবি, দায়িত্ব পালনকালে এসব নেতার নামে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত খবরের শিরোনাম হয়নি। আর্থিক টানাপোড়েনের মধ্যেও তারা সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে নিজ নিজ ইউনিটের নেতৃত্ব দিয়েছেন এবং অধীনস্থ নেতাকর্মীদেরও নীতি, আদর্শ ও সততার পথে চলতে উৎসাহিত করেছেন।
সাধারণ শিক্ষার্থীদের প্রসঙ্গ তুলে রাকিব বলেন, তিনি বিভিন্ন ক্যাম্পাসে ইতিবাচক ছাত্ররাজনীতি বিকাশে ব্যক্তিগতভাবে চেষ্টা করেছেন। ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের কারণে কোনো সাধারণ শিক্ষার্থী যেন অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির মুখোমুখি না হন, সে বিষয়ে তিনি বিশেষভাবে মনোযোগী ছিলেন। এমনকি নিজ দলের বাইরের সাধারণ শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে তার কাছে এলে নিজের অবস্থান থেকে তা সমাধানের চেষ্টা করেছেন বলেও জানান তিনি। ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে ভ্রাতৃপ্রতিম ছাত্রসংগঠনগুলোর নেতাদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানান ছাত্রদল সভাপতি।
রাকিব-নাসির কমিটির সাফল্যের কথা উল্লেখ করে রাকিব বলেন, ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সঙ্গে সমন্বয় করে কর্মসূচি প্রণয়ন এবং রাজপথে কার্যকর ও বীরোচিত ভূমিকা পালন করাই ছিল কমিটির অন্যতম প্রধান সফলতা।’ তার ভাষ্য, ‘৫ আগস্ট ২০২৪-এর পরবর্তী বাস্তবতায় বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শত শত ‘‘মব’’ মোকাবিলা করতে হয়েছে। একই সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ধারাবাহিক বুলিং উপেক্ষা করেও নেতৃত্ব দিতে হয়েছে।’
স্ট্যাটাসের শেষাংশে নতুন জীবন শুরুর প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন রাকিব। নিজেকে আরও পরিশুদ্ধ, মানবিক ও সৎ মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার ইচ্ছার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, দীর্ঘ সময় দায়িত্ব পালনের সময়ে তারও ভুল-ত্রুটি থাকতে পারে। কারও মনে কষ্ট দিয়ে থাকলে তা ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখার অনুরোধ জানান তিনি।
একেএস/টিএ