সংস্কার বাস্তবায়ন না হলে সরকারকে ক্ষমতায় থাকতে দেব না : নাহিদ ইসলাম
ছবি: সংগৃহীত
০৮:১৭ পিএম | ১৪ আগস্ট, ২০২৬
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, আমরা দেশের পরিবর্তনের জন্য, সংস্কারের জন্য গণঅভ্যুত্থানে অংশ নিয়েছিলাম, আমরা নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলাম। আমরা আপনাদের বলেছিলাম, গণভোটে হ্যাঁ ভোট দিন। হ্যাঁ ভোট দিলে দেশের সংস্কার হবে। পুলিশের সংস্কার হবে। বিচার ব্যবস্থার সংস্কার হবে। স্থানীয় সরকারের সংস্কার হবে। মিডিয়ার সংস্কার হবে। সেই প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী এই সরকার যদি গণভোটের গণনায় বাস্তবায়ন না করে, আমরা এই সরকারকে ক্ষমতায় থাকতে দেব না।
শুক্রবার (১৪ আগস্ট) বিকেলে রাজধানীর যাত্রাবাড়িতে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, তেল, গ্যাস, বিদ্যুৎসহ নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর চরম অবনতি, চাঁদাবাজির দখলদার ও বিরোধী দলের ওপর দমন পীড়ন বন্ধের দাবিতে গণ সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, এই সরকার যদি গ্যাস সরবরাহ করতে না পারে, গ্যাসের দাম যদি কমাতে না পারে, বিদ্যুৎ যদি সরবরাহ করতে না পারে, কলকারখানা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে, শিল্পকারখানা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। ব্যবসা-বাণিজ্য বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। চাঁদাবাজির কারণে কেউ ব্যবসা করতে পারছে না। এই সব পরিস্থিতি যদি পরিবর্তন করতে না পারে, আমরা সরকারকে ক্ষমতায় থাকতে দেব না।
তোমাদের ভোট দিয়ে ক্ষমতায় বসানো হয়েছে, লুটপাট করার জন্য নয়। জনগণের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ যেন নিশ্চিত করতে পারো, সে জন্যই ক্ষমতায় বসানো হয়েছে। আপনারা ক্ষমতায় বসে থাকবেন আর আপনাদের সন্তানরা লুটপাট করবে, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে টেন্ডারবাজি করবে—এজন্য কেউ আপনাদের ক্ষমতায় টিকিয়ে রাখবে না।
নাহিদ ইসলাম বলেন, নগরবাসী এখনো ধৈর্যের পরীক্ষা দিচ্ছে। যাত্রাবাড়ীতে বিদ্যুৎ থাকে না, গ্যাস থাকে না। অথচ আমরা জানি, যাত্রাবাড়ী গণ-অভ্যুত্থানের অন্যতম ‘হটস্পট’ ছিল। আজকে মঞ্চে আমাদের শহীদ পরিবারের সদস্যরা বসে রয়েছেন। এখানে জুলাই অভ্যুত্থানের যোদ্ধারা, যারা পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন কিংবা চোখ হারিয়েছেন, তারা বসে আছেন। মাদরাসার ছাত্র ও অন্যান্য ভাইয়েরা এসেছেন। আপনারা অভ্যুত্থানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন। আপনাদের ভূমিকার কারণেই এই অভ্যুত্থান সংঘটিত ও সফল হয়েছে। কিন্তু সেই অপরাধের বিচার আমরা এখনো পাইনি। অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে যেটুকু কাজ হয়েছিল, বিচার ততটুকুই থেমে আছে; এরপর এই সরকার দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি করতে পারেনি।
গণসমাবেশে জাতীয় নাগরিক পার্টির কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
এমআর/টিএ