আমি যেহেতু শিক্ষক, ওদের না হয় ক্ষমাই করে দিই: মোনামী
ছবি: সংগৃহীত
১১:২৩ এএম | ১৮ আগস্ট, ২০২৬
নিজের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার একটি ছবি ফেসবুকে শেয়ার করাকে কেন্দ্র করে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লোক প্রশাসন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক শেহরীন আমিন ভূঁইয়া মোনামী। তার অভিযোগ, ব্যক্তিগত ওই ছবি শেয়ার করে অশালীন ও ঔদ্ধত্যপূর্ণ পোস্ট দেওয়া হয়েছে।
সোমবার (১৭ আগস্ট) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
মোনামীর ওই ব্যক্তিগত ছবিটি ‘Nk Kawsar Ahmed’ নামের একটি ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে শেয়ার করা হয়েছে। ছবিটি শেয়ার করে ওই ব্যক্তি লেখেন, ‘কোন হাওড়ে গেলে ভালো হবে টাঙ্গুয়ার নাকি কিশোরগঞ্জ?’ এরপর ইংরেজিতে ‘pic for attention!’ লিখেছেন।
মোনামী তার ফেসবুক পোস্টে জানান, তিনি তার ব্যক্তিগত প্রোফাইল থেকে একান্তই ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার একটি ছবি ও পোস্ট দিয়েছিলেন। এর সঙ্গে রাজনীতি বা জাতীয় কোনো ইস্যুর কোনো সম্পর্ক নেই।
তার অভিযোগ, সেই ছবি শেয়ার করে অশালীন ও ঔদ্ধত্যপূর্ণ পোস্ট দেওয়া হয়েছে। এ প্রসঙ্গে তিনি লেখেন, ‘কিন্তু আমার ছবি শেয়ার করে এরকম অশালীন ও ঔদ্ধত্যপূর্ণ পোস্ট দেওয়া একমাত্র ছাত্রদলের দ্বারাই সম্ভব। আমি মোটেও অবাক হইনি!’
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদলকে অন্যদের চেয়ে ভালো ভাবার কোনো কারণ দেখেন না জানিয়ে মোনামী বলেন, ‘যারা সুশীল, তাদের সুশীলতা কেবল লীগ (মায়াকান্না) আর দলের (বিশিষ্ট) শিক্ষকদের জন্যই। আর কোনো শিক্ষক তাদের আওতায় পড়েন না। আর যদি জামায়াত ট্যাগ থাকে, তাহলে তো হলোই।’
এরপর নিজের প্রসঙ্গ টেনে তিনি লেখেন, ‘যেমন আমি।’
ডাকসু নির্বাচনের পর থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদল ও বামদের বিভিন্ন কর্মকাণ্ড তিনি চুপ করে দেখে যাচ্ছেন বলেও জানান মোনামী। তিনি বলেন, ‘নিজেকে সান্ত্বনা দিই, আমি যেহেতু শিক্ষক, আমি ওদের নাহয় ক্ষমাই করে দিই। কিন্তু মানুষ হিসেবে কষ্ট পাওয়াটা স্বাভাবিক।’
এ ধরনের কর্মকাণ্ডে সংশ্লিষ্টদের কী লাভ হয়, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন মোনামী। তিনি লেখেন, ‘আমি কেবল ভাবি, এতে ওদের কী লাভ হয়? দলের কাছে বাহবা পাওয়া নাকি নিজেকে খুব আধুনিক ও আকর্ষণীয় জাহির করা?’
এ ধরনের আচরণ দিয়ে জীবনে খুব বেশি দূর যাওয়া যায় না বলেও মন্তব্য করেন তিনি। মোনামীর ভাষায়, ‘এসব উদ্ধত আচরণ দিয়ে জীবনে কখনোই খুব বেশি দূর যাওয়া যায় না।’
পোস্টের শেষাংশে মোনামী লেখেন, ‘যাকগে, পারিবারিক শিক্ষা না থাকলে আর রাজনীতিকে একমাত্র পেশা বানাতে চাইলে হয়তো এসব করতে হয়।’
কেএন/এসএন