মক্কা প্রতিরক্ষা জোটে যুক্ত হলে বাংলাদেশের কী লাভ, জানালেন তুরস্কের অধ্যাপক
ছবি: সংগৃহীত
১০:৫৪ পিএম | ২৮ আগস্ট, ২০২৬
এক চুক্তিতে তিন দেশ যাকে অনেকে বলছেন ‘মুসলিম ন্যাটো’। সৌদি আরবের মক্কায় সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের শীর্ষ নেতাদের মধ্যে হওয়া কথিত মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা তৈরি করেছে। বিশেষ করে এর সম্ভাব্য সামরিক, অর্থনৈতিক ও ভূরাজনৈতিক প্রভাব নিয়ে চলছে নানা বিশ্লেষণ।
আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনীতি বিশ্লেষক এবং তুরস্কের হাসান কালিয়ানকু বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মুরাত আসলাম বলেন, এই জোটকে আক্রমণাত্মক সামরিক জোট হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। তার মতে, এর মূল লক্ষ্য সদস্য রাষ্ট্রগুলোর পারস্পরিক সংঘাত এড়িয়ে চলা এবং সম্মিলিতভাবে প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বৃদ্ধি করা।
তিনি বলেন, জোটটির কোনো নির্দিষ্ট শত্রু নেই। সামরিক সহযোগিতার পাশাপাশি বাণিজ্য, প্রযুক্তি ও ভূরাজনৈতিক অংশীদারিত্বও এর গুরুত্বপূর্ণ দিক হতে পারে। ভবিষ্যতে আরও দেশ এতে যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।
প্রাথমিকভাবে তিন দেশকে নিয়ে আলোচনা হলেও সম্ভাব্য সদস্য হিসেবে বাংলাদেশের নামও উঠে এসেছে। বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বিষয়টি নিয়ে ঢাকা ইতিবাচক অবস্থানে রয়েছে। তবে জোটে যোগ দেওয়ার বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।
এদিকে সংসদে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান বলেছেন, জোটে বাংলাদেশের যোগদান অনেকটাই বর্তমান সদস্য রাষ্ট্রগুলোর আগ্রহ ও আমন্ত্রণের ওপর নির্ভর করবে। আমন্ত্রণ এলে বাংলাদেশ বিষয়টি ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করবে।
নিরাপত্তা বিশ্লেষক হাসিব আজিজের মতে, এই জোটে যুক্ত হলে বাংলাদেশের জন্য যৌথ সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধির নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে তুরস্ক ও পাকিস্তানের সঙ্গে প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক সহযোগিতা এবং গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়ের ক্ষেত্র সম্প্রসারিত হতে পারে।
বাংলাদেশ ইতোমধ্যে তুরস্কের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বাড়াচ্ছে। বায়রাক্তার ড্রোন ও অটোকার কোবরা ধরনের সামরিক যানসহ বিভিন্ন প্রতিরক্ষা প্রযুক্তিতে সহযোগিতার সুযোগ রয়েছে। সম্ভাব্য জোটের মাধ্যমে এই অংশীদারিত্ব আরও বিস্তৃত হতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
তবে অধ্যাপক মুরাত আসলাম মনে করেন, একে নতুন কোনো ন্যাটো বলা ঠিক হবে না। কারণ, ন্যাটোর মতো এই জোটের কোনো একক কমান্ড কাঠামো বা সমন্বিত স্থায়ী সেনাবাহিনীর ধারণা এখনো নেই।
অন্যদিকে, বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হতে পারে দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনীতি। জোটে পাকিস্তানের উপস্থিতির কারণে ভারত বিষয়টিকে কীভাবে দেখবে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। ভবিষ্যতে ভারত-পাকিস্তান সংঘাত দেখা দিলে বাংলাদেশের ওপর কোনো সামরিক বা রাজনৈতিক চাপ তৈরি হবে কি না, তা নিয়েও রয়েছে প্রশ্ন।
বিশ্লেষকদের মতে, তাই মক্কা প্রতিরক্ষা জোটে যোগ দেওয়ার আগে বাংলাদেশের সম্ভাব্য সামরিক ও প্রযুক্তিগত সুবিধার পাশাপাশি আঞ্চলিক কূটনীতি, ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক এবং কোনো সংঘাতে জড়িয়ে পড়ার ঝুঁকিও সতর্কতার সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে।
সব মিলিয়ে, জোটটি বাংলাদেশের জন্য প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি, গোয়েন্দা সহযোগিতা ও ভূরাজনৈতিক অংশীদারিত্বের নতুন সুযোগ তৈরি করতে পারে। তবে এর সঙ্গে দক্ষিণ এশিয়ার জটিল শক্তির ভারসাম্যও বিবেচনায় রাখতে হবে।
আরআই/টিএ