© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

অ্যাকশন নয়, আবেগের গল্পেই ১০০ কোটির পথে ইমতিয়াজ আলীর সিনেমা

শেয়ার করুন:
অ্যাকশন নয়, আবেগের গল্পেই ১০০ কোটির পথে ইমতিয়াজ আলীর সিনেমা

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০৪:৫২ পিএম | ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
বলিউডে বড় বাজেটের অ্যাকশন আর তারকাখচিত সিনেমার দাপটের মধ্যেও ধীরগতির গল্প বলেও যে দর্শকের মন জয় করা সম্ভব, তারই উদাহরণ হয়ে উঠেছে ইমতিয়াজ আলীর ‘ম্যায় ওয়াপাস আউঙ্গা’। মুক্তির প্রথম তিন দিনে যেখানে সিনেমাটির আয় ছিল ৫ কোটি রুপির কিছু বেশি, সেখানে আট সপ্তাহের প্রেক্ষাগৃহ প্রদর্শন শেষে বিশ্বজুড়ে প্রায় ১০০ কোটি রুপি আয়ের পথে রয়েছে ছবিটি।

১২ জুন মুক্তি পাওয়া সিনেমাটি বড় কোনো ফ্র্যাঞ্চাইজি, বিশাল প্রচারণা কিংবা চোখধাঁধানো অ্যাকশন দৃশ্যের ওপর নির্ভর করেনি। বরং ৯৫ বছর বয়সী এক বৃদ্ধের স্মৃতি, দেশভাগের ক্ষত, হারিয়ে যাওয়া ভালোবাসা এবং নিজের শিকড়ে ফিরে যাওয়ার আকাঙ্ক্ষার গল্প ধীরে ধীরে দর্শকের কাছে পৌঁছে গেছে। ভারতের বাইরেও সিনেমাটি ২০ কোটির বেশি রুপি আয় করেছে।

‘ম্যায় ওয়াপাস আউঙ্গা’র গল্প আবর্তিত হয়েছে ৯৫ বছর বয়সী এক বৃদ্ধকে ঘিরে। বয়সের সঙ্গে তার স্মৃতি ক্রমশ ঝাপসা হয়ে যাচ্ছে। কিন্তু জীবনের একটি পুরোনো অধ্যায় তাকে বারবার টেনে নিয়ে যায় ফেলে আসা পাঞ্জাবের দিকে। দেশভাগের কারণে যে ভূমি আজ সীমান্তের ওপারে, সেখানেই রয়েছে তার কৈশোরের ভালোবাসার স্মৃতি।

সেই মানুষটি এখনো বেঁচে আছেন কি না, তা জানেন না বৃদ্ধ। তবু স্মৃতি পুরোপুরি হারিয়ে যাওয়ার আগে একবার সেখানে ফিরে যেতে চান তিনি। তার এই ইচ্ছাকে কেন্দ্র করেই শুরু হয় এক আবেগঘন যাত্রা।



তবে এটি শুধু হারিয়ে যাওয়া ভালোবাসার গল্প নয়। দেশভাগের সময় সাধারণ মানুষের জীবনে নেমে আসা বিভাজন, অনিশ্চয়তা ও মানসিক ক্ষতও তুলে ধরা হয়েছে সিনেমায়। দুই দেশে ভাগ হয়ে গেলেও মানুষের আন্তরিকতা, মমতা ও ভালোবাসা যে সীমান্তের কাঁটাতারে থেমে থাকে না, গল্পের আবেগে সেই বার্তাও উঠে এসেছে।

বৃদ্ধের এই যাত্রায় সঙ্গী হয় তার নাতি। দাদা-নাতির পথচলা ধীরে ধীরে হয়ে ওঠে স্মৃতি, শিকড়, হারিয়ে যাওয়া সময় ও ঘরে ফেরার আকাঙ্ক্ষার গল্প। সিনেমাটির অন্যতম বড় আকর্ষণ নাসিরুদ্দিন শাহর অভিনয়। ৯৫ বছর বয়সী বৃদ্ধের চরিত্রে তিনি স্মৃতিভ্রংশের অসহায়তার পাশাপাশি চরিত্রটির হাসি, দুষ্টুমি ও দীর্ঘ জীবনের অভিজ্ঞতাও ফুটিয়ে তুলেছেন। তার অভিনয় দর্শকের প্রশংসা পেয়েছে। সিনেমায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় রয়েছেন দিলজিৎ দোসাঞ্জও।

ছবিটির আবেগঘন আবহ আরও গভীর করেছে এ আর রহমানের সংগীত। ইমতিয়াজ আলীর ধীরগতির গল্প বলার সঙ্গে রহমানের সুর চরিত্রগুলোর স্মৃতি ও অনুভূতিকে আরও নিবিড় করেছে। গীতিকার ইরশাদ কামিলের লেখা গানও গল্পের সঙ্গে মিশে গেছে।

‘দরিয়া’ গানে বাংলা ভাষার কয়েকটি পঙ্‌ক্তি ব্যবহারের বিষয়টিও আলাদা করে নজর কেড়েছে। এর মাধ্যমে ১৯৪৭ সালের দেশভাগের স্মৃতিকে শুধু পাঞ্জাবের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে বাংলার অনুভূতির সঙ্গেও যুক্ত করা হয়েছে।

প্রেক্ষাগৃহে আট সপ্তাহের যাত্রা শেষে ৭ আগস্ট নেটফ্লিক্সে মুক্তি পেয়েছে ‘ম্যায় ওয়াপাস আউঙ্গা’। ফলে এবার আরও বড় দর্শকগোষ্ঠীর কাছে পৌঁছানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে সিনেমাটির। বিশেষ করে দেশভাগের সময় ভারতীয় উপমহাদেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া পরিবারগুলোর কাছে ঘরে ফেরার এই গল্প আলাদা আবেগ তৈরি করতে পারে।

সাম্প্রতিক সময়ে বড় বাজেটের অ্যাকশন ও জাঁকজমকপূর্ণ সিনেমার ভিড়ে ‘ম্যায় ওয়াপাস আউঙ্গা’র সাফল্য দেখিয়েছে, দর্শক এখনো ধীরগতির গল্প, আবেগ ও শক্তিশালী অভিনয়ের সিনেমাকে গ্রহণ করেন। প্রায় ১০০ কোটি রুপি আয়ের পথে থাকা ইমতিয়াজ আলীর সিনেমাটি তাই শুধু বক্স অফিসের সাফল্য নয়, বরং দেশভাগের ক্ষত, হারিয়ে যাওয়া সম্পর্ক ও ঘরে ফেরার আকাঙ্ক্ষাকে মানবিকভাবে তুলে ধরারও এক ব্যতিক্রমী উদাহরণ।

এসএ/এসএন


মন্তব্য করুন