তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশ: দক্ষ মানবসম্পদে নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন
০২:৪৪ পিএম | ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
নিউইয়র্কের পথে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ অধিবেশনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করতে তাঁর এই সফর নিছক একটি রাষ্ট্রীয় সফর নয়; এটি বাংলাদেশের বর্তমান বাস্তবতা, জাতীয় স্বার্থ এবং ভবিষ্যৎ উন্নয়ন ভাবনাকে বিশ্বদরবারে তুলে ধরার একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ।
স্বল্প সময় এবং স্বল্প বহরের এই সফরে আনুষ্ঠানিকতার চেয়ে কার্যকারিতাকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। দ্বিপাক্ষিক ও বহুপাক্ষিক বৈঠক, বিশ্বনেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় এবং বাংলাদেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনার মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের অবস্থান আরও সুস্পষ্টভাবে তুলে ধরার সুযোগ তৈরি হয়েছে। ২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাঁর প্রথম ভাষণ দেবেন।
এই সফরের সঙ্গে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসেরও একটি বিশেষ যোগসূত্র রয়েছে। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়া অতীতে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এবার তাঁদের সন্তান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান একই বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের মানুষের কথা বলবেন। জিয়া পরিবারের তৃতীয় সদস্য হিসেবে তাঁর এই উপস্থিতি বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে নিঃসন্দেহে একটি তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা।
এবারের অধিবেশনের আরেকটি বিশেষ দিক হলো—বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ফলে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের উপস্থিতি ও দায়িত্ব—দুই ক্ষেত্রেই এবারের অধিবেশন একটি বিশেষ মাত্রা পেয়েছে।
তবে বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের উপস্থিতির প্রকৃত সার্থকতা শুধু কূটনৈতিক পরিচিতি বা রাজনৈতিক বক্তব্যে নয়; বরং দেশের মানুষের জীবনমান উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে একটি শক্তিশালী অর্থনৈতিক ভিত্তির ওপর দাঁড় করানোর সক্ষমতার মধ্যেই নিহিত।
দক্ষ মানবসম্পদই হতে পারে নতুন বাংলাদেশের ভিত্তি
বাংলাদেশের সামনে আজ সবচেয়ে বড় সম্ভাবনাগুলোর একটি হলো আমাদের বিপুল তরুণ জনগোষ্ঠী। এই জনশক্তিকে যদি যথাযথ শিক্ষা, প্রশিক্ষণ ও দক্ষতায় গড়ে তোলা যায়, তাহলে জনসংখ্যা কোনো বোঝা নয়—এটি হয়ে উঠতে পারে দেশের সবচেয়ে বড় অর্থনৈতিক শক্তি।
আমাদের মনে রাখতে হবে, শুধু শিক্ষিত জনগোষ্ঠী দিয়ে আধুনিক অর্থনীতি গড়ে তোলা সম্ভব নয়; প্রয়োজন দক্ষ, কর্মক্ষম, প্রযুক্তিনির্ভর এবং পরিবর্তনশীল শ্রমবাজারের উপযোগী মানবসম্পদ।
বাংলাদেশকে পুনর্গঠনের যে স্বপ্ন আমরা দেখি, তার অন্যতম প্রধান ভিত্তি হওয়া উচিত Skills Development বা দক্ষতা উন্নয়ন।
কারিগরি ও পেশাগত শিক্ষা এবং প্রশিক্ষণকে আরও আধুনিক ও মর্যাদাপূর্ণ করতে হবে। প্রশিক্ষণের সঙ্গে শিল্প ও কর্মক্ষেত্রের বাস্তব চাহিদার সংযোগ তৈরি করতে হবে। তরুণদের এমন দক্ষতা দিতে হবে, যা শুধু দেশের শ্রমবাজারেই নয়, আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারেও তাঁদের প্রতিযোগিতামূলক করে তুলবে।
বিশ্বের শ্রমবাজার দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, অটোমেশন, রোবোটিক্স, ডিজিটাল প্রযুক্তি, সবুজ অর্থনীতি এবং নতুন ধরনের শিল্পব্যবস্থা কর্মসংস্থানের ধরন বদলে দিচ্ছে। তাই আমাদের প্রশিক্ষণব্যবস্থাকেও সময়ের সঙ্গে পরিবর্তিত হতে হবে।
আজকের প্রশিক্ষণ যেন আগামী দিনের কর্মসংস্থানের সঙ্গে যুক্ত হয়—এটাই হতে হবে আমাদের দক্ষতা উন্নয়ন নীতির অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।
শুধু প্রশিক্ষণের সংখ্যা বাড়ানো যথেষ্ট নয়। প্রয়োজন প্রশিক্ষণের মান, প্রাসঙ্গিকতা, স্বীকৃতি এবং কর্মসংস্থানের ফলাফল নিশ্চিত করা। আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন কারিকুলাম, দক্ষ প্রশিক্ষক, আধুনিক প্রশিক্ষণ উপকরণ, মূল্যায়নব্যবস্থা এবং শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কার্যকর অংশীদারিত্ব গড়ে তুলতে হবে।
বিশেষ করে বিদেশে কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে আমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত—কম দক্ষ শ্রমিক পাঠানো নয়, বরং দক্ষ ও প্রত্যয়নযোগ্য পেশাজীবী তৈরি করা। যুক্তরাজ্য, ইউরোপ, মধ্যপ্রাচ্য, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের চাহিদা বিশ্লেষণ করে সেই অনুযায়ী প্রশিক্ষণ ও যোগ্যতা উন্নয়ন করতে হবে।
উল্লেখ্য গত ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, শনিবার সকালে তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (ন্যাশনাল স্কিলস ডেভেলপমেন্ট অথরিটি - এনএসডিএ) গভর্নিং বোর্ড এর সভায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্ব করেন বোর্ড এর সদস্য অর্থমন্ত্রী, শিল্পমন্ত্রী, শিক্ষামন্ত্রী, প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী, জনপ্রশাসনবিষয়ক প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা, প্রতিমন্ত্রীবৃন্দ, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব, এনএসডিএর নির্বাহী চেয়ারম্যান ও সদস্যবৃন্দ, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং সংশ্লিষ্ট জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সভায় প্রধানমন্ত্রী দক্ষ মানবসম্পদ তৈরিতে গুরুত্বারোপ করে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের চাহিদা অনুযায়ী দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তুলতে সব মন্ত্রণালয়ের প্রশিক্ষণ কার্যক্রমকে সমন্বিত কাঠামোর আওতায় এনে অভিন্ন ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন সিলেবাসে প্রশিক্ষণ এবং সনদায়নব্যবস্থা চালুর নির্দেশনা দেন। তিনি বলেন, এ উদ্যোগ দেশের তরুণদের দক্ষতা বৃদ্ধির পাশাপাশি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে তাঁদের সনদের গ্রহণযোগ্যতা ও স্বীকৃতি বাড়াবে।
একজন বাংলাদেশি তরুণ যদি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত দক্ষতা ও যোগ্যতা নিয়ে বিদেশের শ্রমবাজারে প্রবেশ করতে পারেন, তাহলে তিনি শুধু নিজের পরিবারের আয় বাড়াবেন না; তাঁর রেমিট্যান্স দেশের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করবে এবং বাংলাদেশের দক্ষ জনশক্তির আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতাও বাড়াবে।
একইভাবে দেশের অভ্যন্তরেও দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি হলে শিল্প, নির্মাণ, স্বাস্থ্যসেবা, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি, পরিবহন, আতিথেয়তা, কেয়ার সেক্টরসহ বিভিন্ন খাতে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি পাবে। উদ্যোক্তা তৈরির সুযোগ বাড়বে, তরুণদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং অর্থনীতির ভিত আরও শক্তিশালী হবে।
অর্থাৎ দক্ষতা উন্নয়ন শুধু কর্মসংস্থানের বিষয় নয়; এটি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, দারিদ্র্য হ্রাস, সামাজিক ক্ষমতায়ন এবং জাতীয় পুনর্গঠনের একটি গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার।
এই জায়গাতেই বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রচিন্তায় Skills Development-কে আরও বেশি গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে একটি নতুন বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যাশা যদি বাস্তবে রূপ দিতে হয়, তাহলে শিক্ষাব্যবস্থা, দক্ষতা উন্নয়ন, শিল্পনীতি, কর্মসংস্থান এবং বৈদেশিক শ্রমবাজারকে বিচ্ছিন্নভাবে দেখার সুযোগ নেই। এগুলোকে একটি সমন্বিত জাতীয় মানবসম্পদ উন্নয়ন কৌশলের আওতায় আনতে হবে।
বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ বার্তা
রোহিঙ্গা সংকট, জলবায়ু পরিবর্তন, অভিবাসন, কর্মসংস্থান, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক বৈষম্য, প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার পরিবর্তনশীল বাস্তবতা—সবকিছুই বাংলাদেশের ভবিষ্যতের সঙ্গে সম্পর্কিত।
কিন্তু এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার জন্য আমাদের সবচেয়ে বড় শক্তি হতে পারে আমাদের মানুষ।
দক্ষ মানুষই দেশের সম্পদ।
দক্ষ মানুষই শিল্পের শক্তি।
দক্ষ মানুষই কর্মসংস্থানের ভিত্তি।
দক্ষ মানুষই আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে বাংলাদেশের পরিচয়।
আর দক্ষ মানবসম্পদই হতে পারে নতুন বাংলাদেশের পুনর্গঠনের অন্যতম প্রধান ভিত্তি।
জাতিসংঘের ৮১তম অধিবেশনের প্রতিপাদ্য—“Restoring Trust, Managing Transformation: A United Nations That Delivers for All”—আস্থা পুনর্গঠন এবং পরিবর্তনশীল বিশ্বকে কার্যকরভাবে মোকাবিলার প্রয়োজনীয়তার কথা স্মরণ করিয়ে দেয়।
বাংলাদেশও পরিবর্তনের এক গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে। অর্থনীতি, প্রযুক্তি, শ্রমবাজার ও ভূরাজনীতি দ্রুত বদলে যাচ্ছে। এই পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এগিয়ে যেতে হলে আমাদের প্রয়োজন জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতি, দক্ষ মানবসম্পদ, আধুনিক শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ, উদ্ভাবনী শক্তি এবং জাতীয় স্বার্থকেন্দ্রিক দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা।
তারেক রহমানের নিউইয়র্ক সফর তাই বাংলাদেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক সুযোগ। বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের বক্তব্যে আমাদের জাতীয় স্বার্থের পাশাপাশি একটি দক্ষ, আত্মনির্ভরশীল ও মানবসম্পদনির্ভর বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ আকাঙ্ক্ষাও প্রতিফলিত হওয়া প্রয়োজন।
একজন রাজনৈতিক নেতা হিসেবে তারেক রহমানের সামনে যেমন রয়েছে রাষ্ট্র পরিচালনার বড় দায়িত্ব, তেমনি রাষ্ট্রের প্রতিটি প্রতিষ্ঠান ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরও রয়েছে নিজ নিজ জায়গা থেকে বাংলাদেশ পুনর্গঠনে অবদান রাখার দায়িত্ব।
আমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত এমন একটি বাংলাদেশ—যেখানে তরুণদের হাতে শুধু সনদ থাকবে না, থাকবে বাস্তব দক্ষতা; যেখানে প্রশিক্ষণ শুধু কোর্স শেষ করার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং কর্মসংস্থান ও উৎপাদনশীলতার সঙ্গে যুক্ত হবে; যেখানে বাংলাদেশের দক্ষ কর্মী শুধু দেশের অর্থনীতিতে নয়, বিশ্ব শ্রমবাজারেও মর্যাদার সঙ্গে প্রতিযোগিতা করবেন।
ইতিহাসের কিছু মুহূর্ত খুব বেশি শব্দ করে আসে না; কিন্তু সময়ের সঙ্গে তাদের তাৎপর্য গভীর হয়ে ওঠে। নিউইয়র্কের বিশ্বমঞ্চে যখন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী দাঁড়াবেন, তখন তাঁর পেছনে থাকবে বাংলাদেশের পতাকা, আর সামনে থাকবে বিশ্বের রাষ্ট্রসমূহের প্রতিনিধিত্বকারী আন্তর্জাতিক সমাজ।
সেই মুহূর্তে আমাদের প্রত্যাশা—বাংলাদেশ যেন আত্মমর্যাদা, সাহস, মানবিকতা ও দূরদৃষ্টির সঙ্গে নিজের কথা বলে এবং একটি দক্ষ, আধুনিক ও সম্ভাবনাময় বাংলাদেশের স্বপ্নকে বিশ্বদরবারে তুলে ধরে।
এটি শুধু একটি বিদেশ সফর নয়।
এটি বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থকে বিশ্বদরবারে তুলে ধরার একটি সুযোগ।
এটি বাংলাদেশের মানুষের আশা ও আকাঙ্ক্ষাকে আন্তর্জাতিক পরিসরে উচ্চারণ করার একটি মুহূর্ত।
এবং এটি দক্ষ মানবসম্পদ, জ্ঞান, কর্মসংস্থান ও মানবিক মর্যাদার ওপর দাঁড়িয়ে নতুন বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়কে বিশ্বমঞ্চে প্রকাশ করার একটি সুযোগ।
ইনশাআল্লাহ, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কণ্ঠে বিশ্ববাসী শুনবে একটি আত্মমর্যাদাশীল, দক্ষ, গণতান্ত্রিক, মানবিক ও সম্ভাবনাময় বাংলাদেশের কথা।
বাংলাদেশ এগিয়ে যাক—দক্ষতা, জ্ঞান, কর্মসংস্থান ও মানবিক মর্যাদাকে সঙ্গে নিয়ে।
দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে উঠুক বাংলাদেশের পুনর্গঠনের অন্যতম প্রধান শক্তি হিসেবে।
ড. এম মুজিবুর রহমান
সদস্য, জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (National Skills Development Authority - NSDA)