পেট্রোলের আগুনে দগ্ধ রাব্বির ৫ দিন পর মৃত্যু, গ্রেপ্তার ২
ছবি: সংগৃহীত
০৯:৫০ পিএম | ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
নরসিংদীতে বিনামূল্যে দেশীয় মদ না দেওয়ায় লাইসেন্সধারী মদের দোকানের কর্মচারী তানভীর আহমেদ রাব্বি (৩০) এর শরীরে পেট্রোল ঢেলে আগুন দেওয়ার ঘটনায় দগ্ধ রাব্বি পাঁচ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর মারা গেছেন। এ ঘটনায় দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৫টার দিকে ঢাকার জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নিহতের বাবা মনির হোসেন ও নরসিংদী সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ আর এম আল মামুন।
রাব্বির মৃত্যুর খবরে তার পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। এ ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন নিহতের পরিবার ও স্থানীয়রা।
পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় এ পর্যন্ত দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বুধবার দিবাগত রাত ১টার দিকে নরসিংদী মডেল থানা ও জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) যৌথ টিম অভিযান চালিয়ে শহরের বানিয়াছল বালুরমাঠ এলাকা থেকে মামলার প্রধান অভিযুক্ত আবাসিক হোটেল নিরালার মালিক জাহাঙ্গীর সরকারকে (৬০) গ্রেপ্তার করে। পরে কাজী তৌফিক আহমেদ ওরফে পিয়াস (৩০) নামে অপর এক আসামিকেও গাবতলী এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
নরসিংদী সদর মডেল থানার ওসি এ আর এম আল মামুন বলেন, তানভীর আহমেদ রাব্বি আজ বিকেল ৫টার দিকে মারা গেছেন। এ ঘটনায় দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
প্রসঙ্গত, গত শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে নরসিংদী শহরের বাজির মোড় এলাকায় একটি লাইসেন্সধারী দেশীয় মদের দোকানে বিনামূল্যে ১০ লিটার মদ দাবি করেন হোটেল নিরালার মালিক জাহাঙ্গীর সরকারের ছেলে জাহিদ সরকারসহ কয়েকজন।
মদ না দেওয়ায় তারা দোকানের কাউন্টারে কর্মচারী তানভীর আহমেদ রাব্বির শরীরে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেন। পরে তাকে প্রথমে নরসিংদী সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে ঢাকার জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়। সেখানে আইসিইউতে পাঁচ দিন মৃত্যুশয্যায় থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে তার মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) রাব্বির মা মিনু বেগম বাদী হয়ে নরসিংদী সদর মডেল থানায় মামলা করেন। মামলায় জাহাঙ্গীর সরকার ও তার ছেলে জাহিদ সরকারের নাম উল্লেখ করে আরও ২-৩ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়।
এফআর/এসএন