সরকারি হাসপাতালের সামনে দুই দিন ধরে পড়ে ছিলেন নারী
১২:৩৯ এএম | ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ভেতরে টানা দুই দিন বিনাচিকিৎসায় যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছিলেন সড়ক দুর্ঘটনায় আহত মানসিক প্রতিবন্ধী এক নারী। প্রাচীর ঘেঁষে খোলা আকাশের নিচে রোদ-বৃষ্টি সহ্য করে পড়ে থাকলেও মেলেনি হাসপাতালের একটি বেড কিংবা চিকিৎসা।
অবশেষে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় শিক্ষার্থী ও সচেতন মানুষের দাবির মুখে শুক্রবার রাত ১০টার দিকে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করাতে বাধ্য হয় কর্তৃপক্ষ।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত বুধবার দিবাগত রাত আনুমানিক ১টার দিকে দেবিদ্বার পৌর এলাকার ভিংলাবাড়ি থেকে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত অবস্থায় ওই নারীকে উদ্ধার করেন দেবিদ্বার থানার উপপরিদর্শক (এসআই) অজয় চক্রবর্তী।
দেবিদ্বার থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মনিরুজ্জামান জানান, পুলিশ তাকে উদ্ধার করে তাৎক্ষণিকভাবে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে নিয়ে যায় এবং পরবর্তী চিকিৎসার জন্য হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের জিম্মায় রেখে আসে।
তবে স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার সকাল থেকে ওই নারীকে হাসপাতালের ভেতরে খোলা প্রাঙ্গণে মাটিতে পড়ে থাকতে দেখা যায়। মানসিক প্রতিবন্ধী হওয়ায় তিনি নিজের নাম বা স্বজনদের পূর্ণাঙ্গ পরিচয় দিতে পারছেন না। কেবল ঠিকানা হিসেবে 'ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মূলগাঁও' নামটুকু উচ্চারণ করছেন।

সিয়াম ইসলাম নামে এক স্থানীয় বাসিন্দা ও দায়িত্বপ্রাপ্ত এক আনসার সদস্য বলেন, টানা দুদিন ধরে অসহায় নারীটি রোদে পুড়ে ও বৃষ্টিতে ভিজে মাটিতে শায়িত ছিলেন, কিন্তু চিকিৎসার কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।
চিকিৎসকের এই অনীহা এবং রোগীর দুরবস্থার খবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় শিক্ষার্থী ও সচেতন নাগরিকদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে তাদের জোরালো চাপের মুখে শুক্রবার রাত ১০টার দিকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাকে ভর্তি নেয়।
এ বিষয়ে জানতে দেবিদ্বার উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কর্মকর্তা ডা. মহিবুস ছালাম খানের সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করলে তিনি ফোন রিসিভ না করায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আরওএমও ডা. কবির হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, ‘বেওয়ারিশদের চিকিৎসার দায়িত্ব হাসপাতালের নয়, তবে কেউ যদি দায়িত্ব নিয়ে ভর্তি করায় তাহলে চিকিৎসা করা যাবে। ওই নারীকে তো ভর্তি করায়নি। তাই তার চিকিৎসা দেওয়া হয়নি।’
দেবিদ্বার উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) অশোক বিক্রম চাকমা বলেন রাত ১২ টায় বলেন, ‘এই ঘটনা শোনার পর আমি উপজেলা সমাজসেবা অফিসারকে খোঁজ খবর নিতে বলা হয়েছে। এবং তার প্রয়োজনীয় সকল চিকিৎসা ও ওষুধের খরচ বহন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’
এমআই/টিএ