বিমানবন্দরে বিশৃঙ্খলা ও মারধরের অভিযোগ, মেজর আখতারুজ্জামানের বিরুদ্ধে মামলা
ছবি: সংগৃহীত
১২:৫০ পিএম | ০২ অক্টোবর, ২০২৬
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে লাগেজ ও ট্রলি সংকটকে কেন্দ্র করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি, সরকারি কাজে বাধা এবং দায়িত্বরত নিরাপত্তা কর্মকর্তাকে শারীরিক আঘাতের অভিযোগে জামায়াতে ইসলামীর নেতা মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।
শুক্রবার (২ অক্টোবর) বিমানবন্দর থানায় এ মামলা করেন বিমানবন্দরের নিরাপত্তা কর্মকর্তা মো. শাহরিয়ার আলম সজিব। এ ঘটনায় দণ্ডবিধির ১৮৬, ১৮৯, ২৯৪, ৩২৩, ৩৫২, ৩৫৩, ৫০৪ ও ৫০৬ ধারায় মামলা করা হয়েছে।
বিমানবন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুল হাসান তালুকদার মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ১ অক্টোবর সকাল ১০টা ৪০ মিনিটে মদিনা থেকে আসা বাংলাদেশ বিমানের বিজি-৩৩৮ ফ্লাইটের যাত্রীদের চাপের কারণে বিমানবন্দরের ৮ নম্বর লাগেজ বেল্ট এলাকায় ট্রলি সংকট দেখা দেয়। এতে লাগেজ পেতে বিলম্ব হওয়ায় যাত্রীদের মধ্যে ক্ষোভ ও উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।
এ সময় ঢাকা-৫ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ কামাল হোসেনের আহ্বানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঘটনাস্থলে যান বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এস এম রাগীব সামাদ। পরিস্থিতি শান্ত করার সময় মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান নির্বাহী পরিচালকের দিকে আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে এগিয়ে যান এবং তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন।
একপর্যায়ে তিনি ‘আমি কিন্তু পিটাবো ধইরা’ এবং ‘ঘাড় ধরে বের করে দেবো’ বলে হুমকি দেন বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
এজাহারে আরও বলা হয়, ওই সময় মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানের সঙ্গে থাকা কয়েকজন প্রটোকল সহকারী বিমানবন্দরের সংরক্ষিত (কেপিআই) এলাকায় মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ করছিলেন। দায়িত্বে থাকা নিরাপত্তা সুপারভাইজার ওয়ারেন্ট অফিসার মোহাম্মদ কামাল উদ্দিন ভিডিও ধারণে নিষেধ করলে আখতারুজ্জামান তার সঙ্গে অশোভন আচরণ ও গালিগালাজ করেন। পরে তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার অভিযোগও করা হয়েছে।
এছাড়া সাধারণ যাত্রীদের সংগ্রহ করা জমজমের পানির বোতল ট্রলি থেকে ফেলে দিয়ে ক্ষতিসাধন এবং বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের এক প্রতিনিধির সঙ্গে মারমুখী আচরণের অভিযোগও রয়েছে মামলার এজাহারে।
বাদীর অভিযোগ, এ ধরনের কর্মকাণ্ডের ফলে বিমানবন্দরের মতো স্পর্শকাতর ও সংরক্ষিত স্থাপনায় সরকারি কর্মকর্তাদের দায়িত্ব পালনে বাধা সৃষ্টি হয় এবং স্বাভাবিক শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সিসিটিভি ফুটেজ, প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্য এবং অন্যান্য আলামত সংগ্রহ করে তদন্ত করা হবে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কেএন/টিএ