© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

‘জলপরী’ দেখতে পাঁচ দিন ধরে পুরনো পুকুরে ভিড়, জাল ফেলে মিলল সিলভার কার্প

শেয়ার করুন:
‘জলপরী’ দেখতে পাঁচ দিন ধরে পুরনো পুকুরে ভিড়, জাল ফেলে মিলল সিলভার কার্প

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০৮:২৪ পিএম | ০৭ অক্টোবর, ২০২৬
নরসিংদীর মনোহরদীতে একটি পুরনো পুকুরে ‘জলপরী’ দেখা যাওয়ার গুজব ছড়িয়ে পড়ায় গত পাঁচ দিন ধরে সেখানে মানুষের ভিড় জমছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ভিডিওকে কেন্দ্র করে ঘটনাটি নিয়ে নানা কল্পকাহিনীও ছড়িয়েছে। তবে প্রশাসনের তল্লাশিতে ‘জলপরী’র কোনো অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। পুকুরে জাল ফেললে উঠে এসেছে সিলভার কার্পসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ।

মনোহরদী উপজেলার একদরিয়া ইউনিয়নের আলালপুর গ্রামের কবির আহমেদ ভূইয়ার প্রায় ২০০ বছরের পুরনো পারিবারিক পুকুরকে ঘিরে এ গুজবের সূত্রপাত।

পুকুরের মালিক কবির আহমেদ ভূইয়া জানান, পুকুরটিতে সিলভার কার্পসহ স্থানীয় বিভিন্ন প্রজাতির মাছ চাষ করা হয়। কয়েক দিন আগে সিলভার কার্প মাছ একসঙ্গে সাঁতার কাটার দৃশ্যকে কেন্দ্র করে কেউ কেউ সেটিকে ‘জলপরী’ হিসেবে প্রচার শুরু করেন। এরপর থেকেই প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ পুকুরপাড়ে ভিড় করছেন।

তিনি বলেন, ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে কেউ কেউ নানা কাল্পনিক গল্পও প্রচার করছেন। এতে তারা বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়েছেন। মানুষের অযাচিত ভিড়ের কারণে পুকুরের মাছের স্বাভাবিক পরিবেশও ব্যাহত হচ্ছে।

পুকুরের মালিক আরও জানান, প্রশাসনের সহায়তায় পুকুরে জাল ফেলে তল্লাশি চালানো হয়েছে। এতে মাছ ছাড়া অন্য কোনো কিছুর অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। গুজব বন্ধ এবং পুকুরপাড়ে মানুষের অযাচিত ভিড় ঠেকাতে প্রশাসন ও গণমাধ্যমের সহযোগিতা চান তিনি।

মনোহরদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদুল হাসান বলেন, মঙ্গলবার বিকেলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে পুকুরে জাল ফেলে তল্লাশি চালানো হয়। তল্লাশিতে মাছ ছাড়া অন্য কোনো কিছুর অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি।

ইউএনও বলেন, কিছু ভুঁইফোড় মাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ছড়িয়ে পড়ার পর সাধারণ মানুষের মধ্যে ‘জলপরী’ পাওয়ার বিষয়টি ছড়িয়ে পড়ে। অনেকে যাচাই না করেই নানা ধরনের কথা প্রচার করছেন এবং পুকুরটির সামনে ভিড় করছেন।

তিনি আরও বলেন, প্রশাসনের পক্ষ থেকে মানুষকে সচেতন করার চেষ্টা চলছে। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যাচাই-বাছাই ছাড়া গুজব না ছড়ানোর জন্য সবাইকে অনুরোধ করা হয়েছে। কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে গুজব ছড়িয়ে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এফআর/এসএন

মন্তব্য করুন