শিশির মনিররা ছিলেন কাপুরুষ, শিবির তখন বেঁচে ছিল ছাত্রলীগ হয়ে: রাশেদ খাঁন
ছবি: সংগৃহীত
০১:৪৭ পিএম | ০৮ অক্টোবর, ২০২৬
বাংলাদেশ প্রকৌশলী বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক কৌশল বিভাগের শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ হত্যা নিয়ে মুখ খুলেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন।
তিনি বলেন, ‘আবরারকে হত্যার পর শিশির মনিরদের ভূমিকা কী ছিল, তারা কেন নীবর ছিলেন। কারণ তারা ছিলেন কাপুরুষ, শিবির তখন বেঁচে ছিল ছাত্রলীগ হয়ে’।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে এ নিয়ে কথা বলেন তিনি।
আবরার ফাহাদ হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত কয়েকজন আসামির পক্ষে আইনি লড়াই করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট শিশির মনির। আসামিদের পক্ষে মামলা লড়ায় সামাজিক মাধ্যমে তাকে সমালোচনার মুখেও পড়তে হয়। গত বছরের শুরুর দিকে অবশ্য ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে আববার হত্যা মামলার আসামিপক্ষের আইনজীবী হিসেবে ভবিষ্যতে আইনি লড়াই না করার ঘোষণা দেন তিনি।
এ প্রসঙ্গে রাশেদ খাঁন তার পোস্টে বলেন, আসামিপক্ষের আইনজীবী শিশির মনির, বিষয়টা কষ্টদায়ক বলে মন্তব্য করেছে আবরার ফাহাদের বাবা। আবরার ফাহাদকে শিবির তকমা দিয়ে হত্যা করা হলে তার বিচারের দাবিতে সেসময় ঢাবিতে মিছিল বের হয় তৎকালীন ডাকসুর ভিপি নুরুল হক নুরের নেতৃত্ব। ২০১৮-২০২৪ পর্যন্ত ভিপি নুর ছিলেন আন্দোলন সংগ্রামের অগ্নিপুরুষ।
‘আর শিশির মনিররা ছিলেন আবরার ফাহাদের খুনি ছাত্রলীগের পক্ষের কাপুরুষ। ছাত্রশিবির তখন ছাত্রলীগ হয়ে বেঁচে ছিল! আমরাও সবাই যদি এভাবে কায়দা করে বেঁচে থাকার চেষ্টা করতাম, তবে আবরার ফাহাদ হত্যার পরে প্রতিবাদের জন্য একটা লোক রাস্তায় পাওয়া যেতো না!’
রাশেদ খাঁন আরও বলেন, আন্দোলনের কঠিন দিনগুলোতে বর্তমান শিবিরের ভিপি-জিএসদের কোনো অস্তিত্ব ছিল না। তারা ছিলেন হল ও ডিপার্টমেন্ট পর্যায়ে ছাত্রলীগের নেতা। আজকে ভিপি নুরকে নিয়ে জামায়াত-শিবির গালিগালাজ ও তুচ্ছতাচ্ছিল্য করে। ফ্যাসিবাদ বিরোধী আন্দোলনে এক ভিপি নুরের যে অবদান আছে, পুরো জামায়াত-শিবিরের সেই অবদান নেই।
তিনি বলেন, ১৮-২৪ ফ্যাসিবাদবিরোধী সংগ্রামের এই কঠিন সময়ে ভিপি নুর একটি অপ্রতিদ্বন্দ্বী তরুণ নেতৃত্বর নাম। জামায়াত-শিবির আরও ১০০ জন সাদিক কায়েম জন্ম দিলেও একজন ভিপি নুরের একশো ভাগের এক ভাগ হতে পারবে না।
প্রসঙ্গত, বাংলাদেশ প্রকৌশলী বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক কৌশল বিভাগের শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ হত্যার সাত বছর পূর্ণ হয়েছে। তিনি ঠিক কোন রাজনৈতিক আদর্শে বিশ্বাস করতেন, কিংবা আদৌ তার রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ততা ছিল কি না, তা নিয়ে অস্পষ্টতা রয়ে গেছে। যদিও বলা হয়ে থাকে, শিবির তকমা দিয়ে তাকে হত্যা করা হয়েছিল। যার সঙ্গে জড়িত ছিলেন তৎকালীন ক্ষমতাসীন দলের ছাত্রসংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের (বর্তমানে নিষিদ্ধ) কিছু নেতাকর্মী।
এফআর/এসএন