রংপুর প্রশাসনের উদ্দেশে এমপি বেলালএমপিদের পাত্তা দেন না কেন, আসমান থেকে এসেছেন
ছবি: সংগৃহীত
০৮:১৫ পিএম | ১১ অক্টোবর, ২০২৬
রংপুরে জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভায় প্রশাসনের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অবমূল্যায়ন ও একের পর এক অনিয়মের অভিযোগ তুলে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন রংপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মাহবুবুর রহমান বেলাল। সরকারি বিভিন্ন কমিটিতে সংসদ সদস্যদের প্রতিনিধি না রাখা এবং সার ডিলার নিয়োগে স্বজনপ্রীতির অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, জনগণের স্বার্থ উপেক্ষিত হলে প্রয়োজনে সাধারণ মানুষকে সঙ্গে নিয়ে আন্দোলনে নামবেন তারা। অপরদিকে সভার সভাপতি জেলা প্রশাসক ইসরাত জাহান ফোরামের মর্যাদা বজায় রেখে সবাইকে শব্দ চয়নে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন।
রোববার (১১ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১০টায় জেলা প্রশাসনের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত এ সভায় রংপুরের চারটি সংসদীয় আসনের সংসদ সদস্য এবং জেলা প্রশাসন ও পুলিশের শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় উপস্থিত প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের উদ্দেশে ক্ষোভ প্রকাশ করে মাহবুবুর রহমান বেলাল বলেন, আপনারা এমপিদের পাত্তা দিচ্ছেন না কেন? আপনারা কি আসমান থেকে এসেছেন, নাকি মঙ্গলগ্রহ থেকে এসেছেন? আমাদের এ দেশের জনগণ ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেছে।
জনপ্রতিনিধিদের যথাযথ মর্যাদা প্রদান এবং বিভিন্ন উন্নয়ন ও প্রশাসনিক কমিটিতে তাদের প্রতিনিধি অন্তর্ভুক্তির দাবি জানিয়ে তিনি আরও বলেন, জনগণের ন্যায্য দাবি তুলে ধরাই তাদের প্রথম দায়িত্ব। প্রশাসন যদি সংসদ সদস্যদের মূল্যায়ন না করে, তবে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে মাঠে নামা ছাড়া কোনো উপায় থাকবে না।
এ সময় জেলায় সার ডিলার নিয়োগে মারাত্মক দলীয়করণ ও অনিয়মের অভিযোগ তোলেন সংসদ সদস্য বেলাল। তিনি দাবি করেন, যোগ্য ও দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞ ব্যবসায়ীদের বাদ দিয়ে বিশেষ সুবিধা দিতে একই পরিবারের একাধিক সদস্যকে ডিলারশিপ পাইয়ে দেওয়া হয়েছে। এ ধরনের অস্বচ্ছ কর্মকাণ্ডের ফলে প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধি উভয় পক্ষই সাধারণ মানুষের কাছে প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে।
সভায় রংপুর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক এবং মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার সশরীরে উপস্থিত না থাকায় অসন্তোষ প্রকাশ করেন বেলাল। পাশাপাশি ঐতিহ্যবাহী শ্যামাসুন্দরী খাল দ্রুত সংস্কার, শহরের যানজট নিরসন, অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ ও মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযান জোরদারের জোর দাবি জানান তিনি। এ ছাড়া আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজায় যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে প্রতিটি পূজামণ্ডপে বাধ্যতামূলক সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন ও সন্দেহভাজনদের ওপর নজরদারি বাড়ানোর আহ্বান জানান এই আইনপ্রণেতা।
বক্তব্যের জবাবে জেলা প্রশাসক ও সভার সভাপতি ইসরাত জাহান বলেন, আইনশৃঙ্খলা কমিটি জেলার সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম। এখানে সরকারি কর্মকর্তাসহ উপস্থিত সবার পারস্পরিক সম্মান ও মর্যাদা বজায় রেখে আলোচনা করা সমীচীন। যেকোনো বক্তব্য উপস্থাপনের ক্ষেত্রে সবারই শব্দ চয়নের ব্যাপারে আরও দায়িত্বশীল ও সতর্ক থাকা উচিত।
কেএন/টিএ