মেসির নামে ফুল, পাপড়ি আর্জেন্টিনার পতাকার রঙে
ছবি: সংগৃহীত
১০:৪৯ পিএম | ১৬ অক্টোবর, ২০২৬
ফুটবল কিংবদন্তি লিওনেল মেসির নামে নতুন এক সুগন্ধি ফুলের নামকরণ করেছেন বিজ্ঞানীরা। পেরুর আন্দিজ পর্বতমালায় আবিষ্কৃত এই ফুলের নাম রাখা হয়েছে ‘সালভিয়া মেসি’। ফুলটির পাপড়িতে ফুটে ওঠা নীল ও সাদা রঙের মিশ্রণ মনে করিয়ে দেয় আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের জার্সি।
আর্জেন্টিনার সংবাদমাধ্যম লা নাসিওনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ২ হাজার ৪০০ মিটার উচ্চতায় পেরুর পাথুরে পাহাড়ি ঢালে উদ্ভিদটির সন্ধান পাওয়া যায়। এটি ল্যামিয়াসি পরিবারের একটি সুগন্ধি গুল্মজাতীয় উদ্ভিদ। এই পরিবারে তুলসী, পুদিনা ও রোজমেরির মতো পরিচিত উদ্ভিদ রয়েছে।
পেরুর সান মার্কোস জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাকৃতিক ইতিহাস জাদুঘরের পল গঞ্জালেস, আর্জেন্টিনার স্বাধীন গবেষক রোলান্দো উরিয়া এবং পেরুর গবেষক জ্যঁ কাপচা-রামোস উদ্ভিদটির বৈশিষ্ট্য শনাক্ত করেন। তাদের গবেষণা বৈজ্ঞানিক সাময়িকী ফাইটোতাক্সায় প্রকাশিত হয়েছে।
গবেষক রোলান্দো উরিয়া প্রথম উদ্ভিদটির ছবি দেখে বিষয়টি নিয়ে আগ্রহী হন। প্রচলিত উদ্ভিদবিষয়ক বইয়ে এর সঙ্গে মেলে, এমন কোনো প্রজাতি খুঁজে না পেয়ে তিনি অন্য গবেষকদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। পরে নমুনা বিশ্লেষণ ও মাঠপর্যায়ের অনুসন্ধানে তাঁরা নিশ্চিত হন, এটি বিজ্ঞানের কাছে আগে অজানা একটি প্রজাতি।
মেসির নামে উদ্ভিদটির নামকরণের পেছনেও রয়েছে বিশেষ তাৎপর্য। আন্তর্জাতিক বৈজ্ঞানিক নামকরণের নিয়ম অনুসারে ব্যক্তির সম্মানে প্রজাতির নাম রাখার সময় লাতিন ব্যাকরণ অনুসরণ করা হয়। ‘মেসি’ নামের সঙ্গে ‘আই’ যুক্ত করে তৈরি হয়েছে ‘মেসি’ই বা ‘মেসির উদ্ভিদ’ অর্থবাহী নামটি।
গবেষক ক্লদিও বের্তোনাত্তি বলেন, ‘বৈজ্ঞানিক গবেষণা মানুষেরই সৃষ্টি, তাই কোনো প্রকৃতিবিদ বা বিজ্ঞানী লিওনেল মেসি ব্যক্তিত্বের মতো গুণাবলি ও আবেগের পরিমণ্ডলের বাইরে গিয়ে কাজ করেন না। এটিই ব্যাখ্যা করে, কেন বিভিন্ন অঞ্চলের এবং ভিন্ন ভিন্ন প্রাণী বা উদ্ভিদ নিয়ে কাজ করা বিশেষজ্ঞরা এই শ্রদ্ধাঞ্জলিতে এক হয়েছেন, যা তার নামকে অমর করে রাখবে।’
মেসির নামে কোনো প্রজাতির নামকরণ অবশ্য এই প্রথম নয়। এর আগে ছত্রাক, মাকড়সা, টিকটিকি ও প্রাগৈতিহাসিক প্রাণীর নামেও তার নাম যুক্ত হয়েছে। এবার আন্দিজের জীববৈচিত্র্যে যুক্ত হলো মেসির নামের এই সুগন্ধি ফুল।
এমআর/টিএ