মা হারালেন আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপজয়ী কোচ স্কালোনি
ছবি: সংগৃহীত
১২:০৫ এএম | ২৯ অক্টোবর, ২০২৬
আর্জেন্টিনা জাতীয় ফুটবল দলের প্রধান কোচ লিওনেল স্কালোনির মা ইউলালিয়া মারজেত্তি মারা গেছেন। বুধবার (২৮ অক্টোবর) আর্জেন্টিনার পুজাতো শহরে নিজ বাড়িতে ৭৪ বছর বয়সে শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।
দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ ছিলেন ইউলালিয়া। দেশটির ক্রীড়ামাধ্যম টিওয়াইসি স্পোর্টস ও রেডিও টু তার মৃত্যুর খবর জানিয়েছে।
আর্জেন্টিনার সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, পরিবারের ঘনিষ্ঠ সূত্র ইউলালিয়ার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। স্বামী অ্যাঙ্গেলের সঙ্গে পুজাতো শহরেই বসবাস করতেন তিনি। পরিবারের সদস্য ও ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের উপস্থিতিতে তার শেষকৃত্য সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে।
তিন সন্তানের জননী ইউলালিয়া। তার সন্তানরা হলেন লিওনেল, মাউরো ও কোরিনা। তাদের মধ্যে লিওনেল স্কালোনির অধীনেই ২০২২ সালে কাতার বিশ্বকাপের শিরোপা জেতে আর্জেন্টিনা। দীর্ঘ ৩৬ বছর পর বিশ্বকাপ জয়ের স্বাদ পায় আলবিসেলেস্তেরা।
মায়ের সঙ্গে স্কালোনির সম্পর্ক ছিল অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ। জাতীয় দলের ব্যস্ত সূচির মধ্যেও সুযোগ পেলেই মাকে দেখতে পুজাতোতে ছুটে যেতেন তিনি। মায়ের অসুস্থতা নিয়েও একসময় প্রকাশ্যে কথা বলেছিলেন আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপজয়ী এই কোচ।
২০২১ সালের ১৫ অক্টোবর পেরুর বিপক্ষে বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের ম্যাচে ১-০ গোলে জয়ের পর সংবাদ সম্মেলনে নিজের ব্যক্তিগত পরিস্থিতির কথা তুলে ধরেন স্কালোনি। সেদিন তিনি জানিয়েছিলেন, ব্যক্তিগত কিছু কারণে বিশ্বকাপ নিয়ে ভাবার মতো মানসিক অবস্থায় ছিলেন না তিনি। সেই বক্তব্যের মধ্য দিয়ে সামনে আসে মায়ের অসুস্থতার বিষয়টিও।
ব্যক্তিগত জীবনের কঠিন সময়ের মধ্যেও দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়াননি স্কালোনি। পরের বছর তার অধীনেই কাতার বিশ্বকাপ জিতে ইতিহাস গড়ে আর্জেন্টিনা। এর আগে ২০২১ সালে ব্রাজিলের মারাকানা স্টেডিয়ামে কোপা আমেরিকার শিরোপা জয়ের পরও মাকে স্মরণ করেছিলেন তিনি।
সেই সময় আবেগাপ্লুত স্কালোনি কোপা আমেরিকার শিরোপা মাকে উৎসর্গ করার কথা জানিয়েছিলেন। মায়ের গুরুতর শারীরিক সমস্যার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেছিলেন, তার মা লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন।
বিভিন্ন সংবাদ সম্মেলন ও সাক্ষাৎকারে মায়ের প্রতি গভীর ভালোবাসার কথা তুলে ধরেছেন স্কালোনি। এবার সেই প্রিয় মানুষটিকে হারিয়ে শোকের মুখে পড়েছেন আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপজয়ী কোচ। তার মায়ের মৃত্যুতে পরিবার ও জন্মশহর পুজাতোতে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।
এমআর/টিএ