© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

মাস শেষ হওয়ার আগেই পকেট ফাঁকা, ধারদেনা করে দিন কাটে অনেক চাকরিজীবীর

শেয়ার করুন:
মাস শেষ হওয়ার আগেই পকেট ফাঁকা, ধারদেনা করে দিন কাটে অনেক চাকরিজীবীর

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
১০:২৪ এএম | ২৯ অক্টোবর, ২০২৬
বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন ফিরোজ। মাস শেষে বেতন পান ২০ হাজার টাকা। এই সামান্য আয় দিয়েই তাঁকে সামলাতে হয় জীবনের নানা প্রয়োজন। বাড়িভাড়া, বাজার খরচ, যাতায়াত, বিদ্যুৎ বিলসহ নিত্যদিনের খরচ মেটাতে গিয়ে মাসের মাঝামাঝি সময়েই ফুরিয়ে আসে বেতনের বড় অংশ। এরপর মাস শেষ হওয়ার আগেই দেখা দেয় টানাপোড়েন। বাধ্য হয়ে কখনো ধারদেনা করে, আবার কখনো প্রয়োজনীয় খরচ কমিয়ে দিন পার করতে হয় তাঁকে।

ফিরোজের মতো নির্দিষ্ট বেতনে চলা অনেক চাকরিজীবীর জীবনেই এখন এমন চিত্র দেখা যায়। আয় সীমিত থাকলেও প্রতিনিয়ত বাড়ছে জীবনযাত্রার ব্যয়। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম, বাসাভাড়া ও যাতায়াত খরচের চাপ সামলে সংসার চালানো তাঁদের জন্য কঠিন হয়ে উঠেছে। ফলে মাসের শুরুতে বেতন হাতে পাওয়ার পরও আর্থিক স্বস্তি দীর্ঘস্থায়ী হচ্ছে না।

২০ হাজার টাকা বেতনে সংসার চালাতে গিয়ে ফিরোজকে প্রতিটি খরচের হিসাব রাখতে হয়। কোন খাতে কত টাকা ব্যয় করবেন, কোথায় খরচ কমানো সম্ভব—এসব নিয়ে ভাবতে হয় প্রতিনিয়ত। মাসের শুরুতে প্রয়োজনীয় বিল ও অন্যান্য খরচ মেটানোর পর হাতে থাকা টাকা দিয়ে পুরো মাস চালানো কঠিন হয়ে পড়ে। এর মধ্যে হঠাৎ কোনো অসুখ কিংবা জরুরি প্রয়োজন দেখা দিলে বাড়তি চাপ তৈরি হয়।

মাসের শেষ দিকে পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে ওঠে। হাতে টাকা না থাকলেও থেমে থাকে না দৈনন্দিন প্রয়োজন। বাজার করতে হয়, কাজে যেতে হয়, পরিবারের প্রয়োজনও মেটাতে হয়। তখন পরিচিতজনের কাছ থেকে ধার নেওয়া ছাড়া অনেক সময় বিকল্প থাকে না। পরের মাসে বেতন পেয়ে সেই টাকা পরিশোধ করতে গিয়ে আবারও শুরু হয় হিসাবের টানাপোড়েন।

এভাবে ধার করে মাস চালানোর প্রবণতা দীর্ঘমেয়াদে আর্থিক অনিশ্চয়তা বাড়াতে পারে। বিশেষ করে যাঁদের মাসিক আয় নির্দিষ্ট এবং সঞ্চয় সীমিত, তাঁদের জন্য সামান্য অতিরিক্ত খরচও বড় সংকট তৈরি করতে পারে। মাস শেষে হাতে কিছু টাকা রাখার পরিকল্পনা থাকলেও নিত্যপ্রয়োজনীয় ব্যয়ের চাপে অনেকের পক্ষেই তা সম্ভব হয় না।

শুধু ফিরোজ নন, দেশের বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত স্বল্প বেতনের অনেক চাকরিজীবীকেই একই বাস্তবতার মুখোমুখি হতে হচ্ছে। আয় ও ব্যয়ের ব্যবধান সামলাতে গিয়ে তাঁদের অনেকেই ব্যক্তিগত চাহিদা কমিয়ে আনছেন। কেউ কম দামের পণ্য কিনছেন, কেউ প্রয়োজনীয় কেনাকাটা পিছিয়ে দিচ্ছেন, আবার কেউ পরিবারের কিছু চাহিদা পূরণ করতে পারছেন না।

জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ আয় না বাড়লে এমন সংকট থেকে বেরিয়ে আসা কঠিন। নিয়মিত খরচের পাশাপাশি জরুরি প্রয়োজনের জন্য সঞ্চয় করাও গুরুত্বপূর্ণ। তবে যাঁদের আয়ের প্রায় পুরোটাই মাসিক ব্যয়ে চলে যায়, তাঁদের জন্য সঞ্চয় গড়ে তোলা সহজ নয়।

ফিরোজের ২০ হাজার টাকার বেতনের এই হিসাব তাই কেবল একজন চাকরিজীবীর ব্যক্তিগত লড়াই নয়; বরং সীমিত আয়ে সংসার চালানো মানুষের দৈনন্দিন বাস্তবতারও প্রতিচ্ছবি। মাস শেষ হওয়ার আগেই যখন পকেট ফাঁকা হয়ে যায়, তখন বেতন পাওয়ার আনন্দও অনেকের কাছে পরিণত হয় পরবর্তী মাসের খরচ মেটানোর নতুন এক হিসাবের শুরুতে।

এফআর/টিএ

মন্তব্য করুন