নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়ে ভারতে থাকার অনুমতি পেলেন ইমরান খান
ছবি: সংগৃহীত
০৫:৪৯ পিএম | ০২ নভেম্বর, ২০২৬
ক্ষোভে অংশ নেওয়ার অভিযোগে ভারত ছাড়ার নির্দেশ পেয়েছিলেন অভিনেতা ইমরান খান। তবে নিঃশর্ত ক্ষমা চাইতে রাজি হওয়ায় আপাতত তাঁকে ভারতে থাকার অনুমতি দিয়েছেন বোম্বে হাইকোর্ট।
যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক ও ভারতের ওভারসিজ সিটিজেন অব ইন্ডিয়া (ওসিআই) কার্ডধারী ইমরানের বিরুদ্ধে দেশ ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছিল বিদেশি নিবন্ধন দপ্তর (এফআরআরও)। সোমবার (২ নভেম্বর) সেই নির্দেশের বিরুদ্ধে করা আবেদনের শুনানিতে আদালত তাঁকে ভারতে থাকার অনুমতি দেন। তবে ভবিষ্যতে কোনো বিক্ষোভ বা আন্দোলনে অংশ নেবেন না, এমন লিখিত অঙ্গীকার জমা দিতে বলেছেন বিচারপতিরা।
ভারতের সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শুনানিতে আদালত মন্তব্য করেন, ওসিআই কার্ডধারীরা ভারতের নাগরিকদের মতো সমান অধিকার ভোগ করেন না। তাঁদের ভারতে থাকার বিষয়টি দেশটির সরকারের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভরশীল। ইমরানের আবেদনের পরবর্তী শুনানি আগামী ৭ ডিসেম্বর। তত দিন পর্যন্ত তাঁর বিরুদ্ধে দেশ ছাড়ার নির্দেশ স্থগিত থাকবে।
ঘটনার সূত্রপাত গত ১০ অক্টোবর। সেদিন মুম্বাইয়ের আগস্ট ক্রান্তি ময়দানের কাছে একটি বিক্ষোভ থেকে ইমরানকে আটক করে পুলিশ। ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ দাবি করছিলেন বিক্ষোভকারীরা।
পরে বিজেপি নেতা কিরীট সোমাইয়া পুলিশের কাছে অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক হয়েও রাজনৈতিক বিক্ষোভে অংশ নিয়ে ইমরান অভিবাসন আইন লঙ্ঘন করেছেন। এই অভিযোগের পর ১৪ অক্টোবর তাঁকে দেশ ছাড়ার নির্দেশ দেয় এফআরআরও। ২৮ অক্টোবরের মধ্যে ভারত ছাড়তে বলা হয়েছিল অভিনেতাকে।
এরপর ১৭ অক্টোবর বোম্বে হাইকোর্টে আবেদন করেন ইমরান। তাঁর দাবি, তিনি বিক্ষোভের আয়োজক ছিলেন না কিংবা তাতে অংশ নেননি। ঘটনাস্থলের কাছে উপস্থিত ছিলেন মাত্র। পুলিশ চলে যেতে বললে সেখান থেকে চলে যান। প্রায় চার দশক ধরে ভারতে বসবাস করছেন জানিয়ে ইমরান আরও বলেন, তাঁর ওসিআই কার্ডের মাধ্যমে দেশটিতে থাকার অনুমতি রয়েছে। কর্তৃপক্ষ তাঁর বক্তব্য শোনার সুযোগ না দিয়েই দেশ ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
এদিকে, ইমরানের ওসিআই নিবন্ধন বাতিল করা হবে কি না, তা জানতে আলাদা কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে এফআরআরও।
এসএ/