২০২১ সালে আফগানিস্তানে তালেবানরা ক্ষমতায় আসার পর থেকে খেলাধুলায় নারীদের অংশগ্রহণ পুরোপুরি নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এর ফলে নারীদের ক্রিকেট ও নারী দল গঠনের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। এই বিষয়টি ক্রিকেট বিশ্বে দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
তবে আফগানিস্তানের ছেলেদের ক্রিকেট দলের অধিনায়ক হাশমতউল্লাহ শহীদি আফগান নারীদের ক্রিকেট মাঠে ফেরানোর জন্য কথা বলেছেন। তিনি চান, নারীরা আবারো ক্রিকেট খেলতে মাঠে ফিরুক।
লাহোরে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচের আগের দিন আফগানিস্তান অধিনায়ক হাশমতউল্লাহ শহীদির কাছে জানতে চাওয়া হয়, আফগান নারীদের কি খেলতে দেখতে চান? মতামত জানাতে দ্বিধা না করলেও তাদের যে কিছুই করার নেই, সেটিও বললেন শহীদি, ‘সবাই খেলুক, এটা তো সবারই চাওয়া। তবে এখানে রাজনীতি একটা বিষয়, আর যেটি আমরা নিয়ন্ত্রণ করতে পারি না। আমরা তো সামান্য ক্রিকেটার, আমরা শুধু মাঠের বিষয়গুলোই
নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতা রাখি। মাঠই আমাদের জায়গা এবং সেখানে নেমে খেলার সময় আমরা সবসময় শতভাগ দেওয়ার চেষ্টা করি।
কিছুদিন আগে আফগান নারীদের নার্সিং কোর্স যখন বন্ধ করা হলো, প্রকাশ্যেই প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন রাশিদ খান ও মোহাম্মদ নাবির মতো তারকারা। এবার শাহিদি নারীদের ক্রিকেট নিয়ে আরও খোলামেলা বলতে পারেননি হয়তো সঙ্গত কারণেই।
তবে আফগানিস্তানের কোচ ও সাবেক ইংল্যান্ড ব্যাটসম্যান জোনাথন ট্রট তার দলের মনোভাব আরেকটু খোলাসা করেছে বিবিসির কাছে। বিবিসিকে ট্রট বলেছেন, আফগান খেলোয়াড়দের হাত-পা বাঁধা এ ব্যাপারে, ‘ছেলেগুলো দারুণ সাহসী। কোনটা ঠিক আর কোনটা ঠিক নয়, সেটি তারা জানে। ওদের জন্য পুরো ব্যাপারটা খুবই বিব্রতকর।’
চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে আজ মুখোমুখি ইংল্যান্ড ও আফগানিস্তান। এই সেই ম্যাচ, যে ম্যাচটি বয়কট করতে ইংল্যান্ড ক্রিকেট দলকে অনুরোধ করেছিলেন দেশটির রাজনীতিবিদেরা। ব্রিটিশ পার্লামেন্টের কয়েক শ সদস্য লিখিত চিঠি লিখে করেছিলেন সেই অনুরোধ।
সেই দুই দেশ যখন মুখোমুখি ক্রিকেট মাঠে, ক্রিকেটের চেয়ে মাঠের বাইরের ঘটনা নিয়েই তো বেশি কথাবার্তা হওয়ার কথা। বাস্তবে হয়েছেও তাই। ম্যাচ–পূর্ববর্তী সংবাদ সম্মেলনে আফগানিস্তানে নারীদের দুর্দশা, নারী ক্রিকেট দল কেন নেই, এ ব্যাপারে ক্রিকেটারদের কী অবস্থান—সেসব নিয়েই বেশি প্রশ্ন হলো।
ট্রট অবশ্য আশাবাদী একদিন আফগানিস্তানে অবস্থা বদলাবে, ‘পুরো বিশ্ব যে উদ্বিগ্ন, সেটি আমি জানি। আমি নিজেও এ নিয়ে চিন্তিত। আমার মেয়েরা তো ক্রিকেট খেলে। আশা করছি, একদিন আফগানিস্তানেও এমন কিছু দেখতে পাব।’
আফগান নারীদের প্রতি সহানুভূতি জানালেন ইংল্যান্ডের অধিনায়ক জস বাটলার। ট্রটের মতো বাটলারও আশা করছেন একদিন বদলাবে পরিস্থিতি, ‘আফগানিস্তানে নারী ও শিশুদের দুর্দশায় আমরা মর্মাহত। তবে আশা করছি কঠিন এই সময়ে এই ম্যাচ একটু হলেও আশা ও বিনোদন জোগাবে।’
লাহোরে ইংল্যান্ড-আফগানিস্তান ম্যাচটি শুরু হয়েছে বাংলাদেশ সময় বুধবার দুপুর ৩টায়। দুই দলের জন্যই ম্যাচটি নকআউট, হেরে গেলেই ছিটকে পড়তে হবে টুর্নামেন্ট থেকে।