‘এসো, আমাকে ধরো। আমি তার জন্য মিরাফ্লোরেসে (ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট প্রাসাদ) অপেক্ষা করব। দেরি কোরো না, কাপুরুষ’– গত বছরের আগস্ট এক ভাষণে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উদ্দেশে এ কথা বলেছিলেন ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো। কিন্তু কে জানত, মাত্র কয়েক মাসের মাথায় মাদুরোর এ আহ্বানই সত্যে পরিণত হবে!
স্থানীয় সময় শনিবার (৩ জানুয়ারি) রাতে ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাস থেকে মাদুরো ও তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে তুলে নিয়ে যায় মার্কিন সেনারা।
জানা গেছে, নিকোলাস মাদুরোকে নিউইয়র্কের ব্রুকলিনের আটককেন্দ্র মেট্টোপলিটন ডিটেনশন সেন্টারে (এমডিসি) রাখা হয়েছে। চলছে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ।
যুক্তরাষ্ট্রে ‘মাদক পাচার’ ও ‘অবৈধ অস্ত্র’ রাখার অভিযোগে ম্যানহাটানের একটি ফেডারেল আদালতে তাদের বিচার হবে বলেও জানানো হয়েছে।
ট্রাম্প তার প্রথম মেয়াদে মাদুরোর বিরুদ্ধে নানা পদক্ষেপ নিয়েছিলেন। ২০২০ সালের মার্চে ম্যানহাটানের ফেডারেল আদালতে মাদুরোর বিরুদ্ধে ‘মাদক পাচার ও সন্ত্রাসবাদ’-এর অভিযোগ আনা হয়। তখনই মাদুরোর অবস্থান সম্পর্কে তথ্য দিতে ১ কোটি ৫০ লাখ ডলার পুরস্কার ঘোষণা করেছিলেন ট্রাম্প। গত আগস্টে তা বাড়িয়ে পাঁচ কোটি ডলার করা হয়। এর প্রতিক্রিয়ায় মাদুরো উল্লিখিত মন্তব্য করেছিলেন।
রোববার (৪ জানুয়ারি) সামাজিক মাধ্যম ‘এক্স’-এ একটি ভিডিও প্রকাশ করেছে হোয়াইট হাউস। এতে ৬৩ বছর বয়সি মাদুরোকে বিদ্রূপ করা হয়েছে।
৬১ সেকেন্ডের ওই ভিডিওতে ট্রাম্পের উদ্দেশে মাদুরোর আগস্টের বক্তব্যের ফাঁকে ফাঁকে কারাকাসে বিশেষায়িত মার্কিন বাহিনী ‘ডেল্টা ফোর্স’–এর অভিযানের কিছু অংশ, আটক মাদুরো ও তার স্ত্রী ফ্লোরেসের ছবি দেখানো হয়েছে।
ভেনেজুয়েলায় যুক্তরাষ্ট্রের চালানো হামলা নিয়ে ট্রাম্পের সংবাদ সম্মেলনের কিছু অংশও যুক্ত করা হয়েছে ভিডিওতে। সেখানে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ বলেন, ‘মাদুরোর একটা সময় পর্যন্ত সুযোগ ছিল। কিন্তু তিনি সেই সুযোগ হাতছাড়া করেছেন।’
সূত্র: এনডিটিভি