© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

ঝড়ো ব্যাটিংয়ে দশের অধিক রেকর্ড গড়লেন অ্যালেন

শেয়ার করুন:
ঝড়ো ব্যাটিংয়ে দশের অধিক রেকর্ড গড়লেন অ্যালেন

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০১:০৬ পিএম | ০৫ মার্চ, ২০২৬
২০২৪ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে কেবল ফাইনালে উঠে হেরেছিল দক্ষিণ আফ্রিকা। চলমান আসরেও এইডেন মার্করামের দল টানা সাত ম্যাচ জয়ের পর সেমিফাইনালে উঠে হেরে বিদায় নিয়েছে। গতকাল (বুধবার) নিউজিল্যান্ডের কাছে প্রোটিয়াদের একপেশে হারের অন্যতম ‘মূলহোতা’ ফিন অ্যালেন। বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ে তিনি দশটিরও বেশি রেকর্ড গড়েছেন। ফলে সেমিফাইনালের মতো মঞ্চে ১৭০ রানের লক্ষ্য দিয়েও মাত্র ১২.৫ ওভারে ৯ উইকেটের বড় হার দেখল আফ্রিকানরা।

যত রেকর্ড গড়লেন অ্যালেন
৩৩
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে সবচেয়ে দ্রুততম ব্যাটার হিসেবে মাত্র ৩৩ বলে সেঞ্চুরি করেছেন ডানহাতি এই কিউই ব্যাটার। এর আগে বিশ্বকাপে দ্রুততম সেঞ্চুরিটি ছিল ৪৭ বলে, ক্রিস গেইল ২০১৬ আসরে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ওই কীর্তি গড়েন।

পুরুষ-নারী উভয় ক্রিকেটেই টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে এটি দ্রুততম সেঞ্চুরি। এর আগে নারী বিশ্বকাপের ২০১০ আসরে দক্ষিণ আফ্রিকার দিয়েন্দ্রা ডটিন মাত্র ৩৮ বলে সেঞ্চুরি করেন। এ ছাড়া অ্যালেনের ৩৩ বলে ম্যাজিক ফিগার নিউজিল্যান্ডের হয়েও ফরম্যাটটিতে সবচেয়ে দ্রুততম। তার আগে ২০২০ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ৪৬ বলে সেঞ্চুরি করেছিলেন গ্লেন ফিলিপস।

১০০
সবমিলিয়ে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে দ্রুততম সেঞ্চুরির তালিকায় অ্যালেন তৃতীয়। এস্তোনিয়ার সাহিল চৌহান ২৭ বল এবং তুরস্কের মুহাম্মদ ফাহাদ ২৯ বলে সেঞ্চুরির রেকর্ড আছে। যদিও তারা এবং প্রতিপক্ষ দল কেউই আইসিসির পূর্ণ সদস্য দেশ নয়।

পূর্ণ সদস্য দেশের হিসেবেও অ্যালেনের সেঞ্চুরি টি-টোয়েন্টিতে যৌথভাবে সবচেয়ে দ্রুততম। তার সমান ৩৩ বলে সেঞ্চুরি রয়েছে জিম্বাবুয়ে অধিনায়ক সিকান্দার রাজার। তবে তাদের প্রতিপক্ষ গাম্বিয়াও পূর্ণ সদস্য দেশ নয়।

প্রতিপক্ষ পূর্ণ সদস্য দেশ– সেই হিসাবে টি-টোয়েন্টিতে এতদিন দ্রুততম সেঞ্চুরির মালিক ছিলেন প্রোটিয়া তারকা ডেভিড মিলার ও ভারতের বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক রোহিত শর্মা। মিলার বাংলাদেশের বিপক্ষে এবং রোহিত শ্রীলঙ্কার সঙ্গে সেঞ্চুরি করেন ৩৫ বলে। তাদের ছাড়িয়ে এদিক থেকেও সবচেয়ে দ্রুততম সেঞ্চুরিয়ান হলেন অ্যালেন।

১০০
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের নকআউটে এর আগে কোনো ব্যাটার সেঞ্চুরি করতে পারেননি। ২০০৯ আসরে লঙ্কান তারকা তিলেকারত্নে দিলশানের করা অপরাজিত ৯৬ রানের ইনিংসটিই ছিল সর্বোচ্চ। গতকাল অপরাজিত ১০০ রান করেও নকআউট ম্যাচের সর্বোচ্চ এবং একমাত্র সেঞ্চুরিয়ান বনে গেলেন কিউই তারকা অ্যালেন।

১৯/৫০
ম্যাচটিতে ডানহাতি এই ওপেনার ফিফটি করেছেন মাত্র ১৯ বলে। যা টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের নকআউটে সবচেয়ে দ্রুততম ফিফটি। এর আগে অভিষেক আসরে (২০০৭) অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দ্রুততম ২০ বলে হাফসেঞ্চুরি করেছিলেন ভারতীয় অলরাউন্ডার যুবরাজ সিং।

এ ছাড়া বিশ্বকাপেও নিউজিল্যান্ডের দ্রুততম ফিফটির রেকর্ড গড়েছেন অ্যালেন। তার আগে চলমান আসরেই (কানাডার বিপক্ষে) ২২ বলে হাফসেঞ্চুরি করেছিলেন গ্লেন ফিলিপস।



১৮
সেঞ্চুরির পথে অ্যালেন ১৮টি (১০ চার ও ৮ ছয়) বাউন্ডারি হাঁকিয়েছেন। এটিও টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের এক ইনিংসে কোনো ব্যাটারের যৌথভাবে সর্বোচ্চ, ২০১২ আসরে তার সমান ১৮টি বাউন্ডারি খেলেন স্বদেশি সাবেক অধিনায়ক ব্রেন্ডন ম্যাককালাম।

১৮ বাউন্ডারিতে ৮৮ রান করেছেন ফিন অ্যালেন। যা যৌথভাবে পুরুষ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাউন্ডারিতে সর্বোচ্চ রান। ২০০৭ বিশ্বকাপে প্রোটিয়াদের বিপক্ষে গেইল ১১৭ রানের ইনিংস খেলার পথেও সমান ৮৮ রান করেন বাউন্ডারিতে।

২০
চলমান বিশ্বকাপে একের পর এক ছক্কার রেকর্ড হচ্ছে। এক আসরে ছয়ের রেকর্ড নতুন করে লেখা হলো কয়েকবার। সর্বোচ্চ ২০টি ছক্কা হাঁকিয়ে এখন সবার উপরে আছেন অ্যালেন। এই বিশ্বকাপের আগে এক আসরে সর্বোচ্চ ১৭টি ছক্কার রেকর্ড ছিল। আর গতকালের ম্যাচের আগে ১৯ ছক্কা নিয়ে সেই রেকর্ড দখলে ছিল শিমরন হেটমায়ারের।

৪৬৩
চলমান বিশ্বকাপে দুই কিউই ওপেনার (অ্যালেন ও টিম সেইফার্ট) মিলে ৪৬৩ রান করেছেন, যা যেকোনো টি-টোয়েন্টি সিরিজ কিংবা বিশ্বকাপ আসরে নির্দিষ্ট দুজনের জুটিতে সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড। একইসঙ্গে ফরম্যাটটিতে তাদের ১০০০ রানের মাইলফলকও পূর্ণ হয়েছে। এখন পর্যন্ত টি-টোয়েন্টিতে ১০০০ রানের জুটি গড়ার নজির আছে ৪২টি। তবে রানরেটের দিক থেকে বাকিদের উপর রাজত্ব করছেন অ্যালেন-সেইফার্ট।

৫-১
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে এর আগে পাঁচবার ‍মুখোমুখি হয়ে দক্ষিণ আফ্রিকাকে কখনও হারাতে পারেনি নিউজিল্যান্ড। গতকাল ষষ্ঠবারের দেখায় কিউইরা প্রথম জয় পেল। তবে যেকোনো আইসিসি ইভেন্টের নকআউট ম্যাচে নিয়ন্ত্রণটা বরাবরই নিউজিল্যান্ডের দখলে। চারবার নকআউট ম্যাচে তাদের মুখোমুখি হয়ে প্রতিটিতেই হেরেছে প্রোটিয়ারা।

৮৪
প্রোটিয়াদের বিপক্ষে পাওয়ার প্লের ৬ ওভারে ৮৪ রান তুলেছে নিউজিল্যান্ড। যা বিশ্বকাপের নকআউটে সর্বোচ্চ (আগের সর্বোচ্চ ৬৭ রান ইংল্যান্ডের)। তবে যেকোনো ম্যাচের হিসাবে পঞ্চম সর্বোচ্চ রান।

৫৫
মার্কো জানসেনের ফিফটির সুবাদে কিউইদের বিপক্ষে লড়াকু সংগ্রহ পেয়েছিল আফ্রিকানরা। তার করা ৫৫ রান দলটির আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে সাত অথবা আরও নিচের পজিশনে নেমে সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড। বিশ্বকাপের হিসাবে তৃতীয় সর্বোচ্চ।

টিজে/এসএন 

মন্তব্য করুন