সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে হলে সচেতনভাবে সময় দিতে হয়: বিজয় ভার্মা
ছবি: সংগৃহীত
০২:০১ পিএম | ২৩ মার্চ, ২০২৬
অভিনয়ের ব্যস্ততা, সাফল্যের চাপ আর ব্যক্তিজীবনের টানাপোড়েন সব মিলিয়ে একজন শিল্পীর জীবনে অনেক সময়ই সম্পর্কের জায়গা সংকুচিত হয়ে আসে। সেই বাস্তবতা নিয়েই এবার খোলামেলা কথা বললেন অভিনেতা বিজয় ভার্মা। তাঁর মতে, উচ্চাকাঙ্ক্ষা প্রয়োজনীয় হলেও কখনও কখনও সেটিই প্রেমের পথে অদৃশ্য বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে।
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে প্রেম ও পেশার সম্পর্ক নিয়ে নিজের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন তিনি। বিজয়ের ভাষায়, জীবনের শুরুতে তাঁর লড়াই ছিল টিকে থাকার। কাজ পাওয়া, নিজের অবস্থান তৈরি করা এবং প্রতিটি সুযোগকে ধরে রাখার তাগিদে তখন পুরো মনোযোগই ছিল পেশার দিকে। সেই সময় ব্যক্তিগত অনুভূতির জন্য আলাদা জায়গা রাখা সহজ ছিল না।

তবে সময়ের সঙ্গে অবস্থান বদলেছে। এখন তিনি এমন জায়গায় পৌঁছেছেন, যেখানে নিজের পছন্দমতো চরিত্র বেছে নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। আর সেই অভিজ্ঞতাই তাঁকে বুঝিয়েছে, সাফল্য যদি জীবনের অন্য আনন্দগুলোকে মুছে দেয়, তবে সেই অর্জনের ভেতরও এক ধরনের অপূর্ণতা থেকে যায়।
প্রেম ও পেশার ভারসাম্য নিয়ে কথা বলতে গিয়ে বিজয় বলেন, একজন শিল্পীর জীবনে উচ্চাকাঙ্ক্ষা থাকা জরুরি, কিন্তু সেই উচ্চাকাঙ্ক্ষা যেন সব সম্পর্ককে ছাপিয়ে না যায়। তাঁর মতে, সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে হলে সচেতনভাবে সময় দিতে হয়, কারণ কাজের চাপ কখন যে অজান্তেই দূরত্ব তৈরি করে দেয়, তা বোঝা যায় না।
সম্প্রতি তাঁর ব্যক্তিজীবন নিয়েও আলোচনা কম হয়নি। তামন্না ভাটিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক ভাঙার পর থেকেই নানা জল্পনা ঘিরে রেখেছে অভিনেতাকে। নতুন সম্পর্কের গুঞ্জনও শোনা যাচ্ছে বিভিন্ন মহলে। যদিও এ নিয়ে সরাসরি কিছু বলেননি তিনি, তবে প্রেম নিয়ে তাঁর সাম্প্রতিক মন্তব্যে ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার ছায়া খুঁজছেন অনেকে।
বিজয় মনে করেন, জীবনে একজন সঠিক মানুষের উপস্থিতি মানসিক স্থিরতা এনে দেয়। পরস্পরের প্রতি বোঝাপড়া থাকলে পেশাগত চাপও অনেক সহজ হয়ে যায়। তাই প্রেম ও পেশার মধ্যে একটি বেছে নিতে হলে তিনি হয়তো প্রেমকেই এগিয়ে রাখবেন কারণ তাঁর বিশ্বাস, কাজের সাফল্য যেমন প্রয়োজন, তেমনি পাশে একজন আপন মানুষের উপস্থিতিও জীবনের বড় শক্তি।
জটিল চরিত্রে অভিনয়ের জন্য পরিচিত হলেও নিজের ভেতরের আবেগী মানুষটিকে আড়াল করতে চান না বিজয়। তাঁর কথায়, একজন শিল্পীর ভেতরে যে অনুভূতি বেঁচে থাকে, সেটিই শেষ পর্যন্ত অভিনয়কে গভীর করে তোলে। আর সেই অনুভূতির বড় অংশ জুড়ে থাকে ভালোবাসা।
পিআর/টিকে