© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

দিব্যা ভারতীয় মৃত্যুর দিন ঠিক কী ঘটেছিল?

শেয়ার করুন:
দিব্যা ভারতীয় মৃত্যুর দিন ঠিক কী ঘটেছিল?

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০২:০৯ পিএম | ২৩ মার্চ, ২০২৬
হিন্দি চলচ্চিত্রের উজ্জ্বল সম্ভাবনাময় এক মুখ ছিলেন দিব্যা ভারতী। খুব অল্প সময়েই জনপ্রিয়তার শীর্ষে পৌঁছে যাওয়া এই অভিনেত্রীর মৃত্যু যেমন আচমকা থামিয়ে দিয়েছিল এক সম্ভাবনাময় পথচলা, তেমনি রেখে গিয়েছিল অসংখ্য প্রশ্ন। তিন দশকেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও তাঁর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিয়ে ধোঁয়াশা আজও পুরোপুরি কাটেনি।

১৯৯৩ সালের ৫ এপ্রিল রাত। মুম্বাইয়ের একটি বহুতল ভবনের পাঁচতলা থেকে পড়ে গুরুতর আহত হন মাত্র উনিশ বছরের দিব্যা। দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হলেও চিকিৎসকেরা তাঁকে আর বাঁচাতে পারেননি। সেই ঘটনার পর থেকেই একদিকে দুর্ঘটনা, অন্যদিকে আত্মহত্যা কিংবা পরিকল্পিত হত্যার নানা জল্পনা ঘিরে রেখেছে তাঁর মৃত্যু।



সেই রাতের প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা নিয়ে কথা বলেছেন খ্যাতনামী সাংবাদিক ট্রয় রিবেইরো, যিনি পরে দিব্যাকে নিয়ে বইও লিখেছেন। তাঁর বর্ণনায় উঠে এসেছে, মৃত্যুর কয়েক ঘণ্টা আগে দিব্যার বাসায় কয়েকজন অতিথি উপস্থিত ছিলেন। অভিনেত্রী তখন কিছুটা নিভৃত সময় কাটাচ্ছিলেন। হাতে পানীয়ের গ্লাস নিয়ে বারান্দার পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন তিনি। কিছুক্ষণ পর আচমকাই নিচে পড়ে যাওয়ার শব্দ শুনে সবাই ছুটে যান।

ট্রয়ের বক্তব্য অনুযায়ী, উপস্থিত অতিথিরাই তাঁকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যান। কিন্তু হাসপাতালে পৌঁছানোর পর চিকিৎসকেরা জানান, অনেক দেরি হয়ে গেছে। সেই রাতের ঘটনায় উপস্থিত ছিলেন পরিচিত পোশাকশিল্পী নীতা লুল্লাও। তবে তিনিও নিশ্চিত করে বলতে পারেননি, ঘটনাটি দুর্ঘটনা ছিল নাকি ইচ্ছাকৃত কিছু।

সাংবাদিকের লেখা অনুযায়ী, মৃত্যুর আগে দিব্যা দীর্ঘদিন ধরে মানসিক চাপে ছিলেন। তাঁর ব্যক্তিগত জীবনে নানা টানাপোড়েন চলছিল বলেও উল্লেখ করা হয়েছে। তবে কোন বিষয় তাঁকে সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত করছিল, তা স্পষ্ট হয়নি।

ঘটনার পর আরও একটি প্রশ্ন সামনে আসে শেষবার দিব্যাকে কে দেখেছিলেন। ট্রয়ের দাবি, অভিনেত্রীর পরিচারিকা শেষবার তাঁকে জীবিত অবস্থায় দেখেছিলেন। কিন্তু তদন্তে তাঁকে যথেষ্ট গুরুত্ব দিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়নি বলে তাঁর আক্ষেপ রয়েছে।

দিব্যার মৃত্যুসংবাদ পৌঁছানোর পর স্বামী সাজিদ নাদিয়াদওয়ালার শারীরিক অবস্থাও খারাপ হয়ে পড়ে বলে জানা যায়। অন্যদিকে হাসপাতালে এসে অভিনেত্রীর পরিবার শোক আর বিভ্রান্তির মধ্যে পড়ে যায়। বাবার কান্না, ভাইয়ের অসহায়তা সব মিলিয়ে সেই রাত হয়ে ওঠে আরও ভারী।

পরদিন ভোরে হাসপাতালে পৌঁছান দিব্যার মা। পরিবারের ভেতরেও তখন উত্তেজনা ও আবেগের বিস্ফোরণ ঘটে। কী কারণে সেই মুহূর্তে পারিবারিক দোষারোপ শুরু হয়েছিল, তা আজও পরিষ্কার নয়।

দিব্যা ভারতীর মৃত্যু তাই শুধু একটি দুর্ঘটনার খবর হয়ে থাকেনি; এটি হয়ে উঠেছে ভারতীয় চলচ্চিত্রজগতের দীর্ঘস্থায়ী এক রহস্য। সময় পেরিয়েছে, প্রজন্ম বদলেছে, কিন্তু তাঁর মৃত্যুর সেই শেষ মুহূর্ত নিয়ে কৌতূহল এখনো অমলিন।


পিআর/টিকে

মন্তব্য করুন