ট্রাম্পের ওপর বিরক্তি প্রকাশ করে পুতিনের সঙ্গে তুলনা করলেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী
ছবি: সংগৃহীত
০৩:০১ পিএম | ১০ এপ্রিল, ২০২৬
ইরান যুদ্ধের প্রভাব, জ্বালানি মূল্য বৃদ্ধি এবং মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা- সব মিলিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ওপর বিরক্তি প্রকাশ করেছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার।
শুধু তাই নয়, তার বক্তব্যে ট্রাম্পের সঙ্গে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের কর্মকাণ্ডেরও তুলনা টানা হয়েছে। যদিও তার এই মন্তব্য দুই মিত্র দেশের সম্পর্ককে আরও টানাপোড়েনে ফেলতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফ বলছে, ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী স্যার কিয়ার স্টারমার বলেছেন, তিনি ডোনাল্ড ট্রাম্পের কর্মকাণ্ডে ‘বিরক্ত’ এবং ইঙ্গিত দিয়েছেন যে তার ভূমিকা ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে তুলনীয়। গালফ সফরে গিয়ে তিনি বলেন, ইরান যুদ্ধের কারণে দেশে জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় তিনি অসন্তুষ্ট।
আইটিভির রবার্ট পেস্টনকে স্যার কিয়ার স্টারমার বলেন, ‘আমি বিরক্ত যে দেশের পরিবারগুলো জ্বালানির দামের ওঠানামার কারণে ভুগছে, ব্যবসাগুলোর খরচও বাড়ছে। আর এর পেছনে রয়েছে বিশ্বজুড়ে পুতিন বা ট্রাম্পের কর্মকাণ্ড।’
লেবাননে ইসরায়েলের হামলার বিষয়েও তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্টের সঙ্গে মতবিরোধে জড়ান। তিনি বলেন, এসব হামলা ‘হওয়া উচিত নয়’। স্যার কিয়ার বলেন, ‘এটা বন্ধ হওয়া উচিত, এটাই আমার দৃঢ় মত। তাই প্রশ্নটা প্রযুক্তিগত নয়, এটি চুক্তি লঙ্ঘন কিনা সে বিষয়ও নয়।’
তিনি আরও বলেন, ‘যুদ্ধবিরতির সব বিস্তারিত আমাদের কাছে নেই’। এরপর তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ‘আমি পরিষ্কার করে বলছি- এটা ভুল।’
ট্রাম্প ও ইসরায়েল দাবি করছে, যুদ্ধবিরতি চুক্তির আওতায় লেবানন পড়ে না। তবে ইরান বলছে, লেবাননও এই চুক্তিতে অন্তর্ভুক্ত।
দ্য টেলিগ্রাফ বলছে, ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর এই মন্তব্য যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ও ন্যাটোর সঙ্গে বিদ্যমান টানাপোড়েন আরও বাড়াতে পারে। মূলত যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ছয় সপ্তাহ আগে ইরানে হামলা শুরুর পর মিত্রদের কাছ থেকে পর্যাপ্ত সমর্থন না পাওয়ায় ট্রাম্প ক্ষুব্ধ।
স্যার কিয়ার ট্রাম্পের যুদ্ধে অংশ না নেয়া এবং প্রথমে চাগোস দ্বীপপুঞ্জের ডিয়েগো গার্সিয়াসহ ব্রিটিশ ঘাঁটি ব্যবহার করে হামলার অনুমতি না দেয়ায় ট্রাম্পের সমালোচনার মুখে পড়েন। পরে তিনি ‘নির্দিষ্ট ও সীমিত প্রতিরক্ষামূলক উদ্দেশ্যে’ অনুমতি দেন।
ট্রাম্প স্যার কিয়ারকে ‘উইনস্টন চার্চিল নন’ বলে মন্তব্য করেছেন এবং তাকে ‘লুজার’ বা ‘অভাগা’ বলেও আখ্যা দিয়েছেন বলে জানা গেছে। ন্যাটোর অন্যান্য সদস্য ইতালি ও স্পেনও ইরানে হামলার জন্য মার্কিন বোমারু বিমানকে তাদের ঘাঁটি ব্যবহার করতে দেয়নি এবং হরমুজ প্রণালি খুলতে মার্কিন সহায়তার আহ্বানও তারা প্রত্যাখ্যান করেছে।
এদিকে গত বুধবার হোয়াইট হাউসে ন্যাটোর মহাসচিব মার্ক রুটের সঙ্গে বৈঠকে ট্রাম্প জোট থেকে বেরিয়ে যাওয়ার বিষয়েও আলোচনা করেন। বৈঠকের পর ট্রাম্প তার ট্রুথ সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে লেখেন, ‘আমাদের যখন প্রয়োজন ছিল, তখন ন্যাটো পাশে ছিল না, আর ভবিষ্যতেও থাকবে না। গ্রিনল্যান্ডের কথা মনে রাখুন, সেই বিশাল, খারাপভাবে পরিচালিত বরফের টুকরো!!! প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড জে ট্রাম্প।’
এসকে/এসএন