© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

মাতৃস্নেহ থেকে যে বঞ্চিত তার মধ্যে আবার শূন্যতা তৈরি করতে চাইনি: লাবণী সরকার

শেয়ার করুন:
মাতৃস্নেহ থেকে যে বঞ্চিত তার মধ্যে আবার শূন্যতা তৈরি করতে চাইনি: লাবণী সরকার

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
১১:৩৬ এএম | ১০ মে, ২০২৬
মাতৃত্ব মানেই শুধু রক্তের সম্পর্ক নয়, ভালোবাসা আর আগলে রাখার নামও মাতৃত্ব মাতৃদিবসে যেন সেই কথাই নতুন করে মনে করিয়ে দিলেন অভিনেত্রী লাবণী সরকার। ব্যক্তিগত জীবনের এক আবেগঘন অধ্যায় তুলে ধরে জানালেন, কেন কখনও নিজের সন্তান আনার কথা ভাবেননি তিনি।

অভিনেত্রীর কথায়, স্বামী কৌশিকের সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের অন্যতম বড় বন্ধন ছিল ছেলে সুস্নাত। আদরের নাম ‘ঘেঁটু’। যখন লাবণী তাঁদের জীবনে আসেন, তখন সুস্নাতের বয়স মাত্র ১৩। সেই সময় থেকেই ধীরে ধীরে তৈরি হয় এক গভীর সম্পর্ক।



লাবণী জানান, প্রথম থেকেই তিনি বিশ্বাস করতেন না যে শুধুই রক্তের সম্পর্কই আসল। বরং যে শিশু মায়ের স্নেহ থেকে বঞ্চিত, তাকে ভালোবাসা দিয়ে বড় করে তোলাই তাঁর কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ ছিল। তাই নতুন করে নিজের সন্তান আনার কথা কখনও ভাবেননি তিনি।

অভিনেত্রীর কথায়, শুধুমাত্র নিজের গর্ভজাত সন্তান নয় বলে অন্য একটি শিশুকে অবহেলায় ফেলে রাখা তাঁর পক্ষে সম্ভব ছিল না। বরং তিনি চেয়েছিলেন, যে শূন্যতা নিয়ে সুস্নাত বড় হচ্ছে, সেই জায়গাটা নিজের ভালোবাসা দিয়ে ভরিয়ে দিতে।



মাতৃদিবস নিয়ে তাঁদের পরিবারে কখনও আলাদা আয়োজন না হলেও, ছেলে আর তাঁর সম্পর্ক বরাবরই ছিল বন্ধুত্বের মতো। লাবণী বলেন, সুস্নাত সবসময় চেয়েছে জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে তিনি পাশে থাকুন। আর সেই কারণেই ছেলেকে বড় করার সময় নিয়মের চেয়ে হৃদয়ের কথাই বেশি শুনেছেন অভিনেত্রী।

তিনি আরও জানান, সময়ের সঙ্গে তাঁদের সম্পর্ক আরও গভীর হয়েছে। আজ সুস্নাতই তাঁর সবচেয়ে বড় আশ্রয়। ভালোবেসে তাঁকে ‘মাম্মাম’ বলে ডাকে ছেলে। আর এত বছর পর এসে লাবণীর উপলব্ধি, সেই ১৩ বছরের শিশুটি তাঁকে ভালোবাসা দিয়ে আগলে না রাখলে হয়তো এই সম্পর্ক এত সুন্দর হয়ে উঠত না।

কৃষ্ণের জীবনের উদাহরণ টেনে অভিনেত্রী বলেন, জন্মদাত্রী আর যিনি মানুষ করেন দুজনেই মা হতে পারেন। সমাজ অনেক সময় এমন সম্পর্ককে সহজভাবে নিতে না পারলেও তিনি কখনও সেসব নিয়ে ভাবেননি।

মাতৃদিবসে লাবণী সরকারের এই আবেগঘন স্বীকারোক্তি ছুঁয়ে গেছে বহু মানুষকে। কারণ তাঁর কথাতেই যেন ধরা পড়েছে মাতৃত্বের এক অন্য সংজ্ঞা।

পিআর/টিকে

মন্তব্য করুন