ভারতে ভয়াবহ ঝড়-বজ্রপাতে ১১১ জনের মৃত্যু, বিধ্বস্ত ২৬ জেলা
ছবি: সংগৃহীত
০৯:২২ এএম | ১৫ মে, ২০২৬
ভারতের উত্তরপ্রদেশে আঘাত হানা বিধ্বংসী ধূলিঝড়, ভারী বর্ষণ ও বজ্রপাতে ব্যাপক প্রাণহানি ও বিপর্যয়ের ঘটনা ঘটেছে। সরকারি সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত বুধবার আঘাত হানা এই দুর্যোগে রাজ্যের ২৬টি জেলায় এ পর্যন্ত ১১১ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং আহত হয়েছেন অন্তত ৭২ জন। পাশাপাশি ১৭০টি গবাদি পশুর মৃত্যু হয়েছে এবং প্রায় ২২৭টি ঘরবাড়ি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ভয়াবহ এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে প্রয়াগরাজ, মির্জাপুর এবং ভাদোহি জেলা। এর মধ্যে প্রয়াগরাজে ২১ জন, মির্জাপুরে ১৯ জন, ভাদোহিতে ১৬ জন, ফতেহপুরে ১১ জন এবং বেরিলিতে ২ জনের মৃত্যু হয়েছে। অধিকাংশ মৃত্যুর কারণ হিসেবে গাছ উপড়ে পড়া, উড়ন্ত বস্তু এবং দেয়াল বা ছাদ ধসে পড়ার কথা জানিয়েছেন কর্মকর্তারা। এছাড়া ভাদোহি ও মির্জাপুরে গঙ্গার ওপর নির্মিত পন্টুন ব্রিজ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় বেশ কিছু গ্রাম সম্পূর্ণ যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। প্রতাপগড়, কানপুর দেহাত, দেওরিয়া এবং সোনভদ্র জেলা থেকেও বজ্রপাত ও দেয়াল ধসে বেশ কয়েকজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।
ঘটনার ভয়াবহতা বিবেচনায় উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ ক্ষতিগ্রস্ত জেলাগুলোর প্রশাসনকে দ্রুত ক্ষয়ক্ষতির মূল্যায়ন করার নির্দেশ দিয়েছেন। আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর কাছে সরকারি সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দুর্যোগে নিহতদের প্রত্যেকের পরিবারকে তাৎক্ষণিক ত্রাণ হিসেবে ৪ লক্ষ টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে। এছাড়া গবাদি পশুর মৃত্যু এবং ফসলের ক্ষয়ক্ষতির জন্যও দ্রুত ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কাজ ত্বরান্বিত করতে বলা হয়েছে। রিলিফ কমিশনারের কার্যালয় থেকে সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং প্রতি তিন ঘণ্টা অন্তর জেলাগুলো থেকে পরিস্থিতি সম্পর্কে আপডেট নেওয়া হচ্ছে।
ভারতীয় আবহাওয়া দপ্তরের (আইএমডি) সিনিয়র বিজ্ঞানী অতুল কুমার সিং জানিয়েছেন, এই মৌসুমে এমন ঝড় হওয়া স্বাভাবিক হলেও এবারের ঝড়ের তীব্রতা ছিল একেবারেই অস্বাভাবিক। বিচ্ছিন্ন কিছু জায়গায় ঝড়ের গতিবেগ ঘণ্টায় ১০০ কিলোমিটারও ছাড়িয়ে গিয়েছিল এবং অনেক এলাকায় ৬০-৭০ কিলোমিটার বেগে ঝড় বয়ে গেছে। মূলত বায়ুমণ্ডলের নিম্নস্তরে একটি ঘূর্ণিঝড় পরিস্থিতি এবং রাজস্থান থেকে আসা পুবালি বাতাসের সঙ্গে মধ্য-ট্রপোস্ফিয়ারের পশ্চিমা বাতাসের সংমিশ্রণের ফলে এই ভয়াবহ আবহাওয়া পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। রাজ্যের কিছু অংশে এখনও আবহাওয়া সতর্কতা বহাল থাকায় হতাহত ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সূত্র: দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস
আরআই/এসএন