© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

মাকে হারালেন ভাস্কর ব্যানার্জি

শেয়ার করুন:
মাকে হারালেন ভাস্কর ব্যানার্জি

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
১১:১২ এএম | ২২ মে, ২০২৬

বাংলা অভিনয় জগতে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। মাতৃহারা হয়েছেন বর্ষীয়ান অভিনেতা ভাস্কর ব্যানার্জি। গত ২০ মে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন তার মা শমিতা ব্যানার্জি। মায়ের মৃত্যুসংবাদ সমাজমাধ্যমে নিজেই জানিয়েছেন অভিনেতা। আর সেই পোস্টেই যেন ধরা পড়েছে এক সন্তানের গভীর শূন্যতা।


ফেসবুকে মায়ের সঙ্গে একটি ছবি শেয়ার করে ভাস্কর ব্যানার্জি খুব সংক্ষিপ্ত অথচ আবেগে ভরা একটি বাক্য লেখেন— “মা চলে গেলো।” ছোট্ট এই বাক্যই মুহূর্তে ছুঁয়ে যায় অনুরাগীদের মন। পোস্ট সামনে আসতেই শোকবার্তা ও সমবেদনায় ভরে ওঠে মন্তব্যের ঘর।


জানা গেছে, বার্ধক্যজনিত সমস্যাতেই প্রয়াত হয়েছেন শমিতা ব্যানার্জি। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮৯ বছর। মায়ের শেষ সময়ের কথা বলতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন অভিনেতা। তিনি জানান, এক বছর আগেও মাকে নিয়ে মাদার্স ডে উপলক্ষে সিনেমা দেখতে গিয়েছিলেন। তখনও বেশ সুস্থ ছিলেন তিনি। কিন্তু গত পুজোর পর থেকে ধীরে ধীরে শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকে। শেষ পর্যন্ত ২০ মে বিকেল পাঁচটার দিকে বাড়িতেই ঘুমের মধ্যে শান্তভাবে চলে যান তিনি।


এই মৃত্যু যেন আরও বেশি নাড়া দিয়েছে ভাস্কর ব্যানার্জিকে। কারণ একই মাসে বহু বছর আগে হারিয়েছিলেন বাবাকেও। অভিনেতার কথায়, ২১ বছর আগে ১৮ মে তার বাবা মারা গিয়েছিলেন। আর এবার ২০ মে চলে গেলেন মা। বাবা-মায়ের বিয়েও হয়েছিল মে মাসেই। সেই স্মৃতি মনে করে আবেগঘন কণ্ঠে অভিনেতা বলেন, ‘এক বৈশাখে দেখা হল দুজনার’ গানটি যেন তাদের জীবনের সঙ্গেই জড়িয়ে ছিল।




তবে বাস্তবতার কথাও মেনে নিয়েছেন তিনি। ভাস্কর বলেন, সবাইকেই একদিন চলে যেতে হয়। দীর্ঘদিন মাকে কাছে পেয়েছেন, এটাই বড় প্রাপ্তি। কিন্তু বয়স যাই হোক, মা তো মা-ই হয়। তার এই কথাতেই যেন ধরা পড়ে মাকে হারানোর গভীর কষ্ট।


মা-সন্তানের সম্পর্ক এমন এক অনুভূতি, যা কখনও পুরোপুরি ভাষায় প্রকাশ করা যায় না। জীবনের প্রতিটি কঠিন মুহূর্তে যে মানুষটি নিঃশব্দে পাশে থাকেন, তার অনুপস্থিতি তৈরি করে এক অদ্ভুত শূন্যতা। ভাস্কর ব্যানার্জির পোস্টে সেই শূন্যতার ছাপ স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।


বাংলা টেলিভিশন ও সিনেমার পরিচিত মুখ ভাস্কর ব্যানার্জি দীর্ঘদিন ধরে অভিনয়ের সঙ্গে যুক্ত। নানা চরিত্রে অভিনয় করে দর্শকদের ভালোবাসা পেয়েছেন তিনি। সম্প্রতি তাকে ‘ভোলে বাবা পার কারেগা’ ধারাবাহিকেও দেখা গিয়েছিল। এবার ব্যক্তিগত জীবনের গভীর এই শোকের সময়ে পাশে দাঁড়িয়েছেন সহকর্মী, অনুরাগী ও ইন্ডাস্ট্রির বহু মানুষ।


এসএ/এসএন

মন্তব্য করুন