সিজোফ্রেনিয়া কী, কেন হয়? জেনে নিন লক্ষণ, কারণ ও চিকিৎসা
ছবি: সংগৃহীত
১২:৩২ পিএম | ২৯ জুলাই, ২০২৬
সিজোফ্রেনিয়া হলো একটি অত্যন্ত জটিল এবং দীর্ঘমেয়াদি মানসিক ব্যাধি, যা মানুষের চিন্তাভাবনা, অনুভূতি, আবেগ এবং আচরণের ওপর গভীর প্রভাব ফেলে। এটি এমন একটি অবস্থা যেখানে আক্রান্ত ব্যক্তি বাস্তব এবং কল্পনার মধ্যকার পার্থক্য বুঝতে পুরোপুরি ব্যর্থ হন।
অনেক সময় তারা এমন কিছু শোনেন, দেখেন বা বিশ্বাস করেন যার সাথে বাস্তবতার কোনো মিল নেই, যাকে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় হ্যালুসিনেশন বা ডিলিউশন বলা হয়। সঠিক চিকিৎসাসেবা না পেলে একজন মানুষের স্বাভাবিক চিন্তাশক্তি নষ্ট হয়ে যায় এবং তার দৈনন্দিন জীবনযাত্রা, পড়াশোনা বা কাজকর্ম স্তব্ধ হয়ে পড়ে।
আক্রান্তের ঝুঁকি ও সময়কাল
সিজোফ্রেনিয়া নারী ও পুরুষ উভয়ের ক্ষেত্রেই সমভাবে হতে পারে, তবে এটি দেখা দেওয়ার বয়সে কিছুটা পার্থক্য থাকে। সাধারণত কৈশোরের শেষ ভাগ থেকে শুরু করে ৩০ বছর বয়সের মধ্যে এই রোগের লক্ষণগুলো প্রথম প্রকাশ পায়।
পুরুষদের ক্ষেত্রে লক্ষণগুলো একটু কম বয়সে, যেমন ২০ থেকে ২৫ বছরের মধ্যে বেশি দেখা দেয়। অন্যদিকে নারীদের ক্ষেত্রে সাধারণত ২০ থেকে ৩০ বছরের শেষভাগে বা এর কিছু পরে রোগটি ধরা পড়ে। শিশু এবং বয়স্কদের ক্ষেত্রে সিজোফ্রেনিয়া হওয়ার ঘটনা খুবই বিরল।
রোগ সৃষ্টির প্রভাবক ও কারণসমূহ
চিকিৎসাবিজ্ঞানীদের মতে, সিজোফ্রেনিয়া হওয়ার পেছনে নির্দিষ্ট কোনো একক কারণ নেই, বরং একাধিক উপাদানের জটিল মিথস্ক্রিয়ার ফলে এটি তৈরি হয়।
প্রথমত, এটি বংশগত হতে পারে; অর্থাৎ পরিবারে বা রক্তসম্পর্কের কারও এই রোগ থাকলে ঝুঁকি অনেকটাই বেড়ে যায়।
দ্বিতীয়ত, মস্তিষ্কের নিউরোট্রান্সমিটার, বিশেষ করে ডোপামিন ও গ্লুটামেট নামক রাসায়নিক পদার্থের ভারসাম্যের ব্যাঘাত ঘটলে এই সমস্যা দেখা দেয়।
এছাড়া গর্ভাবস্থায় মায়ের অতিরিক্ত মানসিক চাপ, অপুষ্টি, কোনো জটিল সংক্রমণ এবং বয়ঃসন্ধিকালে অতিরিক্ত গাঁজা বা অন্য যেকোনো মাদক সেবন মস্তিষ্কের স্বাভাবিক বিকাশে বাধা সৃষ্টি করে এই রোগের ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।
নিরাময় ব্যবস্থা ও আধুনিক চিকিৎসা
যদিও সিজোফ্রেনিয়া পুরোপুরি বা চিরতরে মূল থেকে নির্মূল করা সম্ভব নয়, তবে সঠিক এবং নিয়মিত চিকিৎসার মাধ্যমে লক্ষণগুলো নিয়ন্ত্রণে রেখে আক্রান্ত ব্যক্তি অত্যন্ত স্বাভাবিক ও সুন্দর জীবনযাপন করতে পারেন।
চিকিৎসার সবচেয়ে বড় অংশ হলো মনোরোগ বিশেষজ্ঞের (Psychiatrist) পরামর্শ অনুযায়ী নিয়মিত 'অ্যান্টিসাইকোটিক' ওষুধ সেবন করা, যা মস্তিষ্কের রাসায়নিক ভারসাম্য ফিরিয়ে আনে। ওষুধের পাশাপাশি কগনিটিভ বিহেভিওরাল থেরাপির (CBT) মাধ্যমে রোগীর অবাস্তব চিন্তা দূর করতে সাহায্য করা হয়।
একই সাথে সামাজিক পুনর্বাসন এবং পরিবার থেকে অবহেলা বা কুসংস্কারের বদলে সহানুভূতি ও সমর্থন দেওয়া এই রোগের সবচেয়ে বড় প্রতিকার।
এসএন