© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

মেয়ে সুপারস্টার, তবু কেন তামিলনাড়ুর প্রত্যন্ত গ্রামে থাকেন ক্যাটরিনার মা?

শেয়ার করুন:
মেয়ে সুপারস্টার, তবু কেন তামিলনাড়ুর প্রত্যন্ত গ্রামে থাকেন ক্যাটরিনার মা?

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০৮:৩১ পিএম | ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
বলিউডে জনপ্রিয়তার শিখরে ক্যাটরিনা কাইফ। একের পর এক সফল সিনেমায় অভিনয় করে কোটি ভক্তের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছেন এই অভিনেত্রী। অন্যদিকে তার মা সুজান টরকোট বেছে নিয়েছেন একেবারেই ভিন্ন জীবন। তারকাখ্যাতি ও বিলাসী জীবন থেকে দূরে তামিলনাড়ুর মাদুরাইয়ের প্রত্যন্ত এলাকায় থেকে শিশুদের শিক্ষা ও সমাজসেবায় কাজ করে চলেছেন তিনি।

সুজান একসময় লন্ডনে থাকতেন। তবে ২০০৮ সালে সেই জীবন ছেড়ে তামিলনাড়ুতে চলে আসেন। গ্রামাঞ্চলের শিশুদের উন্নত ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার লক্ষ্যেই সেখানে একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা গড়ে তোলেন তিনি। শুরুতে শিশুদের বিনামূল্যে পড়াশোনা, স্বাস্থ্যসেবা ও সুরক্ষা নিয়ে কাজ করত সংস্থাটি।



এরপর ২০১৫ সালে সুজান প্রতিষ্ঠা করেন ‘মাউন্টেন ভিউ স্কুল’। মাত্র তিন থেকে পাঁচ বছর বয়সি ৩০ জনেরও কম শিশুকে নিয়ে স্কুলটির যাত্রা শুরু হয়। আশপাশের গ্রামের আর্থিকভাবে পিছিয়ে থাকা পরিবারের শিশুরাই ছিল স্কুলটির মূল শিক্ষার্থী। সময়ের সঙ্গে স্কুলটি বড় হয়েছে। বর্তমানে সেখানে ৩০০-রও বেশি শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে।

সুজান একাই তার আট সন্তানকে বড় করেছেন। মায়ের জীবনযাপন সম্পর্কে এক সাক্ষাৎকারে ক্যাটরিনা জানিয়েছিলেন, তার মা মাদুরাইয়ে থাকেন এবং নিজেই স্কুলে শিক্ষকতা করেন। শিশুদের জন্য কাজ করেই তিনি সেখানে আনন্দে আছেন।

তবে প্রত্যন্ত এলাকায় মায়ের জীবন যে খুব সহজ নয়, সেটিও জানিয়েছিলেন ক্যাটরিনা। তার ভাষ্য অনুযায়ী, সেখানে দিনের প্রায় ১২ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকে। ফলে অনেক সময় মায়ের সঙ্গে ভিডিও কলে কথা বলাও সম্ভব হয় না। কখনও বিদ্যুৎ, আবার কখনও ইন্টারনেট না থাকায় সাধারণ ফোনেই যোগাযোগ করতে হয়।

প্রচণ্ড গরমের মধ্যেও সুজানের সেখানে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা নেই। বিদ্যুৎ ও যোগাযোগের নানা সীমাবদ্ধতার মধ্যেই বছরের পর বছর ধরে নিজের কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি।

ছোটবেলা থেকেই মায়ের সমাজসেবামূলক কাজের সঙ্গে পরিচিত ছিলেন ক্যাটরিনা ও তার ভাইবোনেরা। বিভিন্ন দেশে থাকার সময় দারিদ্র্যের মধ্যে থাকা মানুষের জীবন কাছ থেকে দেখেছেন তারা। সেই অভিজ্ঞতাও তাদের বেড়ে ওঠায় প্রভাব ফেলেছে বলে জানিয়েছেন অভিনেত্রী।

মেয়ের তারকাখ্যাতির বিপরীতে মায়ের এই সাদামাটা জীবনযাপন তাই বরাবরই আলাদা করে নজর কাড়ে। বিলাসিতার বদলে শিশুদের শিক্ষা ও ভবিষ্যৎ গড়ার কাজকেই নিজের জীবনের বড় অংশ করে নিয়েছেন সুজান।

এসএ/এসএন

মন্তব্য করুন