© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

সাইবার সুরক্ষা আইনের অপপ্রয়োগ হোক, সেটা আমরা চাই না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

শেয়ার করুন:
সাইবার সুরক্ষা আইনের অপপ্রয়োগ হোক, সেটা আমরা চাই না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০৪:৪৭ পিএম | ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
সরকার মিডিয়াকে টার্গেট করে সাইবার সুরক্ষা (সংশোধন) আইন-২০২৬ করতে চায় না বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, ‘কোনো সাংবাদিক এটার শিকার হোক, এ আইনের অপপ্রয়োগ হোক—সেটা আমরা চাই না।’

রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে সাইবার সুরক্ষা (সংশোধন) আইন ২০২৬ খসড়া পর্যালোচনার জন্য মিডিয়ার অংশীজনদের অংশগ্রহণে কনসালটেশন সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

ডাক টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনামের সভাপতিত্বে সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন তথ্য প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরীসহ দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমের সম্পাদকরা।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা সাইবার সিকিউরিটি অ্যাক্ট-এর যে সংশোধনী আনার জন্য একটা বিল, খসড়া বিল রেডি করেছিলাম, সেটা ক্যাবিনেটে আলোচনা হয়েছে। ক্যাবিনেট আলোচনার পরে সিদ্ধান্ত দিয়েছে, আমরা যেন সংশ্লিষ্ট স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে এটা আলোচনা করি এবং যারা সাইবার স্পেসে কাজ করেন, আইসিটি এক্সপার্ট, তাদের সঙ্গে আমরা কথা বলি।’

তিনি বলেন, ‘এ আইনটি যাতে নিবর্তনমূলক কোনো আইনে পরিণত না হয়, সে জন্য আমরা সমাজের সর্বস্তরের মতামত গ্রহণ করার জন্য ওয়েবসাইটে খসড়া বিলটি প্রকাশ করেছি। ওয়েবসাইটে অনেকেই মতামত দিয়েছেন, অনেক প্রতিষ্ঠান মতামত দিয়েছে, অনেক মানবাধিকার সংগঠন, হিউম্যান রাইটস বডিজ মতামত দিয়েছে, অনেক শিক্ষার্থী মতামত দিয়েছেন, সেটা আমরা কম্পাইল করেছি।’

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘আমরা দেশের সবচয়েয়ে উল্লেখযোগ্য প্রিন্ট, অনলাইন ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সব প্রতিনিধি, সম্পাদক, বিশিষ্ট সাংবাদিকসহ সংবাদপত্রের সংগঠন এবং জার্নালিস্টদের বিভিন্ন অ্যাসোসিয়েশন প্রতিনিধি, সবার সঙ্গে আমরা কথা বলেছি। আজ তৃতীয় বৈঠক।

আপনাদের সঙ্গে বৈঠকে, সম্পাদকদের সঙ্গে বৈঠকে, গত ১০ তারিখে সিদ্ধান্ত হয়েছিল যে আপনারা পরবর্তী মিটিংয়ে আপনাদের সুস্পষ্ট মতামত লিখিতভাবে অথবা ওয়েবসাইটে অথবা আপনারা মিটিংয়ে আমাদের কাছে দেবেন। অনেকেই বক্তব্যের সঙ্গে সেটা বলেছেন যে আপনারা লিখিত মতামতটা দিয়ে যাবেন। আশা করি, পেয়ে যাব।’

মন্ত্রী বলেন, ‘প্রস্তাব এসেছে—আমরা যেন আরেকটু সময় নিয়ে মিডিয়া এবং সাইবার এক্সপার্টদের সমন্বয়ে একটি মতামত নিই এবং মিডিয়া যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, এ আইনে ভিকটিমাইজড না হয়, সে জন্য আমরা কিছু প্রটেকশন যাতে রাখি বা সেভিং ক্লজ রাখি। আমরা প্রস্তাবটি গ্রহণ করেছি।

আমরা মনে করি সবার আলাপ-আলোচনার মধ্য দিয়ে এ আইনটি সমৃদ্ধ হবে।’

তিনি আরো বলেন, ‘কোনো সাংবাদিক যাতে অন্যায়ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত না হন, সে জন্য একটা প্রস্তাবও এখানে করা হয়েছে যে, তাদের বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ নেওয়ার আগে আদালতের অনুমতি নিতে হবে, গ্রেপ্তারের আগে। সেটা আমরা উপযুক্ত মনে করেছি, তারপরও রিকমেন্ডেশনস আসুক, আমরা সেটা ইনক্লুড করব। এ ছাড়া আপিল নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে একটা সার্টেইন টাইম লিমিট দেওয়ার কথা বলা হয়েছে, সেটাও আমরা দিচ্ছি যাতে অনির্দিষ্টকাল পর্যন্ত ঝুলে না থাকে।’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আরো অন্যান্য বিষয়ের পরামর্শ আমরা তাদের কাছ থেকে পাব আশা করি। সেটার সমন্বয়ের জন্য আমরা পিআইওকে ফোকাল পয়েন্ট হিসেবে এখানে দায়িত্ব দিয়েছি।’

তিনি বলেন, ‘আইসিটি মিনিস্ট্রি এবং ইনফরমেশন মিনিস্ট্রি সেটা কো-অর্ডিনেট করবে। সংবাদপত্রের সম্পাদক পরিষদের প্রতিনিধিরা থাকবেন, সঙ্গে ইলেকট্রনিক ও অনলাইন মিডিয়ার অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিনিধিরা থাকবেন, সাইবার সিকিউরিটি বা সাইবার এক্সপার্টদের একটা প্যানেল করা হবে, সেটা আইসিটি মিনিস্ট্রি করবে, তারা সবাই সমন্বিতভাবে কাজ করবেন। সেখানে আমাদের সমন্বয়ক হিসেবে পিআইও কাজ করবেন। আশা করছি, ৭-১৫ দিনের মধ্যেই এ রিকমেন্ডেশনসগুলো পাব। তারপর আমরা সেটা অফিশিয়ালি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়সহ কমিটির সদস্যদের সঙ্গে বসে সিদ্ধান্ত নেব। এরপর সেটা ক্যাবিনেটে নিয়ে যাওয়ার আগে ওয়েবসাইটে প্রকাশ করব। তখনো মতামত দেওয়ার জন্য আপনাদের স্বাধীনতা থাকবে। সেটাও আমরা গ্রহণযোগ্য হলে ধারণ করব।’

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘বিল আকারে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় থেকে বিধি মোতাবেক আইন মন্ত্রণালয়ে সভা হয় এবং তারপরে ক্যাবিনেটে সেটা বিবেচনার জন্য যাবে। ক্যাবিনেট যদি সেটা অ্যাপ্রুভ করে, তখন সেটা বিল আকারে সংসদে যাবে। সংসদে গেলেও আমরা সেটা তড়িঘড়ি করে পাস করব না। সেখানে আলাপ-আলোচনা হবে, সংসদীয় কমিটিতে যাবে। বিরোধী দল, সরকারি দল সবাই আলোচনা করবে এবং সংসদের বাইরেও আশা করি, বিভিন্ন রকমের সেমিনার-সিম্পোজিয়াম আপনারা করবেন, সেখান থেকেও মতামত আসবে।’

তিনি বলেন, ‘সব কিছু মিলিয়ে আমরা এমন একটা আইন করতে চাই, যে আইনের মাধ্যমে আমরা যুবসমাজসহ সর্বস্তরের লোকজনকে রক্ষা করতে পারব।’

তিনি আরো বলেন, ‘যারা এ সাইবার স্পেস ব্যবহার করে বিভিন্ন অপরাধ সংঘটন করছে এবং সমাজে সেটা মারাত্মক আকারে সংক্রামক ব্যাধির মতো ছড়িয়ে যাচ্ছে, সেখান থেকে তাদের বেরিয়ে আসতে হবে। সামাজিক সুরক্ষা, সোশ্যাল হারমনি, রিলিজিয়াস হারমনি এবং পারিবারিক বন্ধন সবকিছু আমাদের টিকিয়ে রাখতে হবে। আমাদের কালচারের সঙ্গে মিলিয়ে এবং ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এ আইনটা করতে চাই।’

কেএন/টিএ

মন্তব্য করুন