জন্মনিয়ন্ত্রক ট্যাবলেটসহ জাবির জঙ্গল থেকে আটক ৫
ছবি: সংগৃহীত
১০:০১ পিএম | ০৭ অক্টোবর, ২০২৬
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) সন্দেহজনক ঘোরাঘুরির সময় বহিরাগত তিন নারীসহ পাঁচজনকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছেন শিক্ষার্থীরা। বুধবার (৭ অক্টোবর) ভোর ৫টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়াইল্ডলাইফ রেসকিউ সেন্টার (ডব্লিউআরসি) সংলগ্ন জঙ্গল এলাকা থেকে তাদের আটক করা হয়।
শিক্ষার্থী ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, আটক ব্যক্তিরা গাজীপুর থেকে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশাযোগে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক দিয়ে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করেন। পরবর্তীতে চালকের ভাড়া না দিয়েই তারা ভেতরে চলে যান। রাত ৩টার দিকে তাদের ডেইরি গেট থেকে মসজিদের পাশ দিয়ে দৌড়ে যেতে দেখেন উপস্থিত শিক্ষার্থীরা। পরবর্তীতে ভোররাতে ডব্লিউআরসি সংলগ্ন জঙ্গল থেকে বের হওয়ার সময় তাদের আটক করা হয়।
আটকের পর পরিচয় এবং ক্যাম্পাসে অবস্থানের কারণ জানতে চাইলে তাদের বক্তব্যে অসঙ্গতি দেখা যায়। এ সময় তাদের ব্যাগ তল্লাশি করে জন্মনিয়ন্ত্রক ট্যাবলেট পাওয়া যায় বলে জানান শিক্ষার্থীরা। জিজ্ঞাসাবাদে আটক ব্যক্তিরা নিজেদের পোশাককর্মী হিসেবে দাবি করেছেন।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ইংরেজি বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী জুবায়ের ইসলাম বলেন, ‘প্রধান ফটকের নিরাপত্তারক্ষীর সন্দেহ হলে তিনি আমাদের বিষয়টি দেখতে বলেন। এরপর আমরা জানতে পারি যে, পাঁচজন বহিরাগত ও বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষার্থী জঙ্গলের দিকে গেছেন। পরবর্তীতে ডব্লিউআরসি এলাকা থেকে বের হওয়ার সময় আমরা তাদের আটক করি।’
আটক ব্যক্তিদের মধ্যে একজনের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের (৪৯তম ব্যাচ) শিক্ষার্থী শাহরিয়ার খান শুভর পূর্বপরিচয় রয়েছে।
যোগাযোগ করা হলে শাহরিয়ার খান শুভ জানান, আটক ওই ব্যক্তি তার স্কুলজীবনের বন্ধু এবং বর্তমানে বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনে কর্মরত আছেন।
তিনি বলেন, ‘রাতে আমার ওই বন্ধু ফোন করে জানান যে তিনি মহাখালীর একটি ট্রেনিং সেন্টার থেকে প্রশিক্ষণ শেষ করে আসছেন। পরবর্তীতে ডেইরি গেটে এসে তিনি আবার ফোন করলে আমি সেখানে গিয়ে তার সঙ্গে তিন নারীকে দেখতে পাই। এরপর আমি তাদের ক্যাম্পাসের কোনো একটি নিরাপদ স্থানে অবস্থান করার পরামর্শ দিয়েছিলাম।’
আটকের পর পাঁচ বহিরাগতকে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা শাখায় নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তারা বহিরাগত হওয়ায় অধিকতর তদন্তের স্বার্থে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আশুলিয়া থানা পুলিশকে অবহিত করে এবং পরবর্তীতে তাদের পুলিশে সোপর্দ করা হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল হালিম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘ভোর ৪টার দিকে তিন নারী ও দুই পুরুষসহ মোট পাঁচজন বহিরাগতকে আটক করা হয়। তাদের সিকিউরিটি কন্ট্রোল রুমে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। ক্যাম্পাসে তাদের অবস্থান অননুমোদিত ও সন্দেহজনক হওয়ায় অধিকতর তদন্তের জন্য পুলিশ ডেকে তাদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।’
আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ তরিকুল ইসলাম জানান, ‘বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ করা হয়নি। তবে আটক পাঁচজনকে থানায় আনা হয়েছে এবং তাদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। পরিবারের সদস্যরা থানায় উপস্থিত হলে মুচলেকা গ্রহণের মাধ্যমে তাদের ছেড়ে দেওয়া হবে।’
এফআর/এসএন