ছেলে সেজে মেয়েকে বিয়ে, এলাকাবাসীর সালিশে বেত্রাঘাত
ছবি: সংগৃহীত
০৯:৩৯ এএম | ১০ অক্টোবর, ২০২৬
গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলায় ছেলে সেজে মেয়েকে বিয়ে করেন চাঁদনী নামের এক মেয়ে। পরে এলাকাবাসীর সালিশে বিচ্ছেদসহ ওই মেয়েটিকে বেত্রাঘাত, মারধর ও তওবা পড়ানোর ঘটনা ঘটেছে।
শুক্রবার (৯ অক্টোবর) বাদ জুমা উপজেলার বরিশাল ইউনিয়নের বাসুদেবপুর গ্রামে এই ঘটনা ঘটে।
কাবিননামা সূত্রে জানা যায়, বরিশাল গ্রামের ইব্রাহীমের মেয়ে চাঁদনী আক্তার (যিনি কাবিননামায় নাম পরিবর্তন করে রাসেল নাম ব্যবহার করেন) গত ২০২৬ সালের ১৫ এপ্রিল পলাশবাড়ী পৌরসভার হিজলগাড়ী গ্রামের তাজু মিয়ার মেয়ে লাবনী আক্তারকে বিয়ে করেন।
পরে জানা যায়, বর চাঁদনী ও কনে লাবনী উভয়েই সমকামী এবং নিজেদের এই সম্পর্ককে বৈধ ও ধামাচাপা দিতেই বরের নাম পরিবর্তন করে রাসেল সেজে মেয়েকে বিয়ে করেছিলেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মেয়ে চাঁদনীর (বর) সমকামী আচরণের বিষয়টি প্রথমে টের পান তার বাবা ইব্রাহিম খলিল। পরে বিষয়টি জানাজানি হলে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ও তোলপাড় শুরু হয়।
এর জেরে শুক্রবার বাদ জুমা বিষয়টি সুরাহা করার জন্য বরিশাল ইউনিয়নের লোকজনের উদ্যোগে একটি সালিশ বৈঠক বসে।
ওই সালিশে এলাকার লোকেরা ছাড়াও স্থানীয় মসজিদের ইমাম ও মসজিদ কমিটির লোকজন উপস্থিত ছিলেন। এ সময় কনে লাবনীকে তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে তারা।
পরে তাদের সামনেই এক ব্যক্তি বাঁশের কঞ্চি দিয়ে চাঁদনীকে (বর) মারধর করেন।
প্রত্যক্ষদর্শী হাসান বলেন, ‘সালিশ চলাকালে চাঁদনীকে বাঁশের বেত দিয়ে মারধর করা হয় এবং কান ধরে উঠবস করানো হয়। সাথে তাকে প্যান্ট শার্ট পরতে নিষেধ করেন বিচারকরা।’
ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে সালিশে উপস্থিত পলাশবাড়ী উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক মাহফুজ আহমেদ বলেন, ‘এলাকার শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষা করার স্বার্থে এবং স্থানীয় লোকজনের উপস্থিতিতে ওই ব্যক্তিকে (চাঁদনী) তওবা পড়ানো হয়েছে।’
এদিকে পলাশবাড়ি উপজেলার বরিশাল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম দেশের একটি গণমাধ্যমকে বলেন, ‘বিষয়টি আমরা জানা নেই আপনার কাছেই শুনলাম।’
অন্যদিকে পলাশবাড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সরোয়ার আলম খান বলেন, ‘ঘটনাটি ফেসবুকে দেখলাম। তবে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে কিন্তু এখন পর্যন্ত কেউ অভিযোগ করেনি।’
আরআই/টিএ