পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো আলোচনা করবে না ইরান। ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে সরাসরি বৈঠকের সম্ভাবনা প্রত্যাখ্যান করেছে মাসুদ পেজেশকিয়ানের সরকার। কোনো নিষেধাজ্ঞার কাছেই তেহরান মাথা নত করবে না বলেও সাফ জানিয়ে দিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
নতুন করে ইরানের বিরুদ্ধে ২৪ ফেব্রুয়ারি নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রশাসন। তার একদিন পর ২৫ ফেব্রুয়ারি এ প্রত্যাখানের বিষয়টি তুলে ধরেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি।
এদিন রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক শেষে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে যোগ দেন দুই প্রতিনিধি। আব্বাস আরাগচি বলেন, 'পারমাণবিক ইস্যুতে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মাঝে সরাসরি আলোচনার কোনো সম্ভাবনা নেই। যতক্ষণ পর্যন্ত চাপপ্রয়োগের মার্কিন নীতি বাতিল করা না হয়, ততক্ষণ পর্যন্ত কোনো আলোচনা হবে না।'
জ্বালানি ইস্যুতে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র দ্বন্দ্ব দীর্ঘদিনের। একের পর নিষেধাজ্ঞা আরোপেও পুরোপুরি বন্ধ করা সম্ভব হয়নি তেহরানের তেল রফতানির কার্যক্রম। ২৪ ফেব্রুয়ারি ইরানের জাতীয় তেল সংস্থার প্রধানসহ বিক্রয় ও পরিবহনের কাজে জড়িত থাকার অভিযোগে তেহরানের ৩০টিরও বেশি জাহাজ ও কিছু ব্যক্তির বিরুদ্ধে নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপের ঘোষণা দেয় ওয়াশিংটন।
এরমধ্যেই ২৫ ফেব্রুয়ারি তেহরান সফর করেন রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ল্যাভরভ। বৈঠকে আলোচনা করেন মস্কো-ওয়াশিংটন উষ্ণ কূটনৈতিক সম্পর্কের সম্ভাব্যতা নিয়ে।
তবে আরাগচি বলেন, 'পারমাণবিক আলোচনার বিষয়ে ইসলামিক প্রজাতন্ত্র ইরানের অবস্থান খুব স্পষ্ট। আমরা চাপ, হুমকি বা নিষেধাজ্ঞার আওতায় কোনো আলোচনা করব না।'
অবশ্য এ বিষয়ে এখনও কোনো প্রতিক্রিয়া দেখায়নি ট্রাম্প প্রশাসন। মার্কিন অর্থ বিভাগের অভিযোগ, ইরান তেল বিক্রি ও পরিবহনের জন্য একটি গোপন নেটওয়ার্ক ব্যবহার করছে। তবে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের দাবি, ইরানের তেল রফতানি শূন্যে নামিয়ে আনতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের প্রচেষ্টাই নিষেধাজ্ঞা আরোপের পেছনে কাজ করছে।