© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

ফরিদপুর মেডিকেলে ‘পর্দাকাণ্ড’: কারাগারে ৩ চিকিৎসক

শেয়ার করুন:
ফরিদপুর মেডিকেলে ‘পর্দাকাণ্ড’: কারাগারে ৩ চিকিৎসক
district-correspondent
০২:৫৩ পিএম | ১২ জানুয়ারি, ২০২০

ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের যন্ত্রপাতি ক্রয়ের নামে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে দুদকের করা মামলায় তিন চিকিৎসকের জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত।

ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের যন্ত্রপাতি ক্রয়ের নামে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে দুদকের করা মামলায় তিন চিকিৎসকের জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত।

রোববার দুপুরে অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালত-১ এর বিচারক বেগম কামরুন্নাহার এ আদেশ দেন। মামলা দায়েরের পর উচ্চ আদালত থেকে পাওয়া ছয় সপ্তাহের জামিনের মেয়াদ শেষে রোববার ছয় আসামির মধ্যে ওই তিনজন ফরিদপুরের আদালতে হাজির হলে আদালতের বিচারক জামিন নামঞ্জুর করে তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

তিন চিকিৎসক হলেন- ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহযোগী অধ্যাপক (দন্ত বিভাগ) ডা. গণপতি বিশ্বাস শুভ, হাসপাতালের সাবেক জুনিয়র কনসালটেন্ট (গাইনি) ডা. মিনাক্ষী চাকমা ও হাসপাতালের সাবেক প্যাথলজিস্ট ডা. এ এইচ এম নুরুল ইসলাম।

এর আগে গত ২৭ নভেম্বর দুদকের প্রধান কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মামুনুর রশীদ চৌধুরী বাদী হয়ে ছয়জনের নামে ফরিদপুর জজ আদালতে মামলাটি করেন।

মামলার অপর তিন আসামি হলেন- ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান অনিক ট্রেডার্সের স্বত্ত্বাধিকারী আব্দুল্লাহ আল মামুন, মেসার্স আহমেদ এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী মুন্সি ফররুখ আহমেদ ও জাতীয় বক্ষব্যাধি হাসপাতালের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মুন্সি সাজ্জাদ হোসেন।

দুদক সূত্রে জানা গেছে, ২০১৪ সালে ফরিদপুর মেডিকেলের জন্য অনিক ট্রেডার্স নামের একটি প্রতিষ্ঠানকে একটি কার্যাদেশের মাধ্যমে ১০টি পণ্য সরবরাহের জন্য ১০ কোটি টাকার কার্যাদেশ দেওয়া হয়। অপ্রয়োজনীয় ওই সব সরঞ্জামের দাম বাজারদরের চেয়ে অনেক বেশি ধরে ১০ কোটি টাকা বিলও জমা দেওয়া হয়। শেষ মুহূর্তে মন্ত্রণালয় বিল অনুমোদন না করায় তা আটকে যায়।

ওই সব সরঞ্জাম সরবরাহের পর যে বিল জমা দেওয়া হয়, এতে আইসিইউতে ব্যবহৃত একটি পর্দার দাম ৩৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা ধরা হয়। একটি অক্সিজেন জেনারেটিং প্ল্যান্ট কেনার খরচ দেখানো হয়েছে ৫ কোটি ২৭ লাখ টাকা। একটি ভ্যাকুয়াম প্ল্যান্ট ৮৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা, একটি বিএইইস মনিটরিং প্ল্যান্ট ২৩ লাখ ৭৫ হাজার, তিনটি ডিজিটাল ব্লাড প্রেশার মেশিন ৩০ লাখ ৭৫ হাজার, একটি হেড কার্ডিয়াক স্টেথিসকোপের দাম ১ লাখ ১২ হাজার টাকা।

এ ঘটনায় গত ২০ অগাস্ট উচ্চ আদালত এ অভিযোগ তদন্ত করতে দুদককে নির্দেশ দেয়। এর জন্য ছয় মাস সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছিল। পরে হাসপাতালের আইসিইউর পর্দা ও আসবাবপত্র কেনায় ২০১২ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত মেসার্স অনিক ট্রেডার্স নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে বাজারমূল্যের চেয়ে অস্বাভাবিক দাম দেখিয়ে টাকা আত্মসাতের অভিযোগ তদন্তে মাঠে নামে দুদক।

ফরিদপুর মেডিকেলে ‘পর্দাকাণ্ডে’ ছয় জনের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা

 

 

টাইমস/এইচইউ

মন্তব্য করুন