সুইজারল্যান্ডকে হারিয়ে আইস হকিতে পঞ্চমবারের মতো বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ফিনল্যান্ড
ছবি: সংগৃহীত
০৭:৪১ পিএম | ০১ জুন, ২০২৬
রোববার (৩১ মে) সুইজারল্যান্ডকে অতিরিক্ত সময়ে গড়ানো ফাইনালে ১-০ গোলে হারিয়ে ফিনল্যান্ড পঞ্চমবারের মতো আইস হকি বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপা জিতেছে।
ম্যাচের অতিরিক্ত সময়ের ১০ মিনিট ৪২ সেকেন্ডে জয়সূচক গোলটি করেন কন্সটা হেলেনিউস। ২০ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড ডান দিকের সার্কেল থেকে শট নিয়ে সুইস গোলরক্ষক লিওনার্দো জেনোনিকে পরাস্ত করেন। সেটি ছিল ম্যাচে ফিনল্যান্ডের ২৮তম শট।
ফিনল্যান্ডের গোলরক্ষক ইউস্তুস আনুনেল ২২টি সেভ করে সুইজারল্যান্ডকে কোনো গোল করতে দেননি।
ম্যাচ শেষে ফিনল্যান্ডের ডিফেন্ডার ওলি মাত্তা বলেন, 'আমাদের দলীয় সংস্কৃতি খুব শক্তিশালী। ড্রেসিংরুমে ঢোকার আগে সবাই নিজের অহংকার বাইরে রেখে আসে। এ কারণেই ফিনল্যান্ডের হয়ে খেলাটা এত দারুণ অনুভূতি।'
এর আগে ফিনল্যান্ড ১৯৯৫, ২০১১, ২০১৯ ও ২০২২ সালে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল।
ম্যাচের প্রথম পিরিয়ড শেষ হওয়ার ছয় সেকেন্ড আগে শুরু হওয়া দুই মিনিটের ৫-অন-৩ পাওয়ার প্লের সুযোগ কাজে লাগাতে ব্যর্থ হয় সুইজারল্যান্ড।
এর আগে গ্রুপ পর্বে সুইজারল্যান্ড ৪-২ গোলে জিতেছিল। সেটিই ছিল পুরো টুর্নামেন্টে ফিনল্যান্ডের একমাত্র হার।

গ্রুপ পর্বে সুইজারল্যান্ডের পেছনে দ্বিতীয় স্থান নিয়ে শেষ করা ফিনিশরা পরে কোয়ার্টার ফাইনালে চেক প্রজাতন্ত্রকে ৪-১ গোলে এবং সেমিফাইনালে টুর্নামেন্টের অন্যতম ফেবারিট কানাডাকে ৪-২ গোলে হারিয়ে ফাইনালে ওঠে।
ফিনল্যান্ডকে নেতৃত্ব দেন অধিনায়ক আলেকসান্দার বারকভ। হাঁটুর গুরুতর চোটের কারণে তিনি পুরো মৌসুম মিস করেছিলেন। গত জুনে তার দল ফ্লোরিডা প্যান্থার্স টানা দ্বিতীয়বারের মতো স্ট্যানলি কাপ জয়ের পর এটিই ছিল তার প্রথম প্রতিযোগিতামূলক টুর্নামেন্ট। বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে তিনি ১০ ম্যাচে ৩ গোল ও ৮ অ্যাসিস্ট করে দলের সাফল্যে বড় ভূমিকা রাখেন।
এদিকে, গত দুই বছর রানার্স-আপ হওয়ার পর এবার নিজেদের দর্শকদের সামনে শিরোপা জয়ের স্বপ্ন দেখেছিল স্বাগতিক সুইজারল্যান্ড। জুরিখে টুর্নামেন্টজুড়ে সমর্থকেরা নিরলসভাবে দলকে উৎসাহ দিয়ে গেছেন।
সুইস ফরোয়ার্ড ডেনিস মালগিন বলেন, 'এটি ভীষণ হতাশার। কিন্তু এটাই হকি। ম্যাচটি ০-০ অবস্থায় ছিল। আমাদের সুযোগ ছিল, আর অতিরিক্ত সময়ে ফল যেকোনো দিকে যেতে পারত।'
এই নিয়ে টানা তৃতীয় ফাইনালে গোল করতে ব্যর্থ হলো সুইজারল্যান্ড। ২০২৪ সালে তারা চেক প্রজাতন্ত্রের কাছে ২-০ গোলে, ২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে অতিরিক্ত সময়ে ১-০ গোলে হেরেছিল। এছাড়া ২০১৮ ও ২০১৩ সালেও তারা রানার্স-আপ হয়েছিল, তখন প্রতিপক্ষ ছিল সুইডেন। এরও আগে ১৯৩৫ সালেও সুইজারল্যান্ড দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেছিল।
টিজে/টিকে