কানাডার ক্রিকেট বোর্ডকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করল আইসিসি
ছবি: সংগৃহীত
০৭:৫১ পিএম | ০১ জুন, ২০২৬
আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) সদস্যপদ সংক্রান্ত বাধ্যবাধকতা লঙ্ঘনের গুরুতর অভিযোগে ক্রিকেট কানাডাকে তাৎক্ষণিকভাবে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। রোববার (৩১ মে) ভারতের আহমেদাবাদে অনুষ্ঠিত আইসিসি বোর্ড সভায় নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলোর মধ্যে এটি অন্যতম।
তবে সদস্যপদ স্থগিত করা হলেও কানাডার জাতীয় দলগুলো আইসিসির টুর্নামেন্টে অংশ নিতে পারবে এবং খেলোয়াড়দের আর্থিক ক্ষতি এড়াতে আইসিসির তত্ত্বাবধানে একটি নিয়ন্ত্রিত ব্যবস্থার মাধ্যমে অর্থায়ন চালু থাকবে।
পাশাপাশি প্রশাসনিক ও সুশাসন-সংক্রান্ত সমস্যাগুলো সমাধানের মাধ্যমে ক্রিকেট কানাডাকে পুনর্বহালের কিছু শর্ত দেওয়া হবে, যার অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করবে আইসিসির নরমালাইজেশন কমিটি।
এই সভায় বোর্ড আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব অনুমোদন করেছে, যার মাধ্যমে প্রচলিত টেস্ট ম্যাচে খারাপ আলোর কারণে খেলা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা থাকলে উভয় দলের সম্মতিতে লাল বলের পরিবর্তে গোলাপি বল ব্যবহারের পরীক্ষা চালানো হবে। এর লক্ষ্য হলো আলোজ সংকটজনিত কারণে খেলার সময় নষ্ট হওয়া কমানো। পাশাপাশি আইসিসি ও মেরিলিবোর্ন ক্রিকেট ক্লাব (এমসিসি) যৌথভাবে নতুন আলোক প্রযুক্তি নিয়ে গবেষণার অর্থায়ন করবে।
এছাড়া আইসিসি পুরুষদের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের জন্য একটি বৈশ্বিক বাছাইপর্ব (গ্লোবাল কোয়ালিফায়ার) চালুর সুপারিশ অনুমোদন করেছে। ১৬ দলের এই বাছাইপর্বের কাঠামো ও যোগ্যতা অর্জনের পথ চূড়ান্ত করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে আইসিসি ব্যবস্থাপনাকে। এর ফলে সহযোগী (অ্যাসোসিয়েট) দেশগুলোর জন্য আবারও বিশ্বকাপে ওঠার বৈশ্বিক পথ উন্মুক্ত হচ্ছে।
খেলার নিয়মেও বেশ কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে। লেগ-সাইড ওয়াইড নির্ধারণে ব্যাটারের ডেলিভারির সময়কার অবস্থানকে ভিত্তি ধরার পরীক্ষামূলক নিয়মটি স্থায়ীভাবে চালু করা হয়েছে। এছাড়া সন্দেহজনক বোলিং অ্যাকশন পর্যালোচনার ক্ষেত্রে ম্যাচ কর্মকর্তারা এখন থেকে হক-আই প্রযুক্তির তথ্য ব্যবহার করতে পারবেন।
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, নির্ধারিত ড্রিংকস বিরতির সময় প্রধান কোচ বা তার মনোনীত প্রতিনিধি মাঠে থাকা খেলোয়াড়দের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারবেন। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ম্যাচে বাধ্যতামূলক ১৫ মিনিটের ইনিংস বিরতি রাখা হবে।
নারী ক্রিকেটেও বেশ কিছু পরিবর্তন এসেছে। ২০২৭ এর আইসিসি ওমেন্স চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির সূচি জুন-জুলাইয়ের পরিবর্তে এগিয়ে ১৪-২৮ ফেব্রুয়ারি নির্ধারণ করা হয়েছে।
এছাড়া চলতি বছর থেকেই ১০ দল নিয়ে নতুন ওমেন্স ইমার্জিং নেশন্স ট্রফি চালু হবে, যেখানে পাঁচটি পূর্ণ সদস্য (ফুল মেম্বার) এবং পাঁচটি সহযোগী দেশ (অ্যাসোসিয়েট মেম্বার) অংশ নেবে।
নারীদের ২০২৮ এর টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের জন্যও নতুন বাছাই পদ্ধতি অনুমোদন করা হয়েছে। ১০ দলের গ্লোবাল কোয়ালিফায়ার থেকে ১২ দলের মূল আসরে দলগুলো জায়গা করে নেবে। এই বিশ্বকাপের আয়োজক হবে পাকিস্তান, তবে ভারতের ম্যাচগুলো নিরপেক্ষ ভেন্যুতে অনুষ্ঠিত হবে।

বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কার ক্রিকেট প্রশাসন নিয়েও আলোচনা করেছে আইসিসি। ড. মোহাম্মদ মুসাজি এবং ট্যাভেঙ্গওয়া মুকুহলানি বাংলাদেশ সফর করে সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা করবেন, যার মধ্যে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) নির্বাচন প্রক্রিয়াও অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
অন্যদিকে ইমরান খাজা এবং দেবজিৎ সাইকিয়া ইতোমধ্যে শ্রীলঙ্কা ক্রিকেটের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন।
বিশ্বব্যাপী ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটের ক্রমবর্ধমান বিস্তার নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে আইসিসি। এ কারণে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট সূচির সঙ্গে ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগগুলোকে আরও সমন্বিত করার উপায় খুঁজতে একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হবে।
আইসিসি চেয়ারম্যান জয় শাহ্ বলেন, 'আহমেদাবাদের আলোচনাগুলো সুশাসন, প্রশাসন এবং বিশ্বজুড়ে ক্রিকেটের বিকাশে আইসিসির অঙ্গীকারকে আরও জোরালো করেছে। নারী ক্রিকেট, উদীয়মান দেশগুলোর উন্নয়ন এবং ফ্র্যাঞ্চাইজি প্রতিযোগিতার ব্যবস্থাপনা; সব ক্ষেত্রেই আজকের সিদ্ধান্তগুলো ক্রিকেটকে আরও ন্যায্য, প্রতিযোগিতামূলক ও দর্শকবান্ধব করে তুলবে।'
টিজে/টিকে