• ঢাকা, বাংলাদেশ
  • মঙ্গলবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ১২ ফাল্গুন ১৪২৬

ইন্ধিরা গান্ধী: বাংলাদেশের এক পরম বন্ধু

ইন্ধিরা গান্ধী: বাংলাদেশের এক পরম বন্ধু

ফিচার ডেস্ক২৩ ডিসেম্বর ২০১৮, ০৯:৩৩এএম, ঢাকা-বাংলাদেশ।

ইন্ধিরা গান্ধী। ভারতের একজন প্রখ্যাত রাজনীতিবিদ, রাষ্ট্রনেতা ও ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের কেন্দ্রীয় নেতা। তিনি ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরুর মেয়ে এবং ভারতের তৃতীয় প্রধানমন্ত্রী। তিনিই বিশ্বের বৃহত্তম গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ভারতের প্রথম ও একমাত্র নারী প্রধানমন্ত্রী।

১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় ইন্ধিরা গান্ধী ছিলেন বাংলাদেশের এক পরম বন্ধু। তিনি ১৯১৭ সালের ১৯ নভেম্বর ভারতের এলাহাবাদে জন্মগ্রহণ করেন। শৈশবে তিনি ছিলেন এক অদম্য মেধাবী শিক্ষার্থী। ১৯৩৪ সালে মেট্রিকুলেশন পাশ করেন। পরে বিভিন্ন সময় সুইজারল্যান্ড ও ইংল্যান্ডে গিয়ে লেখা-পড়া করেছেন।

১৯৩৬ সালে তার মা কমলা নেহরু মারা যান। আর বাবা নেহরু প্রায় সময়ই রাজনৈতিক কার্যক্রম নিয়ে ছিলেন ব্যস্ত। কখনো কখনো দীর্ঘসময় ছিলেন কারাগারে। তাই শৈশবে বাবার সান্নিধ্য পেয়েছেন খুব কম। তবে বাবা নেহরু যেখানেই থাকেন না কেন, মেয়ের সঙ্গে চিঠির মাধ্যমে ঠিকই যোগাযোগ রাখতেন। তাই শৈশব থেকেই বাবার রাজনৈতিক আদর্শ দ্বারা তিনি প্রভাবিত হয়েছিলেন। ১৯৪২ সালে ইন্ধিরা গান্ধী তার পারিবারিক বন্ধু ফিরোজ গান্ধীকে বিয়ে করেন।

১৯৪৭ সালে নেহরু ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী হলে তার একান্ত সহকারীর দায়িত্ব পান ইন্ধিরা গান্ধী। ১৯৫৯ সালে তিনি ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের সভাপতি নির্বাচিত হন। ১৯৬৪ সালে বাবার মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি নেহরুর প্রতিনিধি হিসেবে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক সভায় অংশ নেন। এর ফলেই তার রাজনৈতিক জ্ঞান ও দক্ষতা বিকাশ লাভ করে।

জওহরলাল নেহরুর মৃত্যুর পর ভারতের প্রধানমন্ত্রী হন লালবাহাদুর শাস্ত্রী। এসময় ইন্ধিরা গান্ধী ভারতের সংসদের উচ্চ কক্ষ রাজ্যসভার সদস্য নির্বাচিত হন এবং শাস্ত্রীর মন্ত্রীসভার তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী নিযুক্ত হন।

১৯৬৬ সালে লালবাহাদুর শাস্ত্রী মারা যান। তার মৃত্যুর পর প্রতিদ্বন্দ্বী মুরার্জি দেশাইকে পরাজিত করে ইন্ধিরা গান্ধী ভারতের প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তিনি রাজনৈতিক দৃঢ়তা ও ক্ষমতার অভূতপূর্ব কেন্দ্রীকরণের জন্য বেশ পরিচিতি লাভ করেন।

তবে তার সবচেয়ে বড় সফলতা হল ১৯৭১ সালে পাকিস্তানের সঙ্গে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে তিনি বাংলাদেশকে সর্বাত্মক সহযোগিতা দিয়েছিলেন। এর ফলেই তিনি একজন বিশ্বনেতা হিসেবে আবির্ভূত হন।

মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে বাংলাদেশ থেকে প্রায় এক কোটি শরণার্থী ভারতে আশ্রয় নেয়। ১৯৭১ সালের ১৭ মে ইন্ধিরা গান্ধী পশ্চিমবঙ্গ আসেন এবং লাখ লাখ শরণার্থীকে সব ধরনের সাহায্য দেয়ার জন্য রাজ্য সরকারকে নির্দেশ দেন। ‘তারা সবাই ঈশ্বরের সন্তান’ শীর্ষক এক বইয়ে মাদার তেরেসা ইন্ধিরা গান্ধীর এ কাজকে যিশু খ্রিস্টের কাজের সঙ্গে তুলনা করেছেন।

১৯৭১ সালের ১৩ এপ্রিল তিনি বিশ্ব নেতাদের উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘পূর্ব বাংলায় যা ঘটছে, তাতে ভারত সরকার নীরব থাকতে পারে না’। মুক্তিযোদ্ধাদের সহযোগিতা ও প্রশিক্ষণের জন্য তিনি ১৯৭১ সালের ৩০ এপ্রিল ভারতীয় সেনাবাহিনীকে দায়িত্ব দেন। এছাড়া পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর নারকীয় হত্যাযজ্ঞ বিশ্ব দরবারে তুলে ধরতে তিনি রাশিয়াসহ বিভিন্ন দেশ সফর করেছেন। তার চেষ্টায় বাংলাদেশ যুদ্ধে বিশ্ব সম্প্রদায়ের সহানুভূতি ও সমর্থন আদায়ে সক্ষম হয়।

স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের জন্য একটি ট্রান্সমিটার বরাদ্দ করেন তিনি। তার নির্দেশেই ১৯৭১ সালের ২১ নভেম্বর ভারতীয় সেনাবাহিনী ও বাংলাদেশের মুক্তিবাহিনী মিলে যৌথবাহিনী গঠন করা হয়। মুক্তিযুদ্ধে ভারতের এই সরাসরি অংশগ্রহণের ফলে অল্প কিছু দিনের মধ্যেই বাংলাদেশ স্বাধীনতা লাভ করে।

১৯৭৫ সালে তার বিরুদ্ধে অবৈধ নির্বাচনী কার্যক্রমের অভিযোগ এনে রায় দেয় এলাহাবাদ হাইকোর্ট। এতে ভারতে রাজনৈতিক সংকট তৈরি হলে তিনি জরুরী অবস্থা জারি করেন। ১৯৭৭ সালে জরুরী অবস্থার অবসান হয় এবং সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এ নির্বাচনে তিনি পরাজিত হন।

১৯৭৮ সালে দুর্নীতির অভিযোগে তাকে কারাগারে যেতে হয়। তবে ১৯৮০ সালের নির্বাচনে তিনি পুনরায় প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন। এই সময় থেকে পাঞ্জাবে শিখ বিচ্ছিন্নতাবাদীদের উত্থান ঘটে। ১৯৮৪ সালে শিখদের দমনে অমৃতসারের স্বর্ণ মন্দিরে তিনি অভিযানের নির্দেশ দেন। এ ঘটনায় ব্যাপক হতাহতের ঘটনা ঘটে। ফলে ১৯৮৪ সালের ৩১ অক্টোবর দুই শিখ দেহরক্ষীর গুলিতে মারা যান ইন্ধিরা গান্ধী।

ইন্ধিরা গান্ধীর মৃত্যুর পর ক্ষমতায় আসেন তার ছেলে রাজীব গান্ধী। ১৯৭১ সালে ইন্ধিরা গান্ধী ভারতের সর্বোচ্চ সম্মাননা ‘ভারত রত্ন’ খেতাবে ভূষিত হন। ১৯৯৯ সালে বিবিসির অনলাইন জরিপে তিনি ‘উইমেন অফ দ্য মিলেনিয়াম’ নির্বাচিত হন।

মুক্তিযুদ্ধে অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ ২০১১ সালে ইন্ধিরা গান্ধীকে (মরণোত্তর) স্বাধীনতার সর্বোচ্চ পুরস্কার ‘বাংলাদেশ স্বাধীনতা সম্মাননা’ প্রদান করে বাংলাদেশ সরকার। বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদানের জন্য তাকে যুগ যুগ ধরে স্মরণ করবে বাংলার মাটি ও মানুষ।

 

টাইমস/এএইচ/জিএস

সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নেবে না ঢাবি

সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নেবে না ঢাবি

বুয়েটের পর এবার ইউজিসির প্রস্তাবিত সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ না

যেসব কারণে আত্মহত্যার পথ বেছে নেন সালমান শাহ

যেসব কারণে আত্মহত্যার পথ বেছে নেন সালমান শাহ

জনপ্রিয় নায়ক সালমান শাহ’র আত্মহত্যার পাঁচ কারণ জানালেন পুলিশ ব্যুরো

পাপিয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্টদেরও বিচার করা হবে : কাদের

পাপিয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্টদেরও বিচার করা হবে : কাদের

সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, পাপিয়ার অপরাধের জন্য

জাতীয়

অপরাধের দায় নেবে না দল: ১৫ দিনের রিমান্ডে পাপিয়া

অপরাধের দায় নেবে না দল: ১৫ দিনের রিমান্ডে পাপিয়া

অস্ত্র ও মাদক আইনের মামলায় গ্রেপ্তার নরসিংদী জেলা যুব মহিলা লীগের সাধারণ সম্পাদক শামিমা নুর পাপিয়ার অপরাধ কর্মের দায় তার ব্যক্তিগত। পাপিয়ার এসব অপকর্মের দায় কোনো ভাবেই দল নেবে না বলে জানিয়েছেন যুব মহিলা লীগের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক অপু উকিল।

আন্তর্জাতিক

সিএএ বিরোধী বিক্ষোভে উত্তাল দিল্লি: এক পুলিশ নিহত

সিএএ বিরোধী বিক্ষোভে উত্তাল দিল্লি: এক পুলিশ নিহত

ভারতের সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন (সিএএ) নিয়ে ফের উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে রাজধানী দিল্লি। সোমবার রাজধানীর উত্তর-পূর্ব জাফরাবাদের গোকুলপুরি, মৌজপুর এবং ভজনপুরা এলাকায় সিএএ বিরোধী বিক্ষোভ শুরু হয়। বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে সংঘর্ষে পুলিশের এক কনস্টেবল নিহত হয়েছেন।

বিনোদন

হত্যা নয়, আত্মহত্যা করেছিলেন সালমান শাহ: পিবিআই

হত্যা নয়, আত্মহত্যা করেছিলেন সালমান শাহ: পিবিআই

ঢালিউডের জনপ্রিয় চিত্রনায়ক সালমান শাহ’র মৃত্যুর ঘটনাটি হত্যা নয়। তিনি আত্মহত্যা করেছিলেন। পারিবারিক কলহের জেরে এই পথ বেছে নিয়েছিলেন সালমান শাহ।

আন্তর্জাতিক

গুঞ্জনের মধ্যেই মাহাথিরের পদত্যাগ

গুঞ্জনের মধ্যেই মাহাথিরের পদত্যাগ

মালয়েশিয়ায় নতুন সরকারি জোট গঠন করা হবে এমন গুঞ্জনের মধ্যেই পদত্যাগ করলেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মোহাম্মদ।

জাতীয়

রংপুরে মহাসড়কের ওপর পড়ে ছিল যুবকের বিবস্ত্র লাশ   

রংপুরে মহাসড়কের ওপর পড়ে ছিল যুবকের বিবস্ত্র লাশ  

রংপুরে মহাসড়কের ওপর থেকে বিবস্ত্র অবস্থায় অজ্ঞাত এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সোমবার সকালে নগরীর উত্তম পুরাতন বেতারপাড়া সংলগ্ন রংপুর-দিনাজপুর মহাসড়কের ওপর থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।

স্বাস্থ্য

ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে পর্যাপ্ত ঘুম অপরিহার্য

ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে পর্যাপ্ত ঘুম অপরিহার্য

সুস্বাস্থ্যের জন্য ঘুম অপরিহার্য। আর অপর্যাপ্ত ঘুম বেশ কয়েকটি স্বাস্থ্য সমস্যার কারণ। কিন্তু আপনি কি জানেন যে, অপর্যাপ্ত ঘুম আপনার দেহের গ্লুকোজ নিয়ন্ত্রণ ও বিপাকীয়করণের ক্ষমতাকেও প্রভাবিত করতে পারে? সাধারণত যারা রাতে ঠিকমতো ঘুমায় না তাদের বেশিরভাগের রক্তে শর্করার মাত্রা বেড়ে যায়।