• ঢাকা, বাংলাদেশ
  • বৃহস্পতিবার, ০২ জুলাই ২০২০, ১৮ আষাঢ় ১৪২৭

শিশুদের শুধু পড় পড় বলা যাবে না: প্রধানমন্ত্রী

শিশুদের শুধু পড় পড় বলা যাবে না: প্রধানমন্ত্রী

সেন্ট্রাল ডেস্ক১৩ মার্চ ২০১৯, ০৪:৫৭পিএম, ঢাকা-বাংলাদেশ।

শিশুদের পড়াশোনার জন্য অতিরিক্ত চাপ না দিতে অভিভাবক, শিক্ষকসহ সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

তিনি বলেন, ‘প্রাথমিক শিক্ষার ক্ষেত্রে আমি এটুকুই বলব, কোনো মতেই যেন কোমলমতি শিশুদের অতিরিক্ত চাপ না দেয়া হয়। তাহলেই দেখবেন তারা ভেতরে একটা আলাদা শক্তি পাবে। আর তাদের শিক্ষার ভীতটা শক্তভাবে তৈরি হবে।’

কোমলমতি বয়সে লেখাপড়ার কঠোর শৃঙ্খলে আবদ্ধ করাকে তিনি ‘এক ধরনের মানসিক অত্যাচার’ বলে অভিহিত করে বলেন,‘শিশুরা প্রথমে স্কুলে যাবে এবং হাসি খেলার মধ্য দিয়েই লেখাপড়া করবে। তারা তো আগে থেকেই পড়ে আসবে না, পড়ালেখা শিখতেই তো সে স্কুলে যাবে।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বুধবার সকালে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে প্রাথমিক শিক্ষা সপ্তাহ-২০১৯ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে তিনি লেখাপড়ার পাশাপাশি খেলাধুলা এবং সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে শিক্ষার্থীদের বেশি বেশি সম্পৃক্ত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নির্দেশ দেন।

প্রধানমন্ত্রী শিশুদের পাঠদান সম্পর্কে নিজস্ব অভিব্যক্তি সকলের সঙ্গে ভাগাভাগি করতে গিয়ে বলেন,‘পৃথিবীর অনেক দেশেই ৭ বছরের আগে শিশুদের স্কুলে পাঠায় না। কিন্তু আমাদের দেশে অনেক ছোটবেলা থেকেই বাচ্চারা স্কুলে যায়। কিন্তু তারা যেন হাসতে খেলতে মজা করতে করতে পড়াশোনাটাকে নিজের মত করে করতে পারে সেই ব্যবস্থাটাই করা উচিত।

সেখানে অনবরত ‘পড়’,‘পড়’,‘পড়’ বলাটা বা ধমক দেয়াটা বা আরো বেশি চাপ দিলে শিক্ষার ওপর তাদের আগ্রহটা কমে যাবে, একটা ভীতির সৃষ্টি হবে,বলেন তিনি।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘শিক্ষার প্রতি সেই ভীতিটা যেন সৃষ্টি না হয়, সেজন্য আমি আমাদের শিক্ষক এবং অভিভাবকদেরকে অনুরোধ করব।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘অনেক সময় আমরা দেখি প্রতিযোগিতাটা শিশুদের মধ্যে না হলেও বাবা-মায়ের মধ্যে একটু বেশি হয়ে যায়। এটাকেও আমি একটি অসুস্থ প্রতিযোগিতা বলে মনে করি।’

তিনি বলেন, সকল শিক্ষার্থীর সমান মেধা থাকবে না এবং সকলেই সবকিছু একরকম করায়াত্ত করতে পারবে না। তবে, যার যেটি যেভাবে সহজাতভাবে আসবে তাকে সেটি গ্রহণ করার সুযোগ দেওয়া যেন শিক্ষাটাকে সে আপন করে নিয়ে সে শিখতে পারে।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী মো. জাকির হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আকরাম আল হোসেন স্বাগত বক্তৃতা করেন।

প্রধানমন্ত্রী অনুষ্ঠানে ‘প্রাথমিক শিক্ষা পদক’ বিতরণ করেন এবং বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন।

অনুষ্ঠানে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকাণ্ডের ওপর একটি ভিডিও চিত্রও প্রদর্শিত হয়।

প্রাথমিক শিক্ষাটা যেন আরো উন্নত এবং মান সম্মত হয় তার প্রতি দৃষ্টি রাখছে তার সরকার উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সকল শিশুর মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ২০১৮-২০২৩ মেয়াদের জন্য ৩৮ হাজার ৩৯৭ কোটি টাকার চতুর্থ প্রাথমিক শিক্ষা কর্মসূচি বাস্তবায়িত হচ্ছে।’

শিক্ষার ক্ষেত্রে অর্থ ব্যয়ে সরকারের কোন কার্পণ্য নেই উল্লেখ করে তিনি তার সরকারের শিশু কল্যাণ ট্রাস্টের কল্যাণমূলক কার্যক্রমও আলোচনায় তুলে আনেন।

তিনি বলেন,‘শিশু কল্যাণ প্রাথমিক বিদ্যালয় চালু, ঝড়েপড়া রোধকল্পে বিভিন্ন স্থানে বিনামূল্যে স্কুলের পোশাকসহ সকল শিক্ষা উপকরণ প্রদান, শিক্ষা ভাতা ও ক্ষেত্র বিশেষে পরীক্ষার ফি প্রদান করাসহ ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর জন্য তাদের নিজেদের ভাষায় শিক্ষা প্রদানের উদ্যোগ এবং অন্ধদের জন্য ব্রেইল বই এবং শ্রবণ প্রতিবন্ধীদের জন্যও বই প্রদান ও হেয়ারিং এইড প্রদানের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।’

প্রধানমন্ত্রী লেখাপড়ার পাশাপাশি খেলাধুলা এবং সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে শিক্ষার্থীদের বেশি বেশি সম্পৃক্ত করার আহবান জানিয়ে বলেন, তার সরকার এ জন্য প্রত্যেক উপজেলায় একটি করে মিনি স্টেডিয়াম করে দিচ্ছে।

তিনি বলেন, পর্যায়ক্রমে শিশু-কিশোরদের মানসিক বিকাশের জন্য এই মিনি স্টেডিয়াম ইউনিয়ন পর্যায়েও করে দেয়ার উদ্যোগ নেয়া হবে।

এসব স্টেডিয়ামগুলোতে সারা বছরই যেন বিভিন্ন প্রতিযোগিতা ও খেলাধুলার আয়োজন থাকে সেদিকে দৃষ্টি দেয়ার জন্যও তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষতে আহ্বান জানান।

এ সময় প্রতিটি স্কুলে ধর্মীয় শিক্ষা এবং সাংস্কৃতিক চর্চায় তার সরকার উদ্যোগ গ্রহণ করছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এভাবেই শিক্ষাকে আমরা সার্বজনীন ও বহুমুখী করে দিচ্ছি।’

 

 

টাইমস/এসআই

সর্বোচ্চ শনাক্তের দিনে আক্রান্ত ছাড়াল দেড় লাখ

সর্বোচ্চ শনাক্তের দিনে আক্রান্ত ছাড়াল দেড় লাখ

দেশে প্রতিদিনই বেড়ে চলছে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা। দেশে

‘হীনমন্যতায় প্রতি রাতেই কেঁদেছি, অবশেষে পররাষ্ট্র ক্যাডার’

‘হীনমন্যতায় প্রতি রাতেই কেঁদেছি, অবশেষে পররাষ্ট্র ক্যাডার’

আমি সফল কেউ নই। অন্তত এখনো নই। তাই সফলতার গাঁথা

হুছাইন মুহাম্মদের সফল হওয়ার গল্প

হুছাইন মুহাম্মদের সফল হওয়ার গল্প

হুছাইন মুহাম্মদ। ৩৮ তম বিসিএসে প্রশাসন ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন। মেধাক্রম

চাকরি

উপহাস জয় করে কোচিং ছাড়াই বিসিএস ক্যাডার ইডেন ছাত্রী!

উপহাস জয় করে কোচিং ছাড়াই বিসিএস ক্যাডার ইডেন ছাত্রী!

তৃপ্তি অনার্স পাস করেছেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে। এজন্য তাকে অবজ্ঞা ও উপহাস করা হত। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ে কিছুই করা যায় না।

চাকরি

৩৮তম বিসিএসে পুলিশ ক্যাডারে ১৭তম বুয়েটের সনদ বড়ুয়া

৩৮তম বিসিএসে পুলিশ ক্যাডারে ১৭তম বুয়েটের সনদ বড়ুয়া

চট্টগ্রাম কলেজিয়েট স্কুল থেকে এসএসসি পাস করার পর ভর্তি হন চট্টগ্রাম কলজে। সেখানেও কৃতিত্বের সঙ্গে এইচএসসি পাস করেন তিনি।

স্বাস্থ্য

এবার করোনায় হলি ফ্যামিলি মেডিকেল চিকিৎসকের মৃত্যু

এবার করোনায় হলি ফ্যামিলি মেডিকেল চিকিৎসকের মৃত্যু

প্রাণঘাতি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে আরও এক চিকিৎসকের মৃত্যু হয়েছে। তিনি হলেন হলি ফ্যামিলি রেড ক্রিসেন্ট মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের

চাকরি

সংসার সামলে প্রথম বিসিএসেই এএসপি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রী!

সংসার সামলে প্রথম বিসিএসেই এএসপি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রী!

নুসরাত ইয়াছমিন তিসা। পড়াশোনা করেছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগে। দ্বিতীয় বর্ষেই তাকে বিয়ে দিয়ে দেয়া হয়।

চাকরি

শাবিতে পড়াশোনা, একসঙ্গে বিসিএস ক্যাডার হওয়ার গল্প দুই বোনের

শাবিতে পড়াশোনা, একসঙ্গে বিসিএস ক্যাডার হওয়ার গল্প দুই বোনের

ফাতেমাতুজ জুহরা চাঁদনী ও সাদিয়া আফরিন তারিন পড়াশোনা করেছেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে। ৩৮তম বিসিএসে তারা দুই বোনই

স্বাস্থ্য

স্ট্রেস আমাদের দেহের প্রতিরোধ ব্যবস্থা ধ্বংস করে দিতে পারে

স্ট্রেস আমাদের দেহের প্রতিরোধ ব্যবস্থা ধ্বংস করে দিতে পারে

স্ট্রেস মানব জীবনের অঙ্গ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ক্যারিয়ার বা কাজের চাপ থেকে শুরু করে ব্যক্তিগত-সামাজিক ইস্যু, হালের মহামারীসহ একাধিক কারণে স্ট্রেস বা মানসিক চাপ সৃষ্টি হতে পারে। স্ট্রেস বা মানসিক চাপ নানাভাবে আমাদের দেহের উপর বিরূপ প্রভাব ফেলে। তবে, অনেকে স্ট্রেসের নেতিবাচক প্রভাব সম্পর্কে সচেতন নয়, ফলে সময়মতো প্রতিকার বা চিকিৎসা গ্রহণ করেন না।