• ঢাকা, বাংলাদেশ
  • সোমবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১ আশ্বিন ১৪২৬

ইন্ধিরা গান্ধী: বাংলাদেশের এক পরম বন্ধু

ইন্ধিরা গান্ধী: বাংলাদেশের এক পরম বন্ধু

ফিচার ডেস্ক২৩ ডিসেম্বর ২০১৮, ০৯:৩৩এএম, ঢাকা-বাংলাদেশ।

ইন্ধিরা গান্ধী। ভারতের একজন প্রখ্যাত রাজনীতিবিদ, রাষ্ট্রনেতা ও ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের কেন্দ্রীয় নেতা। তিনি ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরুর মেয়ে এবং ভারতের তৃতীয় প্রধানমন্ত্রী। তিনিই বিশ্বের বৃহত্তম গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ভারতের প্রথম ও একমাত্র নারী প্রধানমন্ত্রী।

১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় ইন্ধিরা গান্ধী ছিলেন বাংলাদেশের এক পরম বন্ধু। তিনি ১৯১৭ সালের ১৯ নভেম্বর ভারতের এলাহাবাদে জন্মগ্রহণ করেন। শৈশবে তিনি ছিলেন এক অদম্য মেধাবী শিক্ষার্থী। ১৯৩৪ সালে মেট্রিকুলেশন পাশ করেন। পরে বিভিন্ন সময় সুইজারল্যান্ড ও ইংল্যান্ডে গিয়ে লেখা-পড়া করেছেন।

১৯৩৬ সালে তার মা কমলা নেহরু মারা যান। আর বাবা নেহরু প্রায় সময়ই রাজনৈতিক কার্যক্রম নিয়ে ছিলেন ব্যস্ত। কখনো কখনো দীর্ঘসময় ছিলেন কারাগারে। তাই শৈশবে বাবার সান্নিধ্য পেয়েছেন খুব কম। তবে বাবা নেহরু যেখানেই থাকেন না কেন, মেয়ের সঙ্গে চিঠির মাধ্যমে ঠিকই যোগাযোগ রাখতেন। তাই শৈশব থেকেই বাবার রাজনৈতিক আদর্শ দ্বারা তিনি প্রভাবিত হয়েছিলেন। ১৯৪২ সালে ইন্ধিরা গান্ধী তার পারিবারিক বন্ধু ফিরোজ গান্ধীকে বিয়ে করেন।

১৯৪৭ সালে নেহরু ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী হলে তার একান্ত সহকারীর দায়িত্ব পান ইন্ধিরা গান্ধী। ১৯৫৯ সালে তিনি ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের সভাপতি নির্বাচিত হন। ১৯৬৪ সালে বাবার মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি নেহরুর প্রতিনিধি হিসেবে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক সভায় অংশ নেন। এর ফলেই তার রাজনৈতিক জ্ঞান ও দক্ষতা বিকাশ লাভ করে।

জওহরলাল নেহরুর মৃত্যুর পর ভারতের প্রধানমন্ত্রী হন লালবাহাদুর শাস্ত্রী। এসময় ইন্ধিরা গান্ধী ভারতের সংসদের উচ্চ কক্ষ রাজ্যসভার সদস্য নির্বাচিত হন এবং শাস্ত্রীর মন্ত্রীসভার তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী নিযুক্ত হন।

১৯৬৬ সালে লালবাহাদুর শাস্ত্রী মারা যান। তার মৃত্যুর পর প্রতিদ্বন্দ্বী মুরার্জি দেশাইকে পরাজিত করে ইন্ধিরা গান্ধী ভারতের প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তিনি রাজনৈতিক দৃঢ়তা ও ক্ষমতার অভূতপূর্ব কেন্দ্রীকরণের জন্য বেশ পরিচিতি লাভ করেন।

তবে তার সবচেয়ে বড় সফলতা হল ১৯৭১ সালে পাকিস্তানের সঙ্গে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে তিনি বাংলাদেশকে সর্বাত্মক সহযোগিতা দিয়েছিলেন। এর ফলেই তিনি একজন বিশ্বনেতা হিসেবে আবির্ভূত হন।

মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে বাংলাদেশ থেকে প্রায় এক কোটি শরণার্থী ভারতে আশ্রয় নেয়। ১৯৭১ সালের ১৭ মে ইন্ধিরা গান্ধী পশ্চিমবঙ্গ আসেন এবং লাখ লাখ শরণার্থীকে সব ধরনের সাহায্য দেয়ার জন্য রাজ্য সরকারকে নির্দেশ দেন। ‘তারা সবাই ঈশ্বরের সন্তান’ শীর্ষক এক বইয়ে মাদার তেরেসা ইন্ধিরা গান্ধীর এ কাজকে যিশু খ্রিস্টের কাজের সঙ্গে তুলনা করেছেন।

১৯৭১ সালের ১৩ এপ্রিল তিনি বিশ্ব নেতাদের উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘পূর্ব বাংলায় যা ঘটছে, তাতে ভারত সরকার নীরব থাকতে পারে না’। মুক্তিযোদ্ধাদের সহযোগিতা ও প্রশিক্ষণের জন্য তিনি ১৯৭১ সালের ৩০ এপ্রিল ভারতীয় সেনাবাহিনীকে দায়িত্ব দেন। এছাড়া পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর নারকীয় হত্যাযজ্ঞ বিশ্ব দরবারে তুলে ধরতে তিনি রাশিয়াসহ বিভিন্ন দেশ সফর করেছেন। তার চেষ্টায় বাংলাদেশ যুদ্ধে বিশ্ব সম্প্রদায়ের সহানুভূতি ও সমর্থন আদায়ে সক্ষম হয়।

স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের জন্য একটি ট্রান্সমিটার বরাদ্দ করেন তিনি। তার নির্দেশেই ১৯৭১ সালের ২১ নভেম্বর ভারতীয় সেনাবাহিনী ও বাংলাদেশের মুক্তিবাহিনী মিলে যৌথবাহিনী গঠন করা হয়। মুক্তিযুদ্ধে ভারতের এই সরাসরি অংশগ্রহণের ফলে অল্প কিছু দিনের মধ্যেই বাংলাদেশ স্বাধীনতা লাভ করে।

১৯৭৫ সালে তার বিরুদ্ধে অবৈধ নির্বাচনী কার্যক্রমের অভিযোগ এনে রায় দেয় এলাহাবাদ হাইকোর্ট। এতে ভারতে রাজনৈতিক সংকট তৈরি হলে তিনি জরুরী অবস্থা জারি করেন। ১৯৭৭ সালে জরুরী অবস্থার অবসান হয় এবং সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এ নির্বাচনে তিনি পরাজিত হন।

১৯৭৮ সালে দুর্নীতির অভিযোগে তাকে কারাগারে যেতে হয়। তবে ১৯৮০ সালের নির্বাচনে তিনি পুনরায় প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন। এই সময় থেকে পাঞ্জাবে শিখ বিচ্ছিন্নতাবাদীদের উত্থান ঘটে। ১৯৮৪ সালে শিখদের দমনে অমৃতসারের স্বর্ণ মন্দিরে তিনি অভিযানের নির্দেশ দেন। এ ঘটনায় ব্যাপক হতাহতের ঘটনা ঘটে। ফলে ১৯৮৪ সালের ৩১ অক্টোবর দুই শিখ দেহরক্ষীর গুলিতে মারা যান ইন্ধিরা গান্ধী।

ইন্ধিরা গান্ধীর মৃত্যুর পর ক্ষমতায় আসেন তার ছেলে রাজীব গান্ধী। ১৯৭১ সালে ইন্ধিরা গান্ধী ভারতের সর্বোচ্চ সম্মাননা ‘ভারত রত্ন’ খেতাবে ভূষিত হন। ১৯৯৯ সালে বিবিসির অনলাইন জরিপে তিনি ‘উইমেন অফ দ্য মিলেনিয়াম’ নির্বাচিত হন।

মুক্তিযুদ্ধে অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ ২০১১ সালে ইন্ধিরা গান্ধীকে (মরণোত্তর) স্বাধীনতার সর্বোচ্চ পুরস্কার ‘বাংলাদেশ স্বাধীনতা সম্মাননা’ প্রদান করে বাংলাদেশ সরকার। বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদানের জন্য তাকে যুগ যুগ ধরে স্মরণ করবে বাংলার মাটি ও মানুষ।

 

টাইমস/এএইচ/জিএস

জাবির প্রক্টর ও অন্তরের অডিওতে যা আছে...

জাবির প্রক্টর ও অন্তরের অডিওতে যা আছে...

সদ্য ফাঁস হওয়া অডিও বার্তায় জাবির প্রক্টর ফিরোজ-উল-আলম ও বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সহ সভাপতি হামজা রহমান অন্তরের কথোপকথন রয়েছে। হামজা নিজেই এই ফোনালাপ ফাঁস করেন। এ ব্যাপারে আগে থেকে জানিয়েছিলেনও তিনি। ফলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে কৌতূহলের সৃষ্টি হয়।

ঢাবি সিনেট থেকে অব্যাহতি চেয়ে শোভনের চিঠি

ঢাবি সিনেট থেকে অব্যাহতি চেয়ে শোভনের চিঠি

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) সিনেটের ছাত্র প্রতিনিধি থেকে নিজের নাম প্রত্যাহার চেয়ে উপাচার্য বরাবর চিঠি দিয়েছেন ছাত্রলীগের সদ্য সাবেক সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন।

জাবির সেই চাঁদার টাকা হয় হরিলুট, অন্তরের খোলা চিঠি

জাবির সেই চাঁদার টাকা হয় হরিলুট, অন্তরের খোলা চিঠি

কথপোকথনের এক পর্যায়ে হামজা রহমান অন্তরকে বলতে শোনা যায়, ক্যাম্পাসের ৪৪-৪৫ ব্যাচ পর্যন্ত টাকা পাইছে, আমি এটা গোপন রাখার কী আছে স্যার?....স্যার আপনি যদি চান, আমি আপনাকে প্রমাণ দেখাতে পারবো, ৪৪-৪৫ ব্যাচও টাকা পাইছে।

জাতীয়

প্রাথমিকে শিক্ষকপদে উত্তীর্ণদের যা করতে হবে

প্রাথমিকে শিক্ষকপদে উত্তীর্ণদের যা করতে হবে

উত্তীর্ণ প্রার্থীগণকে অনলাইনে আবেদনের আপলোডকৃত ছবি, আবেদনের কপি,লিখিত পরীক্ষার প্রবেশপত্র,নাগরিকত্ব সনদ এবং শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদপত্রসহ মুক্তিযোদ্ধা সনদ,মুক্তিযোদ্ধার সাথে সম্পর্ক সনদ,প্রযোজ্য ক্ষেত্রে এতিম সংক্রান্ত সনদ ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র কমপক্ষে ৯ম গ্রেডের গেজেটেড কর্মকর্তা কর্তৃক সত্যায়িত করে আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর-২০১৯ অফিস চলাকালে নিজ নিজ জেলায় জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে জমা দিয়ে স্বীকারপত্র সংগ্রহ করতে হবে।

রাজনীতি

ক্ষমা চেয়ে ফেসবুকে গোলাম রাব্বানীর স্ট্যাটাস   

ক্ষমা চেয়ে ফেসবুকে গোলাম রাব্বানীর স্ট্যাটাস  

চাঁদাবাজিসহ নানা অনিয়মের দায়ে ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদকের পদ থেকে বরখাস্ত হওয়া গোলাম রাব্বানী নিজের কৃতকর্মের জন্য অনুতপ্ত হয়ে কাছে ক্ষমা চেয়েছেন। সোমবার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেয়া স্ট্যাটাসে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের কাছে ক্ষমা চান রাব্বানী। পোস্টে নিজের ভুলত্রুটির জন্য অনুতপ্ত বলে উল্লেখ করেছেন ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক।

খেলাধুলা

সৌম্যসহ চারজন বাদ, ফিরেছেন রুবেল-শফিউল

সৌম্যসহ চারজন বাদ, ফিরেছেন রুবেল-শফিউল

ত্রিদেশীয় টি-টোয়েন্টি সিরিজের শেষ দুটি ম্যাচের জন্য দল ঘোষণা করেছে বিসিবি। তাতে সৌম্য সরকারসহ চারজন দল থেকে বাদ পড়েছেন। আর নতুন করে দল অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন পাঁচজন। বাদ পড়াদের মধ্যে সৌম্য সরকার ছাড়াও রয়েছেন মেহেদী হাসান, ইয়াসিন মিশু ও আবু হায়দার রনি।

জাতীয়

ডেঙ্গু জ্বরে খুলনা মেডিকেলে আট মাসের শিশুর মৃত্যু

ডেঙ্গু জ্বরে খুলনা মেডিকেলে আট মাসের শিশুর মৃত্যু

ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে খুলনা মেডিকেল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালে রাফিত নামে আট মাসের এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। রোববার রাত ১২টার দিকে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শিশুটি মারা যায়।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি

এফআরবিস শনাক্ত: সত্যিই কি ভিনগ্রহীরা সংকেত পাঠাচ্ছে?

এফআরবিস শনাক্ত: সত্যিই কি ভিনগ্রহীরা সংকেত পাঠাচ্ছে?

হলিউড সিনেমা বা সাইন্সফিকশন গল্পে প্রায়ই এলিয়েনের দেখা মেলে। তবে পৃথিবীর বাইরে সত্যিই প্রাণের অস্তিত্ব আছে কিনা, সে এক অজানা রহস্য। এই রহস্য সমাধানে বিজ্ঞানীরা দীর্ঘদিন ধরে গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছেন।

স্বাস্থ্য

মনোযোগ বৃদ্ধি করে যেসব খাবার

মনোযোগ বৃদ্ধি করে যেসব খাবার

অস্বীকার করার উপায় নেই যে আমরা যখন বৃদ্ধ হয়ে যাই, সঙ্গে সঙ্গে আমাদের দেহও বার্ধক্যে উপনীত হয়। তবে, আনন্দের খবর হলো একটু হিসেব করে দৈনন্দিন জীবনের খাদ্যাভাস নির্বাচন করলে আমরা নিজেদের মস্তিষ্ক সুস্থ রাখতে পারি।