শান্তিরক্ষী বাহিনীর প্রয়োজন হলে গাজায় সেনা পাঠাতে প্রস্তুত ইতালি

গাজায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের যুদ্ধবিরতি পরিকল্পনার প্রথম পর্যায়ের চুক্তিকে স্বাগত জানিয়েছেন ইতালির পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং বলেছেন, শান্তিরক্ষী বাহিনীর প্রয়োজন হলে দেশটি গাজায় সেনা পাঠাতে প্রস্তুত।

শুক্রবার সোশ্যাল মিডিয়া ওয়েবসাইট এক্স-এ আন্তোনিও তাজানি বলেন, ‘শান্তি নিকটে।’ তিনি আরো বলেন, ‘ইতালি সর্বদা মার্কিন পরিকল্পনাকে সমর্থন করে আসছে। যুদ্ধবিরতি সুসংহত করতে, নতুন মানবিক সহায়তা প্রদান করতে এবং গাজার পুনর্গঠনে অংশগ্রহণ করতে ইতালি ভূমিকা পালন করতে প্রস্তুত।

ফিলিস্তিনকে পুনরায় একত্রিত করার জন্য যদি একটি আন্তর্জাতিক শান্তিরক্ষী বাহিনী তৈরি করা হয়, তবে আমরা সেনা পাঠাতেও প্রস্তুত।’

যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠার বিষয়ে দুই পক্স হামাস ও ইসরায়েল সম্মত হয়েছে। গতকাল বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এ ঘোষণার পরও গাজায় হামলা অব্যাহত রেখেছে ইসরায়েলি বাহিনী।

গতকাল রাতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নিজ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে এক পোস্টে ঘোষণা দেন, তার ২০ দফা শান্তি পরিকল্পনার প্রথম ধাপ বাস্তবায়নে রাজি হয়েছে হামাস ও ইসরায়েল।

তিনি বলেন, ‘আমি অত্যন্ত গর্বের সঙ্গে ঘোষণা করছি যে ইসরায়েল ও হামাস উভয়ই আমাদের শান্তি পরিকল্পনার প্রথম পর্যায়ের বাস্তবায়নের ব্যাপারে সম্মত হয়েছে।’

এরপর ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসও আজ বৃহস্পতিবার ঘোষণা করেছে, চলতি সপ্তাহে মিসরে ইসরায়েলের সঙ্গে পরোক্ষ আলোচনায় তারা একটি চুক্তিতে পৌঁছেছে। এ চুক্তিতে গাজায় চলমান যুদ্ধের অবসান ঘটানোর কথা বলা হয়েছে।

তবে ট্রাম্পের এ ঘোষণার পরও ইসরায়েলি যুদ্ধবিমানগুলো গাজা নগরীর পশ্চিমাঞ্চলে হামলা করেছে বলে জানিয়েছেন আল-জাজিরার স্থানীয় সাংবাদিকেরা।

বিমান থেকে ফেলা গোলা আল-শাতি শরণার্থীশিবিরের অন্তত একটি বাড়িতে আঘাত হানে।

এদিকে ইসরায়েল গাজার ফিলিস্তিনিদের সতর্ক করে বলেছে, তারা যেন গাজা উপত্যকার উত্তর অংশে ফিরে না যায়। গাজার উত্তরের এলাকা এখনো একটি বিপজ্জনক যুদ্ধক্ষেত্র। এক্সে প্রকাশিত এক পোস্টে ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর মুখপাত্র আভিখাই আদরিয়ি বলেন, ‘আইডিএফ (ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী) এখনো গাজা সিটিকে ঘিরে রেখেছে, যেখানে ফিরে যাওয়া অত্যন্ত বিপজ্জনক।’

তিনি আরো বলেন, ‘নিজেদের নিরাপত্তার জন্য গাজার উত্তরাঞ্চলে ফিরে যাবেন না বা এমন এলাকায় যাবেন না, যেখানে আইডিএফ বাহিনী অবস্থান করছে বা অভিযান চালাচ্ছে।

সেটা গাজা উপত্যকার দক্ষিণ ও পূর্ব অংশসহ যেকোনো স্থানে। শুধু সরকারি নির্দেশনা জারি হওয়ার পরই সেখানে যাওয়া নিরাপদ হবে।’

সূত্র : রযটার্স

এমকে/এসএন

Share this news on:

সর্বশেষ

img
১২ জানুয়ারি: ইতিহাসে এই দিনে আলোচিত যত ঘটনা Jan 12, 2026
img
১২ জানুয়ারি: ইতিহাসে এই দিনের আলোচিত সব ঘটনা Jan 12, 2026
img
ভারতে একের পর এক শুটিং বাতিল, বাংলাদেশের পরিচালকদের নজর কি শ্রীলংকায়? Jan 12, 2026
img
জেনে নিন, দেশের বাজারে আজ কত দামে বিক্রি হচ্ছে স্বর্ণ Jan 12, 2026
img
আশুলিয়ায় লাশ পোড়ানোর মামলায় যুক্তিতর্ক ১৪ জানুয়ারি Jan 12, 2026
img
প্রতিদিন ৪টি ডিম খেলে শরীরে কী হতে পারে? জেনে নিন Jan 12, 2026
img
প্রতিদিন পেয়ারা খাওয়া শরীরের জন্য উপকার নাকি ক্ষতি? জেনে নিন Jan 12, 2026
img
ব্রাদার্স ছাড়ছেন অঞ্জন বিস্তা ও সানিশ শ্রেষ্ঠা, যোগ দিবেন নেপালি লীগে Jan 12, 2026
img
পাকিস্তানে বিয়ে বাড়িতে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণ, প্রাণ গেল নবদম্পতিসহ ৮ জনের Jan 12, 2026
img
হাঁটুর চোটে মৌসুম শেষ লিভারপুল ডিফেন্ডার ব্র্যাডলির Jan 12, 2026
img
ম‍্যানচেস্টার সিটির হয়ে অভিষেকে গোল সেমেনিওর Jan 12, 2026
img
পঞ্চগড়ে লাঠিচার্জে আহতদের দেখতে হাসপাতালে সারজিস আলম Jan 12, 2026
img
পাবনা কারাগারে অসুস্থ আওয়ামী লীগ নেতা প্রলয় চাকী, রামেকে মৃত্যু Jan 12, 2026
img

বাগেরহাট-১ আসন

নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ালেন স্বতন্ত্র প্রার্থী মুশফিক Jan 12, 2026
img
শ্রাবন্তীর নামে হঠাৎ কী বললেন শুভশ্রী? Jan 12, 2026
img

চিফ প্রসিকিউটরকে ট্রাইব্যুনালের প্রশ্ন

নির্বাচন হলে কি আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসবে Jan 12, 2026
img
সালমানের সঙ্গে অভিনয় স্বপ্নপূরণের মতো: চিত্রাঙ্গদা সিং Jan 12, 2026
img
ধর্মান্ধদের ব্যাপারে সতর্ক থাকার আহ্বান খায়রুল কবির খোকনের Jan 12, 2026
img
খালেদা জিয়া অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবেন : কবির আহমেদ Jan 12, 2026
img
আবারও ভারত ও পাকিস্তান সীমান্তে উত্তেজনা Jan 12, 2026