নেপালের প্রথম এভারেস্টজয়ী দলের শেষ জীবিত সদস্য কাঞ্চা শেরপা আর নেই

নেপালের কিংবদন্তি পর্বতারোহী কাঞ্চা শেরপা মারা গেছেন। তিনি বিশ্বের সর্বোচ্চ পর্বত মাউন্ট এভারেস্ট জয়ী প্রথম অভিযাত্রী দলের শেষ জীবিত সদস্য ছিলেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৯২ বছর।

নেপাল মাউন্টেনিয়ারিং অ্যাসোসিয়েশন বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, রাজধানী কাঠমান্ডুর কাপান এলাকায় নিজ বাসভবনে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন কাঞ্চা শেরপা।

সংস্থার সভাপতি ফুর গেলজে শেরপা এক বিবৃতিতে বলেন, ‘আমরা গভীরভাবে শোকাহত। কাঞ্চা শেরপা ছিলেন এক ঐতিহাসিক ও কিংবদন্তি ব্যক্তিত্ব। তার মৃত্যু আমাদের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি।’

কাঞ্চার নাতি তেনজিং চোয়েগ্যাল শেরপা বলেন, ‘দাদার গলায় কিছু সমস্যা ছিল, তবে তার বয়সের তুলনায় বড় কোনো শারীরিক সমস্যা ছিল না।

১৯৫৩ সালে স্যার এডমন্ড হিলারি ও তেনজিং নোরগে যখন প্রথমবারের মতো ৮ হাজার ৮৪৯ মিটার (২৯,০৩২ ফুট) উঁচু এভারেস্টের চূড়ায় পৌঁছান, তখন কাঞ্চা শেরপা ছিলেন তাদের পোর্টার বা সহায়ক দলের একজন। তিনিই ছিলেন সেই তিন শেরপার একজন, যারা হিলারি ও তেনজিংয়ের সঙ্গে ৮ হাজার মিটার উঁচুতে থাকা শেষ ক্যাম্প পর্যন্ত পৌঁছেছিলেন।

১৯৩৩ সালে এভারেস্টের পাদদেশে নামচে গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন কাঞ্চা শেরপা। সে সময় শেরপা জনগোষ্ঠীর বেশিরভাগ মানুষ কৃষিকাজ করতেন।

কাঞ্চা তরুণ বয়সে তিব্বতে আলু বেচে জীবিকা নির্বাহ করতেন। পরে বন্ধুদের সঙ্গে দার্জিলিং গেলে তাকে পাহাড়ে চড়ার প্রশিক্ষণ নিতে উৎসাহিত করা হয়।

১৯৫৩ সালের ঐতিহাসিক অভিযানের পর আরও দুই দশক তিনি হিমালয়ে কাজ চালিয়ে যান। কিন্তু পরে স্ত্রী তাকে বিপজ্জনক এই পেশা ছেড়ে দিতে অনুরোধ করেন। অনেক সহযোদ্ধার মৃত্যু তাকে গভীরভাবে নাড়িয়ে দেয়।

এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, তিনি কখনো চূড়ায় উঠেননি, কারণ তার স্ত্রী কখনো চাননি তিনি চূড়ায় আরোহণ করুক। তিনি সন্তানদেরও এই পেশায় না যেতে অনুরোধ করেন।

বয়সের ভারে নুয়ে পড়লেও কান্ছা শেরপা উদ্বিগ্ন ছিলেন এভারেস্টের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে।

তিনি ২০২৪ সালে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে বলেন, ‘পাহাড় এখন অতিরিক্ত ভিড়ে নষ্ট হচ্ছে। মানুষ দেবতাস্বরূপ এই পর্বতে ধূমপান করে, মাংস খায়, আবর্জনা ফেলে। এটা অসম্মান।’

ন্যাশনাল জিওগ্রাফিকের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রতি মৌসুমে ৬০০-র বেশি মানুষ এভারেস্টে ওঠার চেষ্টা করেন, ফলে পাহাড়ে ভিড় ও দূষণ ভয়াবহ আকার নিয়েছে।

কাঞ্চা শেরপা তখন বলেছিলেন, ‘কোমোলাঙ্গামা (এভারেস্ট) আমাদের কাছে দেবী মায়ের মতো। তাই এর প্রতি সম্মান থাকা উচিত। পাহাড়ে আরোহণের সংখ্যা কমানোই ভালো হবে।’

এমকে/এসএন

Share this news on:

সর্বশেষ

img
ঐক্যবদ্ধ থাকলে কেউ সীমান্ত লঙ্ঘন করতে পারবে না: আদিলুর রহমান খান Jan 17, 2026
img
বাংলাদেশের হাইকমিশনারের সাথে মালদ্বীপ ইমিগ্রেশন কন্ট্রোলার জেনারেলের সাক্ষাৎ Jan 17, 2026
img
নির্বাচনী দায়িত্ব পালনে অনীহা দেখালে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা Jan 17, 2026
img
ভালোবাসা বিলানোর স্মারকস্বরূপ এবার দেবকে বড় স্বীকৃতি ভারতীয় ডাক বিভাগের Jan 17, 2026
img
পাম্প কর্মচারীকে হত্যা, গ্রেপ্তার সুজন যুবদলের কেউ না Jan 17, 2026
img
নৈতিকতাহীন মানুষ দিয়ে দেশ উন্নত করা সম্ভব নয়: ডিএমপি কমিশনার Jan 17, 2026
img
ইসি আইনের বাইরে গিয়ে বড় দলগুলোকে সুবিধা দিচ্ছে : আসিফ মাহমুদ Jan 17, 2026
img
শাশুড়ির কোন পরামর্শে সুখী দাম্পত্য টুইঙ্কল-অক্ষয়ের? ২৫ বছরের বিবাহবার্ষিকীতে সিক্রেট ফাঁস ‘খিলাড়ি’র Jan 17, 2026
img
জনতা ব্যাংকের সাবেক দুই চেয়ারম্যানসহ ১৮ পরিচালককে দুদকে তলব Jan 17, 2026
img
মালদহে মোদির ঝাঁঝালো ভাষায় আক্রমণ, বিজেপির বিরুদ্ধে অভিষেকের পাল্টা অভিযোগ Jan 17, 2026
img
ইন্দোনেশিয়ায় ১১ আরোহীসহ ফ্লাইট নিখোঁজ Jan 17, 2026
img
১৫ বছর দেশ থেকে প্রচুর পরিমাণে অর্থপাচার হয়েছে: পররাষ্ট্র উপদেষ্টা Jan 17, 2026
img
খুলনার ৬টি আসনে ৩৮ জনের মধ্যে নারী প্রার্থী মাত্র ১ জন Jan 17, 2026
img
ভারতের হরিদ্বারে 'হিন্দু না হলে' প্রবেশ নিষেধ Jan 17, 2026
img
গাজা পুনর্গঠনে ‌‘বোর্ড অব পিস’ ঘোষণা ট্রাম্পের Jan 17, 2026
img
মুফতি আমির হামজাকে ঝিনাইদহে অবাঞ্ছিত ঘোষণা Jan 17, 2026
img
২০২৬ বিশ্বকাপে মাত্র ৩৩০ টিকিট কিনতে পারবে বাফুফে Jan 17, 2026
img
বিএনপির কর্মসূচি ঘোষণা Jan 17, 2026
img
নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘন, বিএনপি প্রার্থীকে শোকজ Jan 17, 2026
img
১২৫ রানেই গুটিয়ে গেল রাজশাহী Jan 17, 2026