ভালুকের থেকে বাঁচতে সেনাবাহিনী পাঠানোর অনুরোধ

ভালুকের আক্রমণ থেকে বাঁচতে সরকারের কাছে সেনাবাহিনী পাঠানোর অনুরোধ জানান জাপানের একজন আঞ্চলিক কর্মকর্তা। ভালুকের আক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় আজ মঙ্গলবার ওই কর্মকর্তা সরকারের কাছে এই আরজি জানান।

জাপানের উত্তর আকিতা প্রিফেকচারের গভর্নর কেন্টা সুজুকি জাপানের প্রতিরক্ষামন্ত্রীকে বলেছেন, ‘জাপানের সামরিক বাহিনীর সাহায্য ছাড়া আমাদের নাগরিকদের জীবন রক্ষা করা যাবে না।’ তিনি আরো বলেন, ‘ঘাড় এবং মুখ লক্ষ্য করে ভালুকের আক্রমণ সাধারণ ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে, যার ফলে সত্যিই ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

সুজুকি বলেন, ‘ভালুক এখন শুধু পাহাড়েই নয়, শহরাঞ্চলেও দেখা দিয়েছে। সব বাসিন্দার দৈনন্দিন জীবন এতটা ব্যাহত হওয়া অস্বাভাবিক।’
এ বছর এখন পর্যন্ত ভালুকের আক্রমণে ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে, যা রেকর্ড। একজন সরকারি কর্মকর্তা এএফপিকে নিশ্চিত করেছেন, ২০২৪ সালের মার্চ মাসে শেষ হওয়া অর্থবছরের আগে সর্বোচ্চ ছয়জন নিহত হয়েছিল।

দেশটিতে জনসংখ্যা হ্রাস এবং জলবায়ু পরিবর্তনসহ বিভিন্ন কারণে প্রাণীগুলো ক্রমবর্ধমানভাবে শহরে প্রবেশ করছে। নবনিযুক্ত প্রতিরক্ষামন্ত্রী শিনজিরো কোইজুমি গভর্নর কেন্টা সুজুকি আবেদনের প্রতিক্রিয়ায় বলেছেন, ‘সরকার নিরাপত্তা পুনরুদ্ধারের জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে।’ পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা মঙ্গলবার এএফপিকে নিশ্চিত করেছেন, ‘নিহতদের সংখ্যা ১০ জনে পৌঁছেছে।’

কর্মকর্তা বলেন, গত সপ্তাহে আকিতার একটি পাহাড়ি গ্রামে আরো তিনজনের ওপর সর্বশেষ আক্রমণ হয়।
স্থানীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, সোমবার আকিতার ধানক্ষেতের কাছে একজন নারীর মৃতদেহ পাওয়া গেছে। অন্যদিকে পার্শ্ববর্তী ইওয়াতে অঞ্চলে একজন পুরুষ এবং তার কুকুরটি মৃত অবস্থায় পাওয়া গেছে। উভয়ের শরীরে ভালুকের আক্রমণের লক্ষণ দেখা গেছে। ভালুক পর্যটকদেরও আক্রমণ করেছে, দোকানে প্রবেশ করেছে এবং স্কুল ও পার্কের কাছে দেখা দিয়েছে, বিশেষ করে উত্তরাঞ্চলে।

জাপানে দুই ধরনের ভালুক রয়েছে  এশিয়ান কালো ভালুক, এরা চাঁদের ভালুক নামেও পরিচিত। আরেকটি বড় বাদামি ভালুক, যারা প্রধানত উত্তরের দ্বীপ হোক্কাইডোতে বাস করে। প্রতিবছর জাপানে হাজার হাজার ভালুক গুলি চালিয়ে হত্যা করা হয়।

গত সপ্তাহে জাপানের নতুন পরিবেশমন্ত্রী হিরোতাকা ইশিহারা ভালুকের আক্রমণকে একটি বড় সমস্যা ও গুরুতর সমস্যা বলে অভিহিত করেছেন। তিনি এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘আমরা সরকারি শিকারিদের সুরক্ষা ও প্রশিক্ষণ এবং ভালুকের সংখ্যা ব্যবস্থাপনাসহ বিভিন্ন পদক্ষেপ আরো জোরদার করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’

সূত্র : এএফপি

এবি/টিকে

Share this news on:

সর্বশেষ

img
একজন শিল্পী শুধু দিয়েই যাবে? এটা তার ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত, সম্মান জানানো উচিত: ইন্দ্রদীপ দাশগুপ্ত Jan 28, 2026
img
চব্বিশের জুলাই আন্দোলনে গাজীপুরের মানুষের বিরাট ভূমিকা রয়েছে: তারেক রহমান Jan 28, 2026
img
ভারত বললে ঠিকই বিকল্প ভেন্যু দিতো আইসিসি, বিশ্বকাপ নিয়ে ভারতীয় সাংবাদিক Jan 28, 2026
img
চায়ের আড্ডা থেকে ফাহমিদা নবী ও জয়ের নতুন গান Jan 28, 2026
img
ফুটবলে সিন্ডিকেট থাকলে অবশ্যই ভেঙে ফেলা হবে: আমিনুল হক Jan 28, 2026
img
ভোটের মাধ্যমেই ষড়যন্ত্র রুখে দেওয়া সম্ভব: হাবিব Jan 28, 2026
img
তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হলেই কড়াইল বস্তির সমস্যা দূর হবে: আবদুস সালাম Jan 28, 2026
img
চাঁপাইনবাবগঞ্জে ২২ জন বিএনপি নেতাকর্মীর জামায়াতে যোগদান Jan 28, 2026
img
যে কোনো ঘটনায় তারেক রহমানের নাম জড়ানো ফ্যাসিবাদী সংস্কৃতির প্রতিফলন: মাহদী আমিন Jan 28, 2026
img
‘হৃদস্পন্দন স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিল’, অরিজিতের প্লে-ব্যাক বিদায়ে স্তম্ভিত লগ্নজিতা Jan 28, 2026
img

গোপালগঞ্জে পথসভায়

৫৬ হাজার বর্গমাইল জায়গার উপরে আল্লাহর বিধান প্রতিষ্ঠিত করব: জামায়াত আমির Jan 28, 2026
img
‘নিশ্চয়ই ও কিছু খোঁজার চেষ্টা করছে, কিন্তু পাচ্ছে না!’ অরিজিতের ঘোষণায় জিতের প্রতিক্রিয়া Jan 28, 2026
img
লুট হওয়া অস্ত্র জামায়াত নেতাদের গ্রেপ্তার করলেই পাওয়া যাবে: হারুনুর রশীদ Jan 28, 2026
img
আমি নির্বাচিত হলে চান্দাবাজি চলবে না, চান্দাবাজদের কাজ দেব: নুরুল ইসলাম Jan 27, 2026
img
গণভোটে ‘হ্যাঁ’ সিল দিলে বৈষম্য দূর হবে-এ দাবি বিভ্রান্তিকর ও অসৎ: আসিফ সালেহ Jan 27, 2026
img
ব্রুকের বিধ্বংসী সেঞ্চুরিতে শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে সিরিজ জিতল ইংল্যান্ড Jan 27, 2026
img
মেসির চেয়ে রোনালদোকে এগিয়ে রাখলেন ডি মারিয়া Jan 27, 2026
img
দলীয় সব পদ থেকে আরো ৪ নেতাকে বহিষ্কার করল বিএনপি Jan 27, 2026
img
দুর্নীতি আমার পরিবারের কেউ করলেও তাকে পুলিশে ধরিয়ে দেন: শামা ওবায়েদ Jan 27, 2026
img
জামায়াতের সঙ্গে আসলে আওয়ামী লীগ নেতাদেরও সাতখুন মাফ: রিজভী Jan 27, 2026