বর্ণিল আতশবাজি, সংগীত আর আনন্দ-উচ্ছ্বাসের মধ্য দিয়ে নতুন বছরকে স্বাগত জানিয়েছে পর্তুগালের রাজধানী লিসবন। বছরের শেষ রাতে শহরের ঐতিহাসিক তাগুস নদীর তীর, প্রাসা দো কমের্সিওসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে জড়ো হন হাজারো মানুষ। দেশটির স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে আসা পর্যটকরাও অংশ নেন এই উৎসবে।
মধ্যরাতের ঘড়িতে বারোটা বাজার সঙ্গে সঙ্গেই লিসবনের আকাশজুড়ে শুরু হয় চোখ ধাঁধানো আতশবাজির প্রদর্শনী। রঙিন আলো, আলোর ফুলঝুরি ও বিস্ফোরণের ঝলকানিতে কয়েক মিনিটের মধ্যেই পুরো আকাশ রূপ নেয় এক মনোমুগ্ধকর দৃশ্যে। আতশবাজির আলো তাগুস নদীর পানিতে প্রতিফলিত হয়ে উৎসবের সৌন্দর্যকে আরও বহুগুণ বাড়িয়ে তোলে।
আতশবাজির পাশাপাশি শহরের বিভিন্ন মঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় লাইভ মিউজিক, নৃত্য ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনা। জনপ্রিয় শিল্পীদের পরিবেশনায় দর্শনার্থীরা নেচে-গেয়ে নতুন বছরকে বরণ করে নেন। উৎসবস্থলজুড়ে ছিল হাসি, উল্লাস ও শুভেচ্ছার আবহ।
নতুন বছর উপলক্ষ্যে লিসবন সিটি কর্পোরেশন ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেওয়া হয় ব্যাপক প্রস্তুতি। জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মোতায়েন করা হয় অতিরিক্ত পুলিশ ও নিরাপত্তাকর্মী। পাশাপাশি জরুরি সেবা সংস্থাগুলোও ছিল প্রস্তুত। কর্তৃপক্ষ জানায়, এবছর পরিবেশের কথা বিবেচনা করে তুলনামূলক কম শব্দ ও কম ধোঁয়া উৎপন্নকারী পরিবেশবান্ধব আতশবাজি ব্যবহার করা হয়েছে।
উৎসবে অংশ নেওয়া অনেক দর্শনার্থী জানান, লিসবনের নববর্ষ উদযাপন বিশ্বের অন্যতম সুন্দর ও সুশৃঙ্খল আয়োজনের একটি। পর্যটকদের মতে, ঐতিহাসিক শহর লিসবনের সৌন্দর্যের সঙ্গে আতশবাজির আলোর মেলবন্ধন এক অনন্য অভিজ্ঞতা তৈরি করেছে।
নতুন বছরের প্রথম প্রহরে সবাই একে অপরকে শুভেচ্ছা জানিয়ে শান্তি, সমৃদ্ধি ও সুস্থতার কামনা করেন। আনন্দ, আশা আর ইতিবাচক প্রত্যাশা নিয়ে পর্তুগালের লিসবন শহর নতুন বছরকে বরণ করে নিল উৎসবের আমেজে।
আরআই/টিএ