চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি উপজেলা) আসনে মনোনয়নপত্র যাচাই শেষে তিনজন প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে। তথ্যে ঘাটতির কারণে আরও তিনজন প্রার্থীকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে তিন প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।
শুক্রবার (২ জানুয়ারি) বেলা ১১টায় চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক ও চট্টগ্রাম-২ আসনের রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা মনোনয়নপত্র যাচাই করেন।
বাতিল হওয়া প্রার্থীরা হলেন– স্বতন্ত্র প্রার্থী জিন্নাত আক্তার ও আহমদ কবির এবং বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের প্রার্থী এইচ এম আশরাফ বিন ইয়াকুব।
রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, জিন্নাত আক্তারের মনোনয়নপত্রের সঙ্গে দাখিল করা ১ শতাংশ ভোটারের তালিকা থেকে দৈবচয়নের মাধ্যমে ১০ জনকে যাচাই করা হয়।
যাচাইকৃতদের মধ্যে আটজনই স্বাক্ষরের বিষয়টি অস্বীকার করেন। এ কারণে তার মনোনয়ন বাতিল করা হয়।
স্বতন্ত্র প্রার্থী আহমদ কবিরের ক্ষেত্রে নির্বাচন বিধিমালার ১২ (ক-১) ধারা অনুযায়ী, প্রয়োজনীয় ১ শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষর না থাকায় মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে। এ ছাড়া বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের প্রার্থী এইচ এম আশরাফ বিন ইয়াকুব দলীয় মনোনয়নপত্র ও হলফনামা দাখিল না করায় তার মনোনয়ন বাতিল ঘোষণা করা হয়।
তথ্য ঘাটতির কারণে সময় পাওয়া তিন প্রার্থী হলেন– বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টির দুই প্রার্থী শাহজাদা সৈয়দ সাইফুদ্দিন আহমদ ও মো. ওসমান আলী এবং গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থী রবিউল হাসান।
বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টির প্রার্থী শাহজাদা সৈয়দ সাইফুদ্দিন আহমদকে শুক্রবার বিকেল ৪টা পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তথ্য ঘাটতি পূরণ করতে না পারলে তার মনোনয়ন বাতিল বলে গণ্য হবে বলে জানিয়েছেন রিটার্নিং কর্মকর্তা।
একই দলের অপর প্রার্থী মো. ওসমান আলী মনোনয়ন যাচাইয়ের সময় উপস্থিত ছিলেন না। তথ্য ঘাটতি থাকায় তাকেও বিকেল ৪টার মধ্যে উপস্থিত হয়ে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংযুক্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থী রবিউল হাসানের মনোনয়নপত্রে সমর্থনকারীর স্বাক্ষর না থাকায় স্বাক্ষর দাখিলের জন্য বিকেল ৪টা পর্যন্ত সময় বেঁধে দেওয়া হয়।
এদিকে, বৈধ প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মোহাম্মদ নুরুল আমিন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) সরওয়ার আলমগীর এবং জনতার দলের মোহাম্মদ গোলাম নওশের আলীকে।
চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা জানান, আগামী ৪ জানুয়ারির পরবর্তী চার দিনের মধ্যে বাতিল হওয়া প্রার্থীরা আপিল করতে পারবেন।
উল্লেখ্য, চট্টগ্রাম-২ আসনে মোট ১৪ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করলেও ৯ জন মনোনয়নপত্র জমা দেন।
টিজে/এসএন