চলে যাওয়ার পাঁচ বছর পরও ইরফান খান যেন আজও সমানভাবে উপস্থিত সিনেমাপ্রেমীদের হৃদয়ে। ৭ জানুয়ারি, অভিনেতার ৬০তম জন্মদিনে আবারও স্মৃতিতে ডুবে যান তাঁর অনুরাগীরা। অসাধারণ অভিনয়, সংযত ব্যক্তিত্ব আর জীবনদর্শনের জন্য যিনি আলাদা করে জায়গা করে নিয়েছিলেন, তাঁর শূন্যতা আজও তীব্রভাবে অনুভূত হয় চলচ্চিত্র জগতে।
২০২০ সালে দীর্ঘ অসুস্থতার পর মাত্র ৫৩ বছর বয়সে প্রয়াত হন ইরফান। তাঁর চলে যাওয়ার পর স্ত্রী সুতপা সিকদার এবং পুত্র বাবিল খান বারবার স্মৃতিচারণায় ফিরিয়ে আনেন অভিনেতাকে। বাবিল ইতিমধ্যেই অভিনয়ে নিজের জায়গা করে নেওয়ার চেষ্টা করছেন, আর সুতপা নানা সাক্ষাৎকারে তুলে ধরেন ইরফানের জীবন, স্বপ্ন আর অপূর্ণ ইচ্ছার কথা।
ইরফান তাঁর পরিবারের জন্য শুধু ভালোবাসা আর স্মৃতিই রেখে যাননি, আর্থিক দিক থেকেও রেখে গিয়েছেন সুরক্ষার পূর্ণ ব্যবস্থা। জানা যায়, প্রায় ৩২১ কোটি টাকার সম্পত্তি স্ত্রী ও পুত্রের জন্য রেখে গিয়েছিলেন তিনি। মুম্বইয়ে তাঁর একটি বিলাসবহুল বাড়ি রয়েছে, পাশাপাশি মধ দ্বীপেও ছিল আরেকটি দামী আবাসন। ব্যক্তিগত গ্যারাজে ছিল একাধিক নামী সংস্থার বিলাসবহুল গাড়ি।
এক সাক্ষাৎকারে সুতপা জানিয়েছিলেন, অভিনয়ের বাইরেও ইরফানের স্বপ্ন ছিল ভিন্ন পথে হাঁটার। মহারাষ্ট্রে খামারবাড়িতে আমের চাষ করে আধুনিক কৃষক হওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন তিনি। দেশের বিভিন্ন জায়গায় ফলের বাগান গড়ার কথাও ভেবেছিলেন। এমনকি জয়পুরে অভিনয় প্রশিক্ষণের জন্য একটি স্কুল খোলার স্বপ্নও ছিল তাঁর। তবে সময়ের অভাবে সেই স্বপ্নগুলো আর বাস্তবায়িত হয়নি।
জন্মদিনে ইরফানের স্মৃতি যেন আবার মনে করিয়ে দেয়, তিনি শুধু একজন অভিনেতা নন, ছিলেন স্বপ্নবাজ এক মানুষ, যাঁর গল্প আজও অনুপ্রেরণা হয়ে রয়ে গেছে।
এমকে/টিএ