ঢাকাকেন্দ্রিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রবণতা ভাঙতে না পারলে চট্টগ্রামকে বাণিজ্যিক রাজধানী হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা যাবে না বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
রোববার (১১ জানুয়ারি) চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত ‘চট্টগ্রাম কবে বাণিজ্যিক রাজধানী হবে’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন। গোলটেবিল বৈঠকের আয়োজন করে দৈনিক প্রথম আলো। এতে সহযোগিতা করে জিপিএইচ ইস্পাত লিমিটেড, আবুল খায়ের গ্রুপ ও টিকে গ্রুপ।
তিনি বলেন, রাজধানী হওয়ায় ধীরে ধীরে দেশের প্রশাসনিক ও অর্থনৈতিক কার্যক্রম ঢাকায় চলে গেছে, অনেক ক্ষেত্রে তা বোঝার আগেই বাস্তবতা হয়ে দাঁড়িয়েছে। উন্নত দেশগুলোতে অধিকাংশ সেবা অনলাইনে পাওয়া গেলেও দেশে এখনো ব্যাংক ঋণসহ নানান কাজে সরাসরি ঢাকায় গিয়ে তদবির করতে হয়।
গোলটেবিল বৈঠকে সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ঢাকায় যেতে বাধ্য হওয়ার কারণগুলো আগে শনাক্ত করতে হবে। কোন কোন সেবা ও সিদ্ধান্তের জন্য রাজধানীতে যেতে হচ্ছে, তার একটি তালিকা তৈরি করা গেলে সমস্যার কার্যকর সমাধান সম্ভব।
ঢাকাকেন্দ্রিকতার পেছনের বাস্তবতা ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, রাজনৈতিক ক্ষমতা যেখানে কেন্দ্রীভূত থাকে, অর্থনৈতিক ক্ষমতাও ধীরে ধীরে সেখানে চলে যায়। ফলে চট্টগ্রামের অনেক বড় ব্যবসায়ীও ব্যবসা সম্প্রসারণের স্বার্থে ঢাকায় থাকতে বাধ্য হন। কারণ, নীতিনির্ধারণী সিদ্ধান্তগুলো রাজধানীতেই হয়।
চট্টগ্রামকে কার্যকর বাণিজ্যিক শহরে রূপ দিতে হলে কিছু ক্ষেত্রে অতিনিয়ন্ত্রণ শিথিল বা ডিরেগুলেশন জরুরি বলে মন্তব্য করেন তিনি। ক্ষমতা বিকেন্দ্রীকরণ করা গেলে স্থানীয় সরকার ও প্রতিষ্ঠান শক্তিশালী হবে, আমলাতন্ত্রের প্রভাব কমবে এবং সাধারণ মানুষের ক্ষমতা বাড়বে বলেও মনে করেন বিএনপির এ নেতা।
চট্টগ্রামকে একটি আঞ্চলিক লজিস্টিক হাব হিসেবে গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে আমীর খসরু বলেন, দেশের একমাত্র উপকূলীয় সুবিধা চট্টগ্রামে রয়েছে। অন্য এলাকায় বন্দর নির্মাণের চেষ্টা করে বিপুল অর্থ ব্যয় হলেও কাঙ্ক্ষিত সুফল মেলেনি। উপকূলভিত্তিক যোগাযোগব্যবস্থা উন্নত করা গেলে চট্টগ্রাম ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চল ও মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের সঙ্গে সংযোগের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হতে পারে।
তিনি বলেন, চট্টগ্রামে নগর সরকারের অভাব বড় সমস্যা। বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে সমন্বয় না থাকায় উন্নয়ন কার্যক্রম ব্যাহত হয়। চীনের সাংহাইয়ের উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, সেখানে মেয়রের অধীনে নগর সরকার সব কার্যক্রম সমন্বয় করে। চট্টগ্রামেও এমন কাঠামো প্রয়োজন।
সরবরাহ ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করতে রেল, নদী ও সড়কপথের সমন্বিত যোগাযোগব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর জোর দেন আমীর খসরু। নগরের যানজট কমাতে রেলস্টেশন ও বাস টার্মিনাল শহরের বাইরে নেওয়ার পাশাপাশি সরকারি-বেসরকারি সেবাগুলো অনলাইনে আনতে হবে বলেও মত দেন তিনি।
চট্টগ্রামের প্রাকৃতিক সম্পদ- পাহাড়, নদী ও সমুদ্র সঠিকভাবে কাজে লাগানোর আহ্বান জানিয়ে আমীর খসরু বলেন, কানেকটিভিটি বাড়ানো গেলে চট্টগ্রাম শুধু দেশের নয়, পুরো অঞ্চলের অর্থনৈতিক কেন্দ্র হয়ে উঠতে পারে।
তিনি আরও বলেন, লক্ষ্য হলো দেশের প্রতিটি অঞ্চলের সম্ভাবনা কাজে লাগিয়ে মানুষের জীবনমান উন্নত করা। স্থানীয় জনগণ ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলোচনা করে সমন্বিত উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে। উন্নয়নের সুফল যেন সবাই পায়, সেটিই অগ্রাধিকার। জাতীয় ঐক্য ছাড়া কোনো সরকার এককভাবে এ লক্ষ্য অর্জন করতে পারে না।
এসকে/টিএ