স্বপ্ন দেখেন একদিন আফগানিস্তানের হয়ে ছেলের সঙ্গে একই দলে খেলবেন মোহাম্মদ নবী। সেই স্বপ্ন পূরণের আগে আজ সিলেটে ঠিকই ছেলে হাসান ইসাখিলের সঙ্গে একই দলে খেললেন নবী। আগে অবশ্য আফগানিস্তানের ঘরোয়া ক্রিকেট একে অপরের প্রতিপক্ষ হয়ে বেশ কটি ম্যাচ খেলেছেন দুজনে।
শুধু ইসাখিলের সঙ্গে ব্যাটিংই করলেন না, ছেলের বিধ্বংসী এক ব্যাটিংও দেখলেন নবী।
বিপিএলের অভিষেক ম্যাচে নোয়াখালী এক্সপ্রেসের হয়ে ৯২ রানের দারুণ এক ইনিংস খেলেছেন ইসাখিল। সুযোগ ছিল সেঞ্চুরি করার। তিন অঙ্ক স্পর্শ করার জন্য বলও হাতে ছিল তার। তবে মোহাম্মদ সাইফউদ্দিনের করা ১৯তম ওভারে বড় শট হাঁকাতে গিয়ে থামলেন তিনি। ১৫৩.৩৩ স্ট্রাইক রেটের ইনিংসটি সাজান ৫ ছক্কা ও ৭ চারে।
ওপেনিংয়ে নেমে সৌম্য সরকারের সঙ্গে ১০১ রানে দুর্দান্ত জুটি গড়েন ইসাখিল। ১৯২.০০ স্ট্রাইক রেটে ব্যক্তিগত ৪৮ রানের ইনিংস খেলেন সৌম্য। ৭ চার ও ১ ছক্কা হাঁকানো বাঁহাতি ব্যাটার আউট হতেই দ্রুত আরো ২ উইকেট হারায় নোয়াখালী।
এর পরেই সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। বিপিএলের মঞ্চে বাবা-ছেলের জুটি দেখল ক্রিকেট বিশ্ব। চার-ছক্কা হাঁকিয়ে বাবা নবীকে নিখাঁদ বিনোদনও দিলেন ইসাখিল। ননস্ট্রাইক প্রান্তে বাবাকে রেখে চার-ছক্কার ফুলঝুরি সাজালেন ১৯ বছর বয়সী ব্যাটার। পঞ্চম উইকেটে দুজনে মিলে ৩০ বলে ৫৩ রানের জুটিও গড়লেন।
তাতে বাবা নবীর অবদান ১৩ বলে ১৭। বিপরীতে আফগানিস্তান কিংবদন্তির বড় ছেলে করলেন ১৭ বলে ৩৪ রান।
এর আগে বাবার কাছ থেকেই অভিষেক ক্যাপ নেন ইসাখিল। ফিফটির সময় ড্রেসিংরুম থেকে হাততালি দিয়ে ছেলে অভিনন্দনও জানান নবী।
তবে বাবা আউট হতেই ইসাখিলও ফিরলেন দ্রুত। তাতে স্বপ্নের তিন অঙ্ক স্পর্শ করা হলো না তার। স্বীকৃত টি-টোয়েন্টির আগের সেরা ইনিংসকে অবশ্য ঠিকই পেছনে ফেললেন তিনি। আগের সর্বোচ্চ ছিল ৭৬ রান। তার ঝোড়ো ইনিংসে ভর করেই ঢাকা ক্যাপিটালসকে ১৮৫ রানের লক্ষ্য দিয়েছে নোয়াখালী। প্রতিপক্ষের হয়ে ২ টি করে উইকেট নিয়েছেন সাইফউদ্দিন, তাইজুল ইসলাম ও আব্দুল্লাহ আল মামুন।
এসকে/টিএ